ইলিশ খেতে মাওয়া ঘাটে

  ভ্রমণ
নাজমুল হোসেন

ধোঁয়া ওঠা সাদা ভাতের সাথে পদ্মার বড় তাজা রুপালি ইলিশ। আর সাথে ভাজা ইলিশের লেজের সাথে কাঁচা পেঁয়াজ ও শুকনো মরিচের ভর্তা, মরিচ পোড়া, বেগুন ভাজা, টকঝাল চাটনি। রসনাবিলাসী বাঙালিদের খাবারের পাতে এর চেয়ে লোভনীয় আর কিছু কি হতে পারে!
ভ্রমণ ও রসনাবিলাসীরা এই খাবার খেতে একদিন সময় করে ঘুরে আসতে পারেন মাওয়া ঘাট থেকে। মাওয়া ফেরিঘাটে একই সাথে পাবেন পদ্মার রুপালি ইলিশ আর জলরাশির উন্মাদনা দেখার সুযোগ।
যারা পদ্মার তাজা ইলিশ খেতে মাওয়া ফেরিঘাটে ঢুঁ মারার প্ল্যান করছেন, তারা যদি জেলেদের কাছ থেকে তাজা ইলিশ কিনে খেতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই অন্তত একদিনের সকালের আরামের কাঁচা ঘুম ত্যাগ করে মাওয়া যেতে হবে সকাল ৯টার মধ্যে। এখানে মাছের ওজনের সাথে দামটাও পাল্লা দিয়ে ওঠানামা করে। যতটা পারেন দরদাম করে মাছ কিনবেন। চাওয়া দামের অর্ধেক টাকায় ইলিশ বগলদাবা করেছে এ রকম মানুষের অভাব নেই। মাছ কেনা শেষে সামনে দাঁড়িয়ে কেটে আর ভেজে নিন। অন্যথায় আপনি নড়াচড়া করলে মাছও নড়াচড়া করতে পারে। আপনার অনেক শখের কেনা বড় ইলিশ ছোট হয়ে যেতে পারে। শুধু যে এখানে ইলিশ মাছ আছে তা কিন্তু নয়। এখানে পাবেন বড় বড় চর্বিযুক্ত পাঙ্গাশ মাছ। পাঙ্গাশ মাছের পেটির স্বাদও নিতে পারেন অনায়াসে। এ ছাড়া শিং, চিংড়িসহ হরেক রকম নদীর মাছের ভর্তা পাবেন।
যাদের ইলিশ কেনার অভিজ্ঞতা নেই, তাদের অনেকেই সমস্যায় পড়েন ইলিশের দরদাম নিয়ে। অথবা কোন ইলিশটা স্বাদের জন্য ভালো হবে, তা নিয়েও চিন্তায় পড়েন অনেকেই। ডিমওয়ালা ইলিশের স্বাদ কিছুটা কম। আবার অনেকেই বলতে পারেন, ডিম ছাড়া ইলিশ কিনলে ডিমের স্বাদ পাবো কী করে। সে ক্ষেত্রে মাওয়া ঘাটে আপনি ডিম ছাড়া ইলিশ কিনে অতিরিক্ত ডিমও কিনে নিতে পারেন। সুতরাং আপনি ইলিশের প্রকৃত স্বাদও পেলেন, সাথে ডিমের মজাও।
মাছ কেনার ঝামেলায় না যেতে চাইলে মাওয়া ফেরিঘাটের রেস্টুরেন্টগুলোতে বিশাল বিশাল সব ইলিশ ও পাঙ্গাশ মাছের পেটি পাবেন। নদীর বাতাস খেতে খেতে পাঙ্গাশ আর ইলিশ খাওয়ার এক অপার্থিব আনন্দ আছে।
শুধু ইলিশ খেয়ে চলে আসা নেহাত বোকামি হবে যদি বিশাল পদ্মার পাড়ে বসে পদ্মার অথৈ জলরাশির একটু উন্মাদনা না দেখেন। এ জন্য ঘুরে আসতে পারেন মাওয়ার অদূরে লৌহজং। এখানে আছে মনোমুগ্ধকর পদ্মা রিসোর্ট। মাওয়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোতে যেতে সময় লাগবে ২৫-৩০ মিনিট। ভাড়া ২৫ টাকা। সেখান থেকে নৌকায় ঘুরে আসতে পারেন রিসোর্টটি। এতে আপনার রিসোর্ট দেখাও হলো, নৌকায় চড়াও হলো। রিসোর্টটি ঘুরে দেখতে দিতে হবে ৫০ টাকা। আর এখানে থাকার সুব্যবস্থাও আছে। সারা দিন থাকতে চাইলে এক হাজার ৮৫০ টাকা আর সারা দিন-রাত থাকতে চাইলে গুনতে হবে তিন হাজার ৩৫০ টাকা। ডাবল বেডের এই কটেজগুলোতে একটা চার সদস্যের পরিবার অনায়াসে থাকতে পারবে।
এ ছাড়াও কাওরাকান্দি ফেরিঘাট ঘুরে আসতে পারেন। মাওয়া ঘাটের অপর পার কাওরাকান্দি। লঞ্চ বা স্পিডবোটে কাওরাকান্দি নামলেই চোখে পড়বে এরকম পাথরের স্তূপ। কাওরাকান্দি ও মাওয়া ঘুরলে পদ্মা সেতুর আপডেট দেখতে পারবেন। সকালে রওনা দিয়ে সারা দিন পদ্মার বিশাল জলরাশির উন্মাদনা দেখতে দেখতে আর মজার ইলিশ খেয়ে আপনার দিনটি কখন যে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাতের দিকে ঝুঁকে পড়েছে, হয়তো টেরই পাবেন না। ছোট্ট এই ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরেও দেখবেন আপনার হাত থেকে ইলিশের সেই প্রিয় গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
কিভাবে যাবেন : ঢাকার মিরপুর ১০, ফার্মগেট, শাহবাগ থেকে স্বাধীন পরিবহনে ভাড়া নেবে ১০০ টাকা। এ ছাড়াও ঢাকার গুলিস্তান থেকে সারা দিনই পাবেন মাওয়া যাওয়ার বাস। ইলিশ, গাঙচিল পরিবহন এবং বিআরটিসির এসি বাস সার্ভিস আছে মাওয়া যাওয়ার জন্য। ইলিশ আর গাঙচিল পরিবহনে ভাড়া নেবে গুলিস্তান থেকে মাওয়া ৭০ টাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.