যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য

ঈদুল আজহায় ২৭২ দুর্ঘটনায় ৩২২ জনের মৃত্যু : আহত ৭৫৯

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহায় দেশের সড়ক-মহাসড়কে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত এবং ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। তবে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিতভাবে ২৭২টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৭৫৯ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এই প্রতিবেদন তৈরি করে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ঈদযাত্রা শুরুর দিন ২৮ আগস্ট থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিগত ১৩ দিনে ২১৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৫৪ জন নিহত এবং ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌপথে ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৫ জন নিহত ও ৬৩ জন আহত হয়েছেন। উল্লিখিত সময়ে রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে ৪৩ জন নিহত হন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্যরা ২২টি জাতীয় দৈনিক, ৬টি আঞ্চলিক দৈনিক ও ১০টি অনলাইন দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ মনিটরিং করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করে।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাঙা ও খানাখন্দপূর্ণ রাস্তাঘাট, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিং যানজটে আটকে থাকা বাণিজ্যিক টিপধারী পরিবহনগুলোকে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় দ্রুত ফেরত আসার জন্য মালিক পক্ষের বারবার তাগাদার পাশাপাশি ধীরগতির পশুবাহী ট্রাক, নছিমন-করিমন, ভটভটি, ইজিবাইক, অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশার সাথে বাণিজ্যিক টিপধারী দ্রুতগতির বাস ও মাইক্রোবাস, কার একইসাথে চলাচলকে এ সময়ে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হয়।
প্রতিবেদনের সুপারিশে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ সেল গঠনের পরামর্শ দেয়া হয়। বলা হয়, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও যথাযথ ব্যবহারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। মহাসড়কে দ্রুতগতি ও ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনের ব্যবস্থার পাশাপাশি মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি রোড সেফটি অডিট করা ও সড়ক মহাসড়কে রোড ডিভাইডার স্থাপন করতে হবে।
এ ব্যাপারে সংগঠনের মহাসচিব মো: মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিশৃঙ্খলা, অব্যবস্থাপনা ও আইনের শিথিলতার কারণে বাংলাদেশের সড়ক-মহাসড়ক দিন দিন অনিরাপদ হয়ে উঠছে। এতে সড়কে মৃত্যুর মিছিল যেমন দীর্ঘায়িত হচ্ছে তেমনি যানজট ও জনজটের ভোগান্তিও বাড়াচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন : অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বুয়েট সাবেক পরিচালক ড. মাহবুব আলম তালুকদার, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা জিয়াউল হক চৌধুরী, মো: আজিজুল হক চৌধুরী, মিলাদ উদ্দিন মুন্না প্রমুখ।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.