পুরুষ শ্রেণীর হাতে যৌন হয়রানির শিকার নারী (সুন্দরী) সহকর্মীরা
পুরুষ শ্রেণীর হাতে যৌন হয়রানির শিকার নারী (সুন্দরী) সহকর্মীরা

পুরুষ শ্রেণীর হাতে যৌন হয়রানির শিকার নারী সহকর্মীরা

খুরশীদ আলম বাবু

গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭ তারিখে ‘নয়া দিগন্ত’ পত্রিকার উপসম্পাদকীয় বিভাগে ‘যারা পুরুষ নামের কলঙ্ক’ নামের লেখাটি পড়ে শুধু অবাকই হলাম না, সাহসিকতার জন্য লেখক অ্যাডভোকেট মাসুমাকে ধন্যবাদ না দিয়ে পারা যায় না। লেখাটা পড়ে ভাবছিলাম, এই সমস্যা তো আমাদের সমাজে আগেও ছিল, এখন মনে হচ্ছে আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। মাসুমা সাহস করে তার নিজের অভিজ্ঞতার কথা সুন্দর ভাষায় লিখে প্রমাণ করে দিলেন বিশেষত কর্মজীবী (সাথে একটু সুন্দরী হলে) মহিলা পুরুষ শ্রেণীর হাতে যৌন হয়রানির স্বীকার হচ্ছে, তবে তিনি যেভাবে সমস্যাটিকে দেখার চেষ্টা করেছেন আমি সেভাবে দেখি না। আমিও যেহেতু পেশায় আইনজীবী। এই বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবীদের কিছু আচরণ আমার চোখে পড়েছে।

প্রশ্ন করতে পারেন সেটা কেমন? বার কাউন্সিলের লাইসেন্স পাওয়ার আগে যে সিনিয়র আইনজীবীর কাছে শিক্ষানবিশের কাল কাটানোর জন্য ছিলাম, সেখানে দেখলাম তার পাশে এক সুন্দরী মহিলা আইনজীবী তার জুনিয়র আইনজীবী কাজ করছেন। আমার ওই সিনিয়র কোর্টে যাওয়ার সময় বাদ দিয়ে সারা দিন ওই জুনিয়র আইনজীবীর সাথে গল্পে মেতে থাকেন।

কী যে গল্প করেন? ভেবে পেতাম না। আমার দিকে তাকানোর বা খোঁজ করার কোনো সময় পর্যন্ত নেই। আমি যে তার কাছে ছিলাম- এটাই যেন তার সমস্যা ছিল। ইমটিমেশন পাঠিয়েছিলাম তাও অন্য সিনিয়রের স্বাক্ষরে। যা হোক, কিছু দিন পর কানাঘুষা শুনলাম আমার ওই শ্রদ্ধেয় সিনিয়রের বাড়িতে বউয়ের সাথে তুলকালাম গণ্ডগোল। বউ বেচারিও হুমকি দিয়েছে ওই মহিলা জুনিয়র আইনজীবী না সরালে সংসার ছারখার করে দেবেন।

পরে হুমকিতে কাজ হয়েছিল বলে ধারণা করতে পারি। কারণ, ওই জুনিয়র মহিলা আইনজীবী এতদিনে ট্র্যাক চেঞ্জ করে অন্য আইনজীবীর জুনিয়র আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। সেখানেও ওই আইনজীবীর বউও খুব নাখোশ। আমি পরে যে সিনিয়র মহিলা আইনজীবীর কাছে ছিলাম তার কাছে ওই আইনজীবীর বউকে অঝোর ধারায় কাঁদতে দেখেছি।

ওই মহিলাও কলেজের চাকরি ছাড়লেন। আইনের ডিগ্রি নিয়ে কোর্টে ঢুকলেন শুধু স্বামীকে রক্ষার জন্য। এ ক্ষেত্রে ওই জুনিয়র আইনজীবীর আচরণ কি সমালোচনার যোগ্য ছিল? অবশ্যই ছিল। কেবল পুরুষদের দোষারোপ করলে কি সবাই ধোয়া তুলসীর পাতা হয়ে যাবে। 


জনাবা মাসুমা নিবন্ধে হিলারির মনোবেদনার কথা উল্লেখ করেছেন। ওই অপরাধ যদি হিলারি করতেন তাহলে বিল ক্লিনটন তাকে ক্ষমা করতেন? জনাবা মাসুমা স্বীকার করেছেন হিলারি তার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। আমরা তো জানি হিলারি আমেরিকার একজন শীর্ষ আইনজীবী। তিনি কিভাবে মিথ্যাবাদী স্বামীকে সমর্থন করলেন যার জন্য স্বামীকে অভিসংশনের মুখোমুখি হতে হলো। মনিকার আইনজীবী তো .... হয়েছে।

