বিভিন্ন সংগঠনের আহ্বান

রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। একই সাথে তারা কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করারও আহ্বান জানিয়েছেন।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ : দলটির মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেছেন, উখিয়া মরিচা হয়ে শাহপরী দ্বীপ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দুরবস্থা দেখে কেউই চোখের পানি সংবরণ করতে পারবে না। ভিটেমাটিহারা অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশুরা খাদ্য সঙ্কটে ভুগছে। আর এখনো যারা পালিয়ে আসতে পারেনি তাদের ঘরবাড়ি হায়নাদের দেয়া আগুনে জ্বলছে। এ অবস্থায় সার্ক জাতিসঙ্ঘ ওআইসিকে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্যে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল টেকনাফ সীমান্ত সফরকারী জমিয়ত নেতৃবৃন্দের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের মাঝে নগদ অর্থ ও শুকনো খাবার বিতরণের আগে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে অবস্থান নেয়া রোহিঙ্গাদের দালাল চক্র থেকে রক্ষায় এবং মা-বোনদের ইজ্জত-আব্রুর হেফাজতে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। যেসব সংস্থা বা স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনা করছেন তাদেরকে অবাধে ত্রাণকার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ দিতে হবে। সফরসঙ্গী হিসেবে আল্লামা কাসেমীর সাথে ছিলেন মাওলানা জহিরুল হক ভূঁইয়া, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, মাওলানা ফজলুল করীম কাসেমী, মাওলানা মুনীর হোসাইন কাসেমী, মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও মাওলানা জাকির হোসেন।
খেলাফত মজলিস : দলটির আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চলছে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। এ বর্বরোচিত গণহত্যা ও জাতিগত নির্মূল অভিযানের বিরুদ্ধে জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বসংস্থাগুলোকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় জাতিসঙ্ঘকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হবে। এ জন্য আরাকানে জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করতে হবে। গতকাল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নায়েবে আমির মাওলানা সৈয়দ মজিবর রহমান, মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান, যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, শেখ গোলাম আসগর, সাংগঠনিক সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ শফিউল আলম, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী প্রমুখ। বৈঠকে আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে খেলাফত মজলিসের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফা ত্রাণ বিতরণের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এর আগে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে খেলাফত মজলিসের ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন : দলটির আমিরে শরিয়ত মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ ও মহাসচিব মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী এক যুক্ত বিবৃতিতে সব রাজনৈতিক কলহ ভুলে দলমত নির্বিশেষে অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও উগ্র বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নির্যাতনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে আসা বহু মানুষ এখন বাংলাদেশ সীমান্তে তীব্র খাদ্যাভাবে ভুগছেন। এক কাপড়ে খোলা আকাশের নিচে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। তাই দলমত নির্বিশেষে অসহায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের সহযোগিতায় সবাইকে এগিয়ে আসা ঈমান ও মানবতার দাবি। ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদ : ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের উদ্যোগে গতকাল জাতীয় প্রেস কাবে ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর পৈশাচিক নির্যাতন বন্ধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর গণহত্যা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিভিন্ন ওলামা মাশায়েখ সংগঠনের নেতারা। একই সাথে রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তপে কামনা করেন। মাওলানা আবু তাহের জিহাদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমিরে শরিয়ত আল্লামা শাহ আতাউল্লাহ। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, ড. ঈসা শাহেদী, ড. খলীলুর রহমান মাদানী, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা আহমাদ আলী কাসেমী, মুফতি আবদুল কাইয়ুম, মুফতি আজীজুল হক আজীজ, মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, মাওলানা লুৎফর রহমান প্রমুখ। সভা থেকে আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামি দলগুলোর উদ্যোগে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
পুরান ঢাকার ইমাম-খতিবদের সভা : লালবাগসহ পুরান ঢাকার আলেম, ইমাম-খতিব ও বিশিষ্টজনদের একটি সভা গতকাল বাদ জোহর লালবাগ মাদরাসা হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আহ্বানকে উপেক্ষা করে রোহিঙ্গাদের সাথে মিয়ানমার যে আচরণ করেছে, তা কেবল সব আইনের লঙ্ঘন-ই নয়; বরং যাবতীয় নীতি-নৈতিকতা ও মানবতার প্রতি চরম অবমাননা। তাদের বিরুদ্ধে দলমত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিশ্বের সব মানবতাবাদীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
লালবাগ মাদরাসার মুহাদ্দিস ও মক্কী মসজিদের খতিব মাওলানা মুহিব্বুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আলোচনা করেন মুফতি তৈয়ব হোসাইন, মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াছেল, মাওলানা আবুল কাশেম, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন, কারি নাছিরউদ্দিন, মুফতি তাসলীম আহমদ, মাওলানা জলিলুর রহমান, কারি খালেদ মোশারফ, মাওলানা আনওয়ারুল হক, মাওলানা যোবায়ের বখশী, মুফতি শামসুল হক প্রমুখ। সভায় মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের নির্বিচারে হত্যা, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে পুরান ঢাকার প্রতিটি মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল এবং বেলা ২টায় আজিমপুর এতিমখানার সামনে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.