বাংলাদেশ-ভারত ৫ রুটে বাস অপারেটর নিয়োগে স্থিতাবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাড়া নির্ধারণ না করে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচটি রুটে বাস অপারেটর নিয়োগ দেয়ার টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বিচারপতি মো: রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আবেদনের পে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। বিআরটিসির পে শুনানি করেন আইনজীবী মো: মনিরুজ্জামান।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের ১৫ ধারা অনুসরণ না করেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তাই ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এখন এটা নিয়ে আর কোনো কার্যক্রম চালানো যাবে না।
হাইকোর্টে আবেদনটি করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক বাস রুটে সরকার টু সরকার সম্পাদিত প্রটোকলের শর্ত অনুসারে ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা রুটে নাশতাসহ ১১ ডলার (প্রায় ৯২০ টাকা) ভাড়া আদায়ের কথা থাকলেও সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি এবং সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক হাজার ৭০০ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা হারে ভাড়া আদায় করছে। এতে এ রুটে প্রতিদিন যাতায়াতকারী প্রায় আট হাজার যাত্রীর স্বার্থ চরমভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বাস রুটটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় পরবর্তী সময় আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা-আগরতলা, ঢাকা-খুলনা-কলকাতা- ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট-শিলং-গোয়াহাটি-ঢাকা রুট চালু হয়। এসব রুটে এসি বা নন এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত না থাকায় অপারেটর প্রতিষ্ঠানগুলো ইচ্ছা মতো ভাড়া আদায় করছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, গত ৪ জুলাই পত্রিকায় প্রকাশিত টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে পাঁচটি রুটে অসম প্রতিযোগিতামূলকভাবে অপারেটর নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণ না করে এ বিজ্ঞপ্তি চলমান ভাড়া নৈরাজ্যকে আরো বেশি উসকে দেবে। আগে পাঁচটি রুটে উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত ১৯৯৯ সালের প্রটোকলের শর্তানুসারে ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারির পর টেন্ডার কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। এ জন্য গত ১৩ জুলাই সরকারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু সরকার তার নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে রিট করি।
ওই রিটের পর গত ২৩ জুলাই ভাড়া নির্ধারণ না করে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ-ভারত পাঁচটি রুটে বাস অপারেটর নিয়োগ দেয়া টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি কেন বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাস রুটে প্রটোকলের শর্ত লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারের কাছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির করা আবেদনটি এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেয়া হয়।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.