বিস্ময়কর মরুভূমি লেনকয়েস উদ্যান

মো: আবদুস সালিম

তোমরা জানো, মরুভূমি মানেই ধু-ধু বালুর রাজ্য বা বালুচর। কিন্তু বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পানি থাকে এমন মরুভূমিও আছে। যা প্রাকৃতিকভাবেই ঘটে। শুধু তাই নয়, যখন পানি থাকে তখন বিভিন্ন জলজ প্রাণীও থাকে। এর মধ্যে মাছ অন্যতম। এর পরিমাণও বেশি থাকে। আরো আছে পামসহ বিভিন্ন ধরনের গাছ। আছে ম্যানগ্রোভ অরণ্য, সৈকত ইত্যাদিও। তোমাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এ আবার কেমন মরুভূমি। হ্যাঁ, অনেকে তাই এমন মরুভূমিকে বিস্ময়কর মরুভূমি বলছেন। এর নাম লেনকয়েস উদ্যান। পুরো নাম লেনকয়েস ম্যারানহেনসেস জাতীয় উদ্যান।
উদ্যান হলেও এর আয়তন অন্য কোনো সাধারণ উদ্যানের তুলনায় অনেক বেশি। আয়তন প্রায় এক হাজার ৫৫০ বর্গকিলোমিটার।
বিস্ময়কর এ উদ্যানের অবস্থান ব্রাজিলের ম্যারানহাও নামক স্থানে। তবে যত জলজ প্রাণী আর গাছ-গাছালি থাকুক এর ভূ-প্রকৃতি মরুভূমির মতোই। কারণ এখানে রয়েছে সাদা বালুর বিশাল রাজ্য। আবার এখানে প্রচুর বৃষ্টি হয় বছরের কোনো কোনো সময়। কারণ এই মরুভূমির অবস্থান আমাজন অববাহিকার খুব কাছাকাছি। বেশি পানি জমা হয় জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর এ তিন মাসে। বলা যেতে পারে এমন সময় তা পানিতে থাকে টইটম্বুর। চোখে পড়ে অগণিত লেক (হ্রদ) বা লেগুন। এগুলো দেখতে অনেকটা সবুজ আর নীল রঙের। পুরো প্রকৃতি থাকে রোদে উজ্জ্বল। আকাশটাও উপভোগ করার মতো সুন্দর থাকে। সব মিলিয়ে এক দারুণ মনোরম দৃশ্যের সৃষ্টি হয়।
এ মরুভূমিতে যে মাছ থাকে (পানির সময়) শুকনো সময়ে তা একেবারে নাই হয়ে যায়। পানি জমা হলে আবার মাছের দেখা মেলে। এর কারণ আছে। মাছের ডিম লেগুনে এসে পড়ে পাখিদের মাধ্যমে। তা থেকেই ক্রমে এ বিশাল জায়গা ভরে ওঠে মাছে। ধারণা করা হয়, শুকনো সময়ে কিছু মাছ বালুর নিচে চলে যায়। কিছু মাছ চলে যায় এর পাশের নদীগুলোতে। কেননা লেগুনগুলোর অংশ যুক্ত রয়েছে পাশের কিছু নদীর সাথে, যেমন রিও নেগ্রো।
এ উদ্যানের প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য উপভোগ করতে প্রচুর পর্যটকের সমাগম ঘটে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বিশ্বের পর্যটন শিল্পে। ধু-ধু বালুর মাঝে অগণিত ছোট-বড় জলাধার চোখে পড়ে। দেখলে মনে হয় এগুলোর সৃষ্টি কোনো নকশা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে। কোনো কোনো লেগুন নীল, সবুজ, কালো ইত্যাদি রঙে সাজে। তা দেখতেও লাগে বেশ! এটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে আইবিএএমএ।
লেনকয়েস উদ্যান বা মরুভূমি আশপাশের প্রকৃতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। এর আশপাশে বিশেষ করে জেরিকোয়াকোয়ারা নামক স্থানে কিছু লোকের বসবাস রয়েছে। এদের কিছু লোক মৎস্যজীবী। তা হয় বৃষ্টির দিনে। এর পাশে রয়েছে প্রেগুইকাস নদী। সেটি দেখতেও বেশ সুন্দর।
রিও প্রেগুইকাস অপর একটি নদী। যা এই জায়গাকে যুক্ত করেছে আতিনস নামক স্থানের সাথে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.