ভারত থেকে আড়াই মাস চাল রফতানি বন্ধ : ব্যবসায়ীরা হতাশ

জিয়াউল হক মিজান

ভারত সরকার কর্তৃক চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েছেন দেশী আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি কূটনৈতিকভাবে এ সমস্যার সমাধান করা না হলে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে দেশে চালের দাম আরো বেড়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে অবিলম্বে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করার দাবি জানান তারা।
ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশটিতে চালের মূল্য যাতে বৃদ্ধি না পায় এবং খাদ্য সঙ্কট সৃষ্টি না হয়, বিষয়টি বিবেচনা করে চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত আড়াই মাস চাল রফতানি বন্ধ থাকবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। প্রজ্ঞাপনের কপি সব স্থলবন্দরে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের এ সংক্রান্ত চিঠি পেট্রাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছেছে বলে জানান পেট্রপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী।
এ দিকে ভারত সরকার কর্তৃক চাল রফতানি বন্ধের চিঠি এখনো বেনাপোল বন্দরে এসে না পৌঁছালেও বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আমদানিকারকরা বিষয়টি ইতোমধ্যে জেনেছেন বলে জানা গেছে। যশোরের চাল আমদানিকারক আবদুল আজিজ গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে আমদানি করা দেড় থেকে দুই হাজার টন চাল খালাস হচ্ছে। এখনো খালাসের অপেক্ষায় আছে কয়েক শ’ চালবোঝাই ট্রাক। এই অবস্থায় ভারত সরকার কর্তৃক চাল রফতানি বন্ধের সিদ্ধান্তের খবরে আমদানিকারকদের মধ্যে চরম হতাশা নেমে এসেছে বলে জানান তিনি।
বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, জুন মাসে আমদানি শুল্ক প্রথম দফায় কমানোর পূর্ব পর্যন্ত ভারত থেকে চাল আমদানি অনেকটাই বন্ধ ছিল। আমদানি শুল্ক ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা এবং জামানত ছাড়াই এলসি খোলার সুযোগ দেয়ার পর আমদানিকারকেরা হুমড়ি খেয়ে পড়েন। সরকারের এমন সিদ্ধান্ত কত দিন স্থায়ী হয় সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে না পারায় ব্যবসায়ীরা কেবল ভারত থেকেই চাল আমদানির উদ্যোগ নেন। তাদের অভিমত, ভারত থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে চাল আমদানি করা যায়। চালের অপরাপর রফতানিকারক দেশ থাইল্যান্ড-ভিয়েতনাম থেকে চাল আমদানির ক্ষেত্রে সময় অনেক বেশি লাগে বলে জানান তারা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, গত আড়াই মাসে বেসরকারি উদ্যোগে ভারত থেকে সাড়ে তিন লাখ টনের মতো চাল আমদানি হয়েছে। সরকারিভাবে থাইল্যান্ড থেকে আনা হয়েছে আরো প্রায় সাড়ে তিন লাখ টন। গত বছর বেকল দেড় লাখ টন আমদানি হলেও এর আগের বছরগুলোয় গড়ে ১০ থেকে ১৭ লাখ টন চাল আমদানি হতো। কৃষকের উপযুক্ত দাম পাওয়ার কথা চিন্তা করে সরকার চাল আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
এ প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম নয়া দিগন্তকে বলেন, আমাদের প্রকৃত সমস্যা পরিসংখ্যানে। দেশে চালের চাহিদা এবং জোগান প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যে তথ্য আছে সেটি পুরোপুরি সঠিক নয়। আবার দুর্বলতা প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে অনেক কর্তৃপক্ষ সঠিক হিসাব প্রকাশও করে না। ফলে বেসরকারি উদ্যোক্তারাও কোনো পূর্বাভাস পান না। সরকারের মজুদ কম হওয়ার সুযোগে বেসরকারি উদ্যোক্তারা চালের বাজার নিজেদের দখলে নিয়ে গেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাদামতলী পাইকারি চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন নয়া দিগন্তকে বলেন, চালের বাজারে এই চরম অবস্থার প্রধান কারণ সরকারি গুদামে চাল না থাকা। ভারত কর্তৃক চাল রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় নতুন করে সঙ্কট দেখা দেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের প্রতি ভারতের এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আলোচনার মাধ্যমে ভারত থেকে চাল আমদানি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বেশি দামে হলেও অন্য দেশ থেকে আমদানি করে চালের মজুদ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.