নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন রোহিঙ্গারা
নাফ নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন রোহিঙ্গারা

'ভারতে কোনো রোহিঙ্গাকে ঠাঁই দেয়া হবে না'

নয়া দিগন্ত অনলাইন

‘ভারতে রোহিঙ্গাদের কোনোমতেই ঠাঁই দেয়া হবে না, তারা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী’ বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বুধবার তিনি ওই মন্তব্য করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুতে ভারতকে ‘ভিলেন’ বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করে এর নিন্দা করেন রিজিজু। দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এটিকে তিনি ‘সংগঠিত প্রয়াস’ বলে অভিহিত করেন।

রোহিঙ্গা বিতাড়ন ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন ভারতের পদক্ষেপের নিন্দা করার দুই দিন পর রিজিজু ওই মন্তব্য করলেন।

মিয়ানমারে নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে ও প্রাণ বাঁচাতে ভারতে প্রায় ৪০ হাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ওই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেয়ায় জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার জেইদ রা’দ আল হুসেইন তার তীব্র নিন্দা করেন।

মিয়ানমার লাগোয়া ভারতের মণিপুরের পাহাড়ি এলাকা দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমরা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য সীমান্তে সতর্কতা জারি করাসহ সীমান্তরক্ষীদের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।

এদিকে, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ভারতের দরজা বন্ধ হলেও বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অবশ্য উত্তর-পূর্ব ভারতে বাস করা চাকমা ও হাজং উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন।

১৯৬৪ সাল নাগাদ পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা থেকে আসামের তৎকালীন লুসাই পাহাড় হয়ে চাকমা (বৌদ্ধ)-হাজং (হিন্দু) সম্প্রদায়ের মানুষজন ভারতের অরুণাচল প্রদেশে বাস করা শুরু করেন। সেসময় ওই জনগোষ্ঠীর মোট শরণার্থী সংখ্যা পাঁচ হাজার হলেও বর্তমানে তা প্রায় এক লাখে পৌঁছেছে।

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৫ সালে চাকমা ও হাজংদের নাগরিকত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু অরুণাচল প্রদেশ সরকার ওই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন জানালেও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয়।

অরুণাচল প্রদেশে কমপক্ষে এক লাখ চাকমা-হাজংকে নাগরিকত্ব দেয়া হলে কংগ্রেস দল তাতে সুবিধা পেতে পারে এবং বিজেপির বিপদ বাড়তে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

অরুণাচল প্রদেশের বাসিন্দা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেছেন, ‘কংগ্রেস সরকারই ১৯৬৪ ও ১৯৬৯ সালের মধ্যে ওদের (চাকমা-হাজং) বসিয়েছিল। অরুণাচল প্রদেশ বাদে অন্য জায়গায় এদের বসতি স্থাপন করা যেত। স্থানীয় মানুষদের মতামত না নিয়ে কংগ্রেস তাদের অরুণাচল প্রদেশে জায়গা দিয়ে এক বড় ভুল করেছিল।’

চাকমা-হাজংরা নাগরিকত্ব পেলেও স্থানীয় লোকেরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হন তা স্থানীয় প্রশাসনকে সাথে নিয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন।

সন্তান ফেলে আসা রোহিঙ্গা মা কী বলবেন...

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর জন্য এখন আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে হিমশিম খাচ্ছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো।

এর মধ্যেই প্রতিদিনই আরো হাজার হাজার লোক আসছে, যাদের মধ্যে এক বড় অংশ নারী ও শিশু।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনী বাংলাদেশ সীমান্ত বরাবর নিষিদ্ধ এ্যান্টি-পার্সোনেল মাইন পেতে রেখেছে বলে তারা প্রমাণ পেয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরে কক্সবাজার এবং বান্দরবনে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রবেশ এবং বাংলাদেশে ঢোকার পরের ঘটনা কাভার করতে ঘটনাস্থলে রয়েছেন বাংলাদেশের বহু সাংবাদিক।

ফটো সাংবাদিক সৈয়দ জাকির হোসেন বলছেন, "সত্যিকার অর্থে এটা একটা প্রচণ্ড মানবিক বিপর্যয় যাকে বলে আর কি। তাদের যে অসহায়ত্ব সেটা এতো স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে কষ্ট লাগে।"

তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়টি একটু আলাদা কারণ তারা খুবই গরিব কিন্তু তারা কিছু বুঝিয়ে বলতে পারে না।

জাকির হোসেন বলেন, "হাজারে হাজারে মানুষ এভাবে আসতে আর দেখিনি। প্রায় ৩০টির মতো পয়েন্ট যার অনেকগুলোই আমি ঘুরেছি।"

শরণার্থী হিসেবে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, "স্বাভাবিকভাবেই তারা বাকরুদ্ধ। তারা ওভাবে বলতেও পারে না। সন্তানকে ফেলে রেখে চলে এসেছেন মা, সেই মা কিভাবে তার মনোভাব প্রকাশ করবেন।"

