বউ ভয়ঙ্কর

শামসুল হক শামস

ভাদ্রের সন্ধ্যা। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। ভাদ্রের বৃষ্টি ভদ্র হয়। নম্রভাবে সোজা হয়ে ঝরতে থাকে। প্রকৃতির সাথে মানুষের মনের একটা যোগসূত্র চিরকালের। মানুষের অন্তর গরম আর নরমের প্রভাবক এই প্রকৃতি। এ কথা বিন্দু পরিমাণ ভুল নয়। আতর আলী ভাবিত হয়Ñ বৃষ্টিস্নাত সন্ধ্যায় বউয়ের মনটা নিশ্চয় নরম কোমল হবেই হবে। যদিও নাকের জল আর চোখের জল মিশে চেহারা ভেসে যাচ্ছে আতর আলীর। হাতির শুঁড়ের মতো ভাঁজ হয়ে থাকা কপালে বাম হাতের পাঁচটি আঙুল রেখে স্ত্রীকে বলল, ‘ওগো শুনছ, আমি যে ইঁদুর কপালে মানুষ সেটা তোমাকে বিয়ে করার পরপরই কিছুটা আঁচ করতে পেরেছিলাম। আর এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। উফ! যদি তাই না হবে তবে ঈদ শপিংয়ে কোনো স্ত্রী স্বামীকে হ্যান্ড গ্লাভস কিনে দেয়? তার মানে তোমাকে হ্যান্ড গ্লাভস কিনে দিয়ে আমি ভুল করেছি? কেন ঈদ শপিংয়ে ব্যাগের ভারে তোমার কচি আঙুলগুলো ফোস্কা পরা থেকে বেঁচে যায়নি?
জি হ্যাঁ, তা তো বেঁচে গেছেই। কিন্তু অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগ টানতে টানতে যে হাতের মাপ ইঞ্চি দেড়েক বেশি লম্বা হয়ে গেছে। সেটা কি খেয়াল করেছ? আর এই লম্বা হাত নিয়ে ঈদের পাঞ্জাবিটা পরতে গিয়ে দেখি পাঞ্জাবির হাতা আমার কনুই পর্যন্ত উঠে গেছে। অগত্যা আমাকে হাতা ভাঁজ করে ঈদগাহে যেতে হয়েছে।
তো এমন কী হয়েছে যে, তোমার কপাল ইঁদুরের মতো হয়ে গেছে? দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা। এ কথা বলে আতর আলীর স্ত্রী চট করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আতর আলীর আপেল মার্কা চেহারা মুহূর্তে ফ্যাকাসে হয়ে গেল।
অল্পণের মধ্যে আতর আলীর স্ত্রী ঘরে ফিরে এলো। তার ডান হাতে একটা স্কেল ও বাম হাতে একটি ইঁদুর। ইঁদুরটা দেখতে গেছে, মেছো ইঁদুর কিংবা বাতাই ইঁদুর কি না পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে না। তবে লেজটা বেশ লম্বা আর দড়ির মতো নড়ছে। আতর আলী বড়ই বিস্মিত হলো। এত সাহস বউয়ের হলো কী করে?
টিকটিকির ভয়ে যে মানুষটা কম্বল মুড়ি দেয়, সে কি না ইঁদুর নিয়ে নাড়াচাড়া করে? ভয়ঙ্কর বউ আমার।
আতর আলী বেশ কৌতূহল নিয়ে দেখছে। তার স্ত্রী ইঁদুরটাকে হাতের মুঠোয় পুরে স্কেল দিয়ে সেটার কপালের দৈর্ঘ্য প্রস্থ পরিমাপ করছে। এ কী আজব কাণ্ড! এমন দৃশ্য কি কেউ সাত জনমে দেখেছে? মাপজোক শেষে এবার আতর আলীর ঠিক সামনে এসে দাঁড়াল তার স্ত্রী। এ দিকে ভয় আর লজ্জায় পাথরের মতো জমাট বেঁধে যাচ্ছে আতর আলীর। অনেক কিছু বলতে গিয়েও যেন কিছু বলতে পারছে না। মজার ছলে না হয় মুখ থেকে একটা কথা বলেই ফেলেছিল। আর সেটার জন্য এমন আক্কেল সেলামি। এ কেমন বিচার? যা হোক এখন সহ্য করার পালা। এ পর্যায়ে বউয়ের অবাধ্য হলে আরো ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে হতে পারে। মনে মনে বলে ‘চুপ করে সয়ে যা আতর আলী, আগুনের ফুলকিতে ফুঁ দিতে যাসনে।’
বউ এবার স্কেলটা আতর আলীর কপাল বরাবর ধরল। বেশ দৃঢ়তার সাথে দৈর্ঘ্য প্রস্থ পরিমাপ করে বলল ‘কই গো, তোমার আর ইঁদুরের কপালের মধ্যে তো হাতি-পিঁপড়ের ফারাক। আর কোনো দিন যদি ইঁদুর কপালে বলেছ তো...! পাশের বাসার ছোট্ট মেয়ে ইভার ডাকে থেমে গেল আতর আলীর স্ত্রী। ইভা এসে বলল, ‘আন্টি, আন্টি আমার খেলনা ইঁদুরটা কই?’

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.