তার রগরগে বর্ণনার কারণে। বলা বাহুল্য, বেয়াদব স্বামীকে সাপোর্ট দিয়ে রক্ষার কাজ ইসলাম সমর্থন করে না। একজন নারীর কারণে পুরুষেরাই কেবল নিন্দার ভাগী হবেন, এই ধ্যানধারণা পোষণ করা এক চক্ষু হরিণের মতো। সুতরাং নারীদের নিন্দার কাজ নারীরা হয়রানি বা নির্যাতন স্বীকার হচ্ছে না।

ইদানীং আমাদের রাজশাহী জজ কোর্টে যৌতুক বিরোধ আইনের মামলা ও নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের মামলা আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। সব মামলাই কি সত্যিকারের যৌতুক আর ধর্ষণের মামলা? মোটেও না। স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেছে, এই মনোরোগে যৌতুকের মামলা করছেন স্বামীকে শাস্তি দেয়ার জন্য। দ্বিতীয় বিয়ে করা (১ম স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া) এ দেশে দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু আইনজীবী বোঝাচ্ছেন স্বামীকে শাস্তি দেবেন- অতএব একটা যৌতুকের মামলায় ফেলে দিন। কারণ দ্বিতীয় বিয়ে করা অপরাধের মামলায় স্বামী শুরুতেই জামিন পেয়ে যাবেন। জেলে আটকে রাখা যাবে না।


মাসুমা ভুলে গেছেন শহীদ সাংবাদিক নিজামুদ্দীনের মেয়ে রীমার হত্যাকাণ্ডের পেছনে ছিলেন খুকু নামের একজন মহিলা। যদিও পরে উচ্চ আদালত তাকে খালাস দিয়েছিলেন। মনির তার শাস্তি পেলেও খুকুর কোনো শাস্তি হয়নি। কারণ তিনি প্রত্যক্ষভাবে রীমা হত্যার মামলায় জড়িত ছিলেন না। বলা বাহুল্য, আইনি ব্যাখ্যায় এটা ঠিক হতে পারে, মনোগত ব্যাখ্যায় কতখানি ঠিক তা অবশ্যই পর্যালোচনার দাবি রাখে।


তাই বলছিলাম পুরুষেরা কেবল নয়, নারীরাও তাদের স্বার্থের কারণে বিপদগামী হয়ে পড়ে। এসব নারীদের কথা পুরুষরা লিখতে পারে না। আমাদের খেয়াল থাকতে পারে এক স্কুলশিক্ষিকার হত্যা মামলায় একজন নামকরা মহিলা নাট্যকর্মীর নামে বেশ খবর ছড়িয়েছিল। বেচারা পুরুষ এখন অবধি জেলে আছেন। বাংলাদেশের একজন খ্যাতনামা নাট্যকর্মীর ভাইও বটে।


তাই বলছিলাম মাসুমা বিষয়টিকে একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার পাওয়ার জন্য আমাদের অবশ্যই লড়াই করতে হবে। কারণ, নারীরা যখন কর্মক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়েছে তাদের সমস্যা তাদেরই মোকাবেলা করতে হবে। মহিলা গার্মেন্ট কর্মীদের শালীনভাবে চলাফেরা ও মাথায় কাপড় দেয়ার উপদেশের জন্য আমিনুল ইসলাম নামে একজন শ্রমিক নেতাকে অকালে প্রাণ দিতে হয়েছে। এই হত্যার বিচারে পৃথিবীর কোনো আদালতে পাওয়া যাবে না। অবশ্যই এই সামাজিক সমস্যা সমাধানে পুরুষদেরও অংশগ্রহণ থাকতে হবে। তবে কিছু কুলাঙ্গার পুরুষ তো সব সময় থাকেই। তিনি যে কর্মক্ষেত্রে আছেন, সেখানেই তৃতীয় নয়ন মেললেই অনায়াসে এই ধরনের অনেক ঘটনা তার চোখে পড়বে।

আর রাজনীতিতে কেবল পুরুষই শুধু নয় নারীরাও ক্রমান্বয়ে জড়িয়ে যাচ্ছেন। সেখানেও নানা কেলেঙ্কারির কথা কানে আসে। সব কিছু প্রকাশ করতে গেলে সমাজে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাবে। নারী কেলেঙ্কারির পরও বিল ক্লিনটন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে টিকে গেলেন। আর ডোনাল ট্রাম্পের কথা নাই বললাম। শেষমেষ অ্যাডভোকেট মাসুমাকে ধন্যবাদ বিষয়টি আমাদের নজরে আনার জন্য। 


লেখক : অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, রাজশাহী

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.