লাল পিঁপড়ের ডিম

আবুল হোসেন আজাদ

লোকটির নাম হারুন। গায়ের রঙ কালো তামাটে। বেটে খাটো। পরনে লুঙ্গি হাঁটুর ওপরে। মাথায় গামছা বাঁধা। গায়ে আধা ময়লা গেঞ্জি। বয়স চল্লিশের ওপরে। ঘাড়ে লম্বা সরু বাঁশের লগি। তার মাথায় পুরনো কাপড় সেলাই করে জাল বানানো। হারুনের শখ বড়শিতে মাছ ধরা। নদীতে, পুকুরে কিংবা জলাশয়ে। ছিপ ফেলে বসে থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। রোদ থেকে বাঁচতে মাথার ওপরে থাকে ছাতা। বাঁশের খুঁটিতে দড়ি দিয়ে বাঁধা।
হারুন লগি নিয়ে চলে আসে ছোট ছোট গাছ-গাছালির তলায়। উঁকি দিয়ে খুঁজতে থাকে কোন গাছের ডালে আছে লাল পিঁপড়ের বাসা। লাল পিঁপড়েরা ডিম পাড়ার সময় হলে গাছের ডালের পাতাগুলো একসাথে করে বড় বাসা বানায়। তারপর ওর ভেতরে ছোট ছোট সাদাসাদা অসংখ্য ডিম পাড়ে। ওই ডিম থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই ছোট ছোট বাচ্চা পিঁপড়ে বেরিয়ে আসে। মা লাল পিঁপড়েরা তখন ওদের আগলে রাখে।
মাছেদের প্রিয় খাবার লাল পিঁপড়ের ডিম। শৌখিন মাছশিকারিরা তাই বড়শিতে পিঁপড়ের ডিম গেঁথে ছিপ ফেলে। এতে টপাটপ মাছ উঠে আসে ছিপে।
হারুন লোকটা ঘন জঙ্গলের গাব গাছের একটি ডালে কতকগুলো পিঁপড়ের বাসা দেখতে পায়। লগিটা আস্তে আস্তে তুলে ধরে বাসার নিচের দিকটায় খোঁচা দেয়। ওমনি ঝুর ঝুর করে ডিমগুলো লগির আগার জালে পড়তে থাকে। লাল পিঁপড়ের দল ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে আসে বাসা থেকে। ওরা ছোটাছুটি করতে থাকে ডালে ডালে। ওদের প্রতি মানুষের এমন অমানবিক আচরণ দেখে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। ওদেরও বাঁচার অধিকার আছে। তাইতোÑ আর সপ্তাহখানেকের মধ্যেই ডিমের খোলস ছেড়ে বাচ্চাগুলো বেরিয়ে আসত। মায়ের পরম মমতায় কিছুদিনের মধ্যে ওরা বড় হয়ে পৃথিবীর রূপ, রস আলো দেখতে দেখতে দৈনন্দিন জীবন ধারণের কাজ- খাবার সংগ্রহ থেকে সবকিছু শিখে যেত।
হারুন লোকটি ডিমগুলো পেয়ে খুশিতে ডগমগ। প্রায় জালভরা ডিম দেখে চোখে মুখে খুশির ঝিলিক। ডিমগুলো শুধু নিজের ছিপের জন্য না, ওর থেকে আবার বিক্রি করে পায় বেশ ভালো দাম। বাড়ির পথে পা বাড়ানোর জন্য ঘুরে দাঁড়ায়। ঠিক সেই সময় একদল পিঁপড়ে এসে ওর পিঠে লাফ দিয়ে পড়ে। একটি পিঁপড়ে সাহস করে বলে ওঠেÑ আমাদেরও জীবন আছে। সন্তান অর্থাৎ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে লালন-পালন করার অধিকারও আছে। তোমাদের সন্তানদের যেমন একটু কিছু হলে বিচলিত হও, ডাক্তার কবিরাজের কাছে নিয়ে যাও। তাদের আদর, স্নেহ, মমতা দিয়ে বড় করে তোলো। ঠিক তেমনি আমাদেরও আছে পৃথিবীর পরিবেশ সুরায় জীববৈচিত্র্য রায় ভূমিকা। তোমাদের উচিত আমাদের বাঁচতে দেয়া।
হারুন অবাক হয়ে যায়। পিঁপড়ের এই কথা শুনে। মনে মনে অনুশোচনা হয় হারুনের। পিঁপড়েটাকে বলে, ঠিক আছে। তোমাদের ডিমগুলো আমি ঢেলে দিয়ে যাচ্ছি। তাই দাও পিঁপড়েটা বলল। আমরা সবাই মিলে আমাদের ডিমগুলো মুখে করে আবার বাসায় নিয়ে যাচ্ছি। হারুন ডিমগুলো ঢেলে দিয়ে বাড়ির পথে পা বাড়ায়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.