ফোর জি কী, কেন ও কীভাবে?
ফোর জি কী, কেন ও কীভাবে?

ফোর জি কী, কেন ও কিভাবে?

নয়া দিগন্ত অনলাইন

প্রচলিত থ্রিজির চেয়ে ফোর জি অনেক দ্রুতগতির। এ প্রযুক্তিতে ডেটা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ল্যাগ হয় না। কোনো রকম বাফারিং ছাড়াই টিভি ও লাইভ স্টিমিং দেখতে পারেন গ্রাহক। মোবাইল ফোন অপারেটররা  দেশে চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর জি) সেবা দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।

ফোর জি কী?

মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনের সর্বাধুনিক সংস্করন ফোর-জি (4G-Fourth Generation)। এটি সম্পূর্নরূপে ইন্টারনেট প্রটোকলভিত্তিক একটি টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম যা গ্রাহককে Ultra-broadband mobile internet access  প্রদান করে থাকে। ফোর-জি প্রযুক্তি হচ্ছে থ্রিজি মোবাইলের আধুনিকতর সংস্করন। এই প্রযুক্তি এখনও গ্রাহক পর্যায়ে সহজলভ্য হয়ে উঠেনি। ফোরজি মোবাইলের পুরোপুরি বাণিজ্যিক উৎপাদন ও বিপনন শুরু হলে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেমে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

ফোর জি মোবাইল ব্যবহার কেন করবেন?

ফোর জি মোবাইলে রয়েছে সর্বোচ্চ গতির ডাটা ট্রান্সফারের সুবিধা। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহক সর্বদাই মোবাইল অনলাইন ব্রডব্যান্ডের আওতায় থাকতে সমর্থ হবেন। এতে হাই ডেফিনেশন টেলিভিশন এবং ভিডিও কনফারেন্সের সুবিধা পাওয়া যাবে। এই প্রযুক্তিতে গ্রাহকের কথোপকথন ও ডাটা ট্রান্সফারের নিরাপত্তা অনেক বেশী শক্তিশালী হবে। ফোর-জি মোবাইল গ্রাহককে ভয়েস মেসেজ, ফ্যাক্স, মাল্টিমিডিয়া মেসেজ, অডিও ভিডিও রেকর্ডিং ইত্যাদির সুবিধাও প্রদান করবে।

ফোর জি’র বৈশিষ্ট্য

২০০৮ সালের মার্চ মাসে International Telecommunications Union Radio communication sector (ITU-R), ফোর-জি প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বাধ্যতামূলক হিসাবে নির্ধারণ করে দেয় যা International Mobile Telecommunications Advanced (IMT-Advanced) specification নামে পরিচিত। ফোর-জি মোবাইলের অপরিহার্য বৈশিষ্টগুলো হচ্ছে: ডাটা ট্রান্সফারের গতি High mobility station (যেমন, ট্রেন, বাস ইত্যাদি) এবং Low mobility station (যেমন, পথচারী, indoor ইত্যাদি) এর ক্ষেত্রে যথাক্রমে ন্যূনতম ১০০ মেগাবাইট/ সেকেন্ড এবং ১ গিগাবাইট/ সেকেন্ড হতে হবে। এই প্রযুক্তির ডাটা ট্রান্সফার পুরোপুরি ইন্টারনেট প্রটোকল প্যাকেট সুইচ নেটওয়ার্ক ভিত্তিক হতে হবে। একই স্পেকট্রাম থেকে সর্বাধিক সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দিতে হবে। পরিমাপ যোগ্য Clannel Band width ন্যূনতম ৫-২০ মেগাহার্জ এবং ক্ষেত্রবিশেষ ৪০ মেগাহার্জ পর্যন্ত হবে। Downlink এর ক্ষেত্রে link spectral Efficiency 15bit/s/Hz এবং Uplink এর ক্ষেত্রে 6.75 bit/s/Hz হতে হবে। এই সবগুলো বৈশিষ্ট্যই শুধুমাত্র LTE Advanced (Standardized by 3GPP) এবং 802.16m (standardized by the IEEE) এই দু’টি প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজ করবে।

ফোর জি-এর কিভাবে কাজ করে?

বর্তমানে দুটি ফোর-জি স্ট্যান্ডার্ড বাণিজ্যিকভাবে ফোর জি মোবাইলের সাথে যুক্ত আছে। এর মধ্যে Mobile Wimax ২০০৬ সনে দক্ষিণ কোরিয়ায় সর্বপ্রথম এবং Long Term Evolution (LTE) স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলে ২০০৯ সাল থেকে অপারেশন শুরু করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে Sprint Nextel ২০০৮ সালে Mobile Wimax চালু করে এবং Metro PCS ২০১০ সালে LTE সার্ভিস শুরু করে। শুরু থেকেই ফোর-জি প্রযুক্তির USB Wireless Modem প্রচলিত ছিল তবে ২০১০ সালে সর্বপ্রথম ওয়াইম্যাক্স স্মার্টফোন এবং ২০১১ সালে LTE স্মার্টফোন বাজারে আসে। এখন পর্যন্ত ফোরজি মোবাইল গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের উপর নির্ভরশীল।

উল্লেখ্য চলতি বছরের মধ্যে ফোর জি মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, আমরা নভেম্বরের শেষের দিকে ফোর জির নিলাম শেষ করতে পারব। ফোর জি নিলামের মাধ্যমে সরকারের কমপক্ষে ১১ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে।

সূত্র : টেকটিউনস

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.