প্রি য় জ ন পং ক্তি মা লা

শরৎ এলো
মিলন সরকার

শরৎ এলো দখিন হাওয়ায়
কাশফুলের গন্ধে
শরৎ এলো ছেলে-বুড়োর
গল্পকথার ছন্দে।
শরৎ এলো পাখির কণ্ঠে
শিশির বিন্দু ফোঁটায়
শরৎ এলো জুঁই-চামেলি
হাস্নাহেনার বোঁটায়।
শরৎ এলো বিলের জলে
শাপলা-শালুক পাতায়
শরৎ এলো কবির মনে
প্রিয় কলম-খাতায়।
প্রিয়জন-১৬২৬

সুমন আহমেদ
চাইলেও পারি না

ছায়ায় ঘেরা পড়ন্ত বিকেলের গোধূলি লগ্নে লিলুয়া বাতাসে
দোলে কাশফুল; বকের সারি উড়ে যায় মুক্ত নভোপ্রাঙ্গণে।
শুধু রেখে যায় তার ঝরা পালক, তোমার রেশমি কালো
কুন্তলের খোঁপায় রক্ত জবার পাশে জড়িয়ে থাকবে বলে।
রোজ বিকেলে একাকিত্ব সঙ্গহীন বসে থাকি তিতাসপাড়ে,
ঢেউয়ের ভেলায় চড়ে তুমি আসবে বলে; একটু সঙ্গতার খোঁজে।
কত ঢেউ আসে যায়, শত প্রহর কেটে যায় পৃথিবীর নিয়মে;
যেন শতাব্দী যুগ চলে যায়, তবুও আসো না তুমি।
মাদকতায় নিজেকে জড়াতে চেয়েছি বহুবার; কিন্তু পারিনি...
আমার এলোমেলো অগোছালো ছন্নছাড়া সাজবিহীন
জীবনটাকে নিজ হাতে সাজাবে বলে; তাই তো চাইলেও পারি না
নদীর স্রোতে নিজেকে বিলীন করে দিতে; বেলা শেষে সমস্ত
পৃথিবী হতে নিজেকে আড়াল করে আঁধারে হারিয়ে যেতে।
নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

সাকিব হাসান সানভী
নি®প্রাণ!

কোনো এক অমাবস্যায়,
আমার যত উল্লাস পুড়িয়ে দিও!
ধোঁয়াগুলো পৌঁছে যাবে নরকে...
তারপর চোখ খোলো,
দেখো, সাতরঙা এক আকাশÑ
বেঁধে দিয়েছি তোমার চোখে...
মৃত মাটিতে আমি
পড়ে আছি কিছু আফসোস নিয়েÑ
পৃথিবী কেন প্রাণহীন!
আকাশও কেন!?
সুন্দরের কি প্রাণ থাকে না!
মন থাকে না!?
তোমরা কি একই দলের??
গাড়ির হেডলাইট দেখেছে যত পথ,
দেখনি তুমি।
সুযোগ পেলে দেখে নিও।
জীবনের রাস্তা এত লম্বা না।
আজীবন দেখার সম্ভাবনা খুব ক্ষীণ!
তারপর উল্লাসগুলো পুড়ে ফেল সযতেœ!
‘নি®প্রাণ’ হয়ে যেও আমার মতন।
লোহাগাড়া প্রিয়জন, চট্টগ্রাম

আল-মাসুদ হক মিঠুল
কষ্ট নীড়ে

স্মৃতির পৃষ্ঠা ছিঁড়ে
ফাল্গুনি হাওয়ায় উড়ে যায় ব্যথা
ফিরে আসে কষ্ট নীড়ে।
স্বাধীনতার স্বাদ বড়ই মধুর তবুও
অথৈ আকাশে আজ অসহ্য শূন্যতা।
নির্জনে বেঁধেছি ঘর,
আতঙ্ক চারিদিকে পতনের সুর বাজে
ভুলে যাওয়ায় বড়ই কষ্টকর
মৃত্তিকার কোলে স্মৃতি, স্বপ্ন ফুলের ভাজে।
নীলাভ আকাশের পাটে
ধু ধু চরে সাত্ত্বিক প্রেম সাত রংধনু
বৃক্ষ আর নদীঘাটে
জলের বুকে লাল রক্তের ঢেউ।
বর্ণমালায় সেজেছে প্ল্যাকার্ড
ঘোর অমাবস্যায় আজো শকুনের আঁকিবুঁকি।
চাপারহাট, লালমনিরহাট

মাহিন মুবাশশির
নির্লজ্জ ভালোবাসা

সে আমাকে ভালোবাসে না, তবু তার জন্য আমারÑ
মনে এ কিসের টান...
কথায় কথায় অপমান
আর মিথ্যে বদনাম ছড়ালো সে।
তবু তার জন্য এ কিসের টান?
দু’দণ্ড না দেখলে, তার কথা না ভাবলে
মনের মাঝে খা খা শূন্যতা বিরাজ করে...
বিরহ বেদনাÑ না পাওয়ার যাতনাÑ
মিছে কিছু সান্ত্বনাÑ অকাতর ভর্ৎসনা :
সত্ত্বেও নির্লজ্জ ভালোবাসা তাকে ভালোবেসেই যাচ্ছে...
এ কেমন ভ্রমÑ
সময় সময় করে জ্বালাতন!
হায়রে অবুঝ মন,
যে ঘৃণা করে পর করে দেয় তাকে ভাবে আপন!
ভালোবাসা না পেয়েওÑ
ভালোবাসে সারাক্ষণ।
মনখোশ সরণি, সিরাজগঞ্জ-৬৭৪০

ইসলাম তরিক
আগুন জ্বলে

আগুন জ্বলে বুকের ভেতর
আগুন জ্বলে কৃষ্টিতে
আগুন জ্বলে ভালোবাসার
মিষ্টি-মধুর দৃষ্টিতে।
আগুন জ্বলে চিত্তবীণায়
শিষ্য-গুরুর অর্ঘ্যতে
আগুন জ্বলে কুঞ্জবনে
নিজের গড়া স্বর্গতে!
আগুন জ্বলে অন্তঃপুরে
চুলচেরা সব যুক্তিতে
আগুন জ্বলে অফিসপাড়ায়
অর্থনীতির মুক্তিতে।
আগুন জ্বলে স্বপ্নডানায়
মন মাতানো সঙ্গীতে
চার দিকে জ্বলছে আগুন
ঠিক দোজখের ভঙ্গিতে!
সান্তাহার, বগুড়া

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.