আবার এক মহিলার বয়স আশির ওপরে। চলতে পারে না। তারা ছেলেরা দুই ভাই মিলে বাঁশ দিয়ে কাপড় বেঁধে মাকে বহন করে নিয়ে এসেছে দীর্ঘ পথ।

গলা পর্যন্ত পানি ডিঙ্গিয়ে নারী শিশু এমনকি গর্ভবতী নারীরা নদী পার হয়ে আসছেন।

কোনো নৌকা পর্যন্ত নেই সেখানে।

কিন্তু ফটো সাংবাদিকরা ঠিক কতটা তুলে আনতে পারছে এসব? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন এটা আসলেই কঠিন।

"যে কষ্ট,আবেগ সেটি বোঝানো কঠিন। প্রতিটি মানুষের চোখের দিকে তাকালেই বোঝা যায় যে তারা কতটা ভীত সন্ত্রস্ত। শিশুগুলোর চোখের দিকে তাকালেই মনে হয় যে আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছে।"

"আমরা সিডর আইলার মতো দুর্যোগে মানবিক বিপর্যয় দেখেছি কিন্তু রোহিঙ্গাদের মতো এমন পরিস্থিতি দেখিনি।"

রোহিঙ্গাদের ত্রাণে লাগবে সাড়ে ৭ কোটি ডলারের বেশি
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এখন মিয়ানমার থেকে আসা প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীর জন্য আশ্রয়, খাদ্য ও ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করতে এ মুহূর্তেই কমপক্ষে সাত কোটি ৭০ লাখ ডলার দরকার - বলছে আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো।

এসব সংস্থার এক যৌথ বৈঠকে অংশ নেয়া জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর কাছ থেকে আজ এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে খুব অল্প সময়ে এত বেশি সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রবেশ করায় তারা ত্রাণ দিতে হিমশিম খাচ্ছেন।

বিভিন্ন দেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে অর্থের প্রতিশ্রুতি মিললেও সমন্বিত-ভাবে উদ্যোগের একটি অভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মজহারুল হক বলছেন, "হঠাৎ করে যেভাবে মানুষের ঢল নেমে আসলো সেটাকে সামাল দেয়ার জন্য পূর্ব প্রস্তুতি তো সেরকম ছিলো না। সেখানে একটা অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাদের অন্ন বস্ত্র সহ সব ধরনের সহায়তা দরকার। সবার উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। এককভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এই সমস্যা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।"

ইউএনএইচসিআর বলছে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংখ্যা পায় তিন লাখে পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র ভিভিয়ান ট্যান বলছেন সেখানে প্রচুর জরুরি সহায়তা দরকার।

তিনি বলছেন, "পরিস্থিতি সেখানে খুবই কঠিন। আমরা যে দুটি শরণার্থী শিবিরে কাজ করি সেখানে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ধারণ ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তারপরও নতুন করে শরণার্থীরা আসছে। আপনি যদি সেখানে যান তাহলে দেখবেন শুধু শরণার্থী শিবিরে নয়, সেখানকার স্কুল বা অন্যান্য যে আশ্রয় কেন্দ্রগুলো আমরা খুলেছি সেগুলো ঠাসাঠাসি অবস্থা। ক্যাম্পের বাইরে রাস্তার ধারে, ধান ক্ষেতে নিজেরাই তারা ব্যবস্থা করে নিচ্ছে। খুব মরিয়া অবস্থা সেখানে এবং তাদের প্রচুর জরুরি সহায়তা দরকার।"

ভিভিয়ান ট্যান বলছেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে যে অঞ্চলে রয়েছেন সেখানে গত কয়েক দিন ধরে সাহায্য সংস্থাগুলো ঘুরে দেখেছে এবং একটি হিসেবের পর তারা মনে করছেন রোহিঙ্গাদের ত্রাণ সহায়তা দিতে প্রাথমিকভাবে এই মুহূর্তে ৭৭ মিলিয়ন ডলার দরকার।

তিনি বলছেন, "৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের নানা সংস্থা ও এনজিও গুলো একত্রিত হয়েছিলো এবং এর পর তারা বাংলাদেশে নানা এলাকা ঘুরে দেখেছে। তারা দেখতে চেয়েছে কত রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এ দফায় ঢুকল এবং এ মুহূর্তে সেখানে ঠিক কি দরকার। সংস্থাগুলো মনে করছে প্রাথমিকভাবে রোহিঙ্গাদের জরুরি সহায়তা দিতে এই মুহূর্তে ৭৭ মিলিয়ন ডলার দরকার হবে। এটি একটি প্রাথমিক হিসেব এবং এই অর্থের জন্য সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে আবেদন করছে।"

ইতোমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া সহায়তা হিসেবে চার মিলিয়ন ডলার দেবে বলে জানিয়েছে। ডেনমার্ক তিন মিলিয়নের একটু বেশি দেয়ার কথা বলেছে ডেনমার্ক। মালয়েশিয়ার সরকার খাদ্য সহায়তার কথা জানিয়েছে। সহায়তার প্রস্তাব করেছে তুরস্ক।

বাংলাদেশের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের যে ১৯০ টি সদস্য দেশ রয়েছে তাদের কাছে ১২ মিলিয়ন ডলার আহবান করবেন।

বিভিন্ন দেশ বা সংস্থা থেকে এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে সহায়তার প্রতিশ্রুতি মিললেও সমন্বিত-ভাবে উদ্যোগের একটি অভাব দেখা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের সরকারও কি পরিমাণে তহবিল দরকার তার মূল্যায়ন করে উঠতে পারে নি।

বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল বলছেন, "পুরনো ক্যাম্পে যারা প্রবেশ করেছে তাদের ইউএনএইচসিআর ও ডব্লিউএফপি খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। যারা বাহিরে উখিয়া ও টেকনাফে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের সহায়তা করছে আইওএম। জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বিভিন্ন এজেন্সি সহায়তা করছে। সামগ্রিকভাবে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে আমরা সমন্বয় করছি"

তিনি বলছেন, কি পরিমাণে অর্থ ও খাদ্য এই মুহূর্তে লাগবে সেটিই তারা এখন মূল্যায়ন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসব কিছুর মধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের স্রোত এখনো অব্যাহত রয়েছে।

প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের দুঃসাহসিক অভিযাত্রা
মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উগ্র বৌদ্ধদের ভয়াবহ বর্বরতার চিত্র গণমাধ্যমে তুলে ধরছেন। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা, কুপিয়ে হত্যা, নারীদের গণর্ষণের অভিযোগ করেছেন তারা।

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা মুসলমানরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের পেলেই নির্মমভাবে হত্যা করছে। খুনের পর গুম করা হচ্ছে লাশ। আবার কখনও সেই লাশ নিয়ে উল্লাস করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ সন্ত্রাসীরা। বাড়ি-ঘর জ্বালিয়ে দিচ্ছে। শিশুদেরও পুড়িয়ে মারছে।

কখনও কখনও মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নিচ্ছে শিশুদের। বাবা-মায়ের সামনে ছেলেকে, স্ত্রীর সামনে স্বামীকে, সন্তানের সামনে বাবাকে কখনও গুলি করে, আবার কখনও গলা কেটে হত্যা করা হচ্ছে। যারা জীবন বাঁচাতে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে চাইছে তাদেরও রেহাই নেই। খুঁজে পেলেই হত্যা করা হচ্ছে। নৌকা দিয়ে পাড়ি দেয়ার সময়ও হত্যা করা হচ্ছে অনেককেই।

প্রাণ বাঁচাতে স্রোতের বেগে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে শুরু করে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কয়েকশ’ তরুণ-যুবক-মধ্যবয়সী কাঁধে অথবা পিঠে করে বয়ে নিয়ে এসেছেন অক্ষম বৃদ্ধ বাবা-মাকে। বর্ষার এই প্রতিকূল পরিবেশও তাদের পথে বাধা হতে পারেনি। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে যেন তারা দুঃসাহসিক অভিযানে নেমেছেন। তাদের সহযাত্রী হয়েছেন নারী ও শিশুরাও। যখন তারা আর এগোতে পারছেন না জিরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশের ভেতরে ঢোকার পর তাদের ভয় অনেকটাই কমে গেছে। এ কারণে তারা বিশ্রাম নিয়ে আস্তে আস্তে এগোচ্ছেন। অনেকেই আবার কাদার মধ্যেই বিশ্রাম নিয়ে পা বাড়াচ্ছেন।

জাতিসঙ্ঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা শুক্রবার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দুই লাখ ৭০ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন।

নাফ নদীর ওপারে এখনও হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা যেন বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করতে পারলেই বেঁচে যান। বন, জঙ্গল, পাহাড় আর নদী পেরিয়ে যারা বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছেন তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন। তাদের গন্তব্য এখন টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প। যদিও সেখানেও নেমে এসেছে মানবিক বিপর্যয়।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও পুলিশের হত্যাযজ্ঞের মুখে তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা ইতোমধ্যে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। অব্যাহত রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞের উল্লেখযোগ্য দিক হচ্ছে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া। সীমান্তের এপার থেকে প্রতিদিনই রোহিঙ্গাদের ঘববাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। অভিযানে হেলিকপ্টার গানশিপেরও ব্যাপক ব্যবহার করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গারা যাতে ফিরতে না পারে সেজন্য সীমান্তে পুঁতে রাখায় হয়েছে স্থলমাইন। মাইন বিস্ফোরণে ইতোমধ্যে কয়েকজন আহতও হয়েছেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.