ডেনমার্কে প্রতিবাদ : মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান
ডেনমার্কে প্রতিবাদ : মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান

ডেনমার্কে প্রতিবাদ : মিয়ানমারে গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান

নয়া দিগন্ত অনলাইন

মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতা, রোহিঙ্গাদের নির্যাতন এবং গণহত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে ডেনমার্কে বসবাসরত বাংলাদেশী নাগরিকরা। এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশের নাগরিকরাও এতে অংশ নেয়। সমাবেশে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কর্তৃক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্মম নির্যাতন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। মিয়ানমার সরকারকে এই গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসঙ্ঘকে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান তারা।

রোববার দুপুরে ডেনমার্কের অ্যালবর্গে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যালবর্গ বিশ্ববদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার রানা, পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্স ফেলো মো. আহসানুল হক, শামিমা শারমিন সহকারি অধ্যাপক সাইফুদ্দিন খালিদ, তাজুদ্দিন আহমেদ অভি, হাসান ইমাম প্রমুখ।

অ্যালবর্গ বিশ্ববদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক ড. মো. বখতিয়ার রানা বলেন, মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের নির্যাতন, অমানবিকতা, জাতিগত সহিংসতা এবং গণহত্যার বিরুদ্ধে আমরা দাঁড়িয়েছি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বার্মিজরা রোহিঙ্গাদের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং তাদেরকে তাদের থেকে বিতারিত করছে। শত শত বছর ধরে আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গারা বসবাস করলেও আলাদা ভাষা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বার্মিজরা তাদের হত্যা করছে, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌলিক মানবাধিকার থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাদেরকে জাতীয়তা দিতে অস্বীকার করা হচ্ছে। আরাকান প্রদেশের মধ্যে জীবনকে সীমাবদ্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা এবং কাজের সুযোগ নেই। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হচ্ছে, তাদের সাথে বিয়ে অধিকার সীমিত করে দেয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত ১৫ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সৌদি আরবের মতো বেশ কিছু দেশে শরণার্থী হয়েছে। জাতিসঙ্ঘ শরণার্থী সংস্থা বলছে, সাম্প্রতিক গণহত্যার পর ৩ লাখ ৭০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে উদ্বাস্তু হিসেবে এসেছে।

বখতিয়ার রানা বলেন, রোহিঙ্গাদের হত্যা ও অত্যাচারের কাহিনী শুনে শিউরে উঠতে হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, সেনারা পুরো গ্রামকে ঘিরে ফেলে এবং নির্বিচারে গুলি চালায়; গ্রামের সব ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়, নারীদের ধর্ষণ করে এবং অল্প বয়স্ক ছেলেদের হত্যা করে।
তিনি বলেন, এই বর্বর গণহত্যা একজন সচেতন মানুষ নীরব থাকতে পারে না। আমরা রোহিঙ্গাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর রোহিঙ্গাদের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মিয়ানমার সরকারকে এই গণহত্যা বন্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসঙ্ঘের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.