অভাগা

তারেকুর রহমান

গোমড়া মুখে বসে আছে মতি ভাই। ঈদের পর বিয়ের আলটিমেটাম দেয়ার পরও বিয়ে করতে না পারায় মনের দুঃখে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে মতি ভাই। চোখের নিচে কালি জমে গেছে। মাকে এত করে বোঝানোর পরও এবারের ঈদের পর বিয়ে দেয়নি মতি ভাইয়ের। এ রহস্যের কোনো কূলকিনারা খুঁজে পান না মতি ভাই। টেনশনে রাতে ঘুম হয় না মতি ভাইয়ের। মতির মা এসে একটু আগে ধমক দিয়ে গেছে,
-এই মতি তুই কি নেশা করোস নাকি?
- না মা, এসব কী বলো?
-না, তোর চেহারাসুরত দিন দিন বজ্জাত টাইপের হয়ে যাচ্ছে। আর চোখের নিচে কালি জমে কী অবস্থা হয়েছে দেখছোস?
মতি ভাই উত্তর দেয় না। এই চেহারা দেখে কী লাভ? মা এত দিনেও বুঝল না তাকে বিয়ে করানো দরকার। চেহারা থাকলেও কী, না থাকলেও কী?
-শোন মতি, আজ রাত বারোটার পর রুমের কোনো লাইট জ্বললে তোর খাওয়া বন্ধ। বারোটার পর জেগে থাকতে পারবি না। কোনো ফেসবুক চালাতেও পারবি না। বুঝছোস মতি?
-হ মা, বুঝেছি।
মতি ভাই এক দীর্ঘশ্বাস ফেলল। মনের কষ্ট বোঝার মতো কেউ যে নেই।
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মতি ভাই। নিজের চেহারা দেখে নিজেই লাফ দিয়ে উঠল। চেহারার এ কী হাল হলো। চোখ একদম গর্তে ঢুকে গেল। এ জীবন রেখে আর কী লাভ? মনে মনে ভাবল মতি ভাই। ব্যাচেলর জীবনের দুঃসহ যন্ত্রণা মতি ভাইকে কুরে কুরে খেতে লাগল। মতি ভাই অনেক ভেবে সিদ্ধান্ত নিলো আত্মহত্যা করবে। কিন্তু তার যে ভয় হয়। না ভয় পেলে হবে না মতি। তোকে পারতেই হবে। মতি ভাই নিজের সাথে কথা বলে নিজেকেই সাহস দিচ্ছে।
বিকেল বেলা ছাদে উঠল মতি ভাই। আজ আত্মহত্যা করেই ছাড়বে। ছাদ থেকে নিচের দিকে তাকাতেই মতি ভাইয়ের কলিজায় মোচড় দিয়ে উঠে। মতি ভাই আস্তে আস্তে প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সময় মতি ভাইয়ের মা এসে হাজির
-মতি তুই এখানে কী করোস?
-কিছু না মা। এমনিতে আসছি।
-এমনিতে না? তুই পাশের বাসার ময়নার লগে টাংকি মারতি আসছোস? দাঁড়া দেখাচ্ছি মজা।
এ কথা বলে মতির কান ধরে বাসায় নিয়ে যাওয়া হলো। মতি তাজ্জব হয়ে গেল। সে ময়না নামে কাউকেই চেনে না। অথচ মা কোথায় থেকে এটা আবিষ্কার করে নিলো। না প্রথমবার আত্মহত্যা করা হলো না।
ঘরের মধ্যে পায়চারী করছে মতি ভাই। কী করা যায় ভাবছে। হাঁটতে হাঁটতে চোখ পড়ল ইঁদুর মারার বিষের দিকে। এটা দিয়েই আজ কারবার করতে হবে। বিষ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মতি ভাই। এবার ও মা এসে হাজির।
-মতি তুই ইঁদুর মারার বিষ নিলি কেন?
-এমনিতে মা।
-এমনিতে মানে? ফাজলামি পাইছোস? এই বিষ না দিলে ইঁদুর তোর মাথার বাকি চুলগুলো ও খেয়ে ফেলবে।
মতি ভাই কী বলবে তা ভেবে পাচ্ছে না।
-শোন মতি, এই লিস্ট নিয়া বাজারে যা। অনেক বাজার করতে হবে আজ।
মতি ভাই মায়ের ওপর বেশ বিরক্ত। কোথায় সে আত্মহত্যা করবে আর এখন মা এসে বাজারের লিস্ট ধরিয়ে দিলো। মা এত বেরসিক কেন? লিস্টটা নিয়ে বাজারের দিকে চলল মতি ভাই।
মায়ের শাড়ি ফ্যানের সাথে ভালো করে বেঁধে নিলো মতি ভাই। এখানেই গলায় ফাঁস দেবে সে। মতি ভাই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে শুধু বিয়ে করতে না পারায় মরতে প্রস্তুত। যেই গলায় শাড়ি পেঁচিয়ে নিলো। অমনি শাড়ি ছিড়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ল মতি ভাই। আওয়াজ শুনে পাশের রুম থেকে মা এসে হাজির।
-মতি তুই আমার শাড়ি ছিঁড়লি কেন?
-মা আমি খেয়াল করিনি।
-খেয়াল করিনি মানে? তুই কি বাচ্চা পোলা?
এ কথা বলেই ঝাড়ু নিয়ে পুরো বাড়ি দৌড়ানো হলো মতি ভাইকে। মতি ভাই হাঁপাতে হাঁপাতে এসে একটা বট গাছের নিচে বসল। মনে মনে ভাবল কী দুর্ভাগা সে। আত্মহত্যা করতে যাবে তাও করতে পারছে না।
না, একটা বিয়ের জন্য জীবন শেষ করে দেয়া যাবে না। তবে বিয়ে সে করেই ছাড়বে। মতি ভাই সিদ্ধান্ত নিলো, এবার এসব পাগলামি বন্ধ। এখন প্রথম টার্গেট মেয়ে দেখা। মা বিয়ে না দিলেও সে নিজের বিয়ে নিজেই করবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.