যার ভাবনা যত সুন্দর তার জীবনও তত সুন্দর
যার ভাবনা যত সুন্দর তার জীবনও তত সুন্দর

যার ভাবনা যত সুন্দর তার জীবনও তত সুন্দর

আনিসুর রহমান এরশাদ

আপনি যদি সবাইকে খুশি রাখতে চান, তবে আপনি দ্রুতই বিগলিত হবেন। যদি নিজেকে সব সময় সফল ও সুখি দেখতে চান, তবে তীব্র আবেগপ্রবণ হবেন। শুধু নিজে পাওয়া আর ভোগে নয়, অন্যের জন্য ত্যাগেও  সুখি হওয়া যায়। আপনি যদি অন্যের সিদ্ধান্ত দ্বারাই প্রভাবিত হন, মান-অভিমান-জড়তা কাটিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানাতে না পারেন তবে আপনার ভেতরের চিন্তাধারা -স্বপ্ন কখনো আলোর মুখ দেখবে না। নিজের মস্তিষ্ক ব্যবহার করে যিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না তার পক্ষে প্রকৃত স্বাধীন-মুক্ত জীবন যাপন করা সম্ভব হয় না। ভাবনার জগৎ সুন্দর হলে কর্মও সুন্দর হবে। ভাবনার ও চিন্তার জগৎপরিচ্ছন্ন করতে হবে। যার ভাবনা যত সুন্দর তার জীবনও তত সুন্দর।

শান্তির পথ হচ্ছে সার্থকতার পথ, যেকোনো উপায়ে সাফল্য অর্জনের পথ নয়। আপনার চিন্তা-স্বপ্নের জগৎ যত বড় হবে; আপনার ভাবনা তত ব্যাপকতা লাভ করবে, অনুভূতি তত সুন্দর হবে, অনুভব তত সুক্ষ্ন হবে। আপনি সময় অপচয় করবেন নাকি কাজে লাগাবেন তার উপর নির্ভর করবে আপনার জীবন কতটা অর্থবহ হবে। আপনি যদি জড়তা কাটাতে না পারেন, মানসিক দৃঢ়তা অর্জন না করেন, স্বপ্নকে প্রত্যাশায় রূপ দিতে না পারেন তবে আপনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন না। আপনার পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আপনার বোঝাপড়া-দূরদৃষ্টির উপর। গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে চিন্তা-ভাবনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক নয়, হুটহাট করে নেয়া একটি ভুল সিদ্ধান্ত আপনাকে অনেক পিছিয়ে দিতে পারে। অসফল ব্যক্তিরাই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

যে কাজ করবেন তাতে ভালো বোধ করাটা জরুরি। আপনার ইতিবাচক ভাবনা আপনাকে এমনভাবে আকর্ষণ করবে যে আপনি আরো ভালো বোধ করবেন, জীবন উন্নততর জায়গায় চলে যাবে। মন খারাপ হলে গান শুনুন, শিশুর কথা ভাবুন, সুন্দর জিনিসের সাথে মিলিয়ে দেখুন, সৃষ্টির রহস্য ভাবুন, প্রকৃতির সৌন্দর্য নিয়ে ভাবুন, বাবা-মার কথা চিন্তা করুন- আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। খারাপ চিন্তা-ভাবনা পরিবর্তন করে খারাপ লাগা এড়ানো যায়। লোকে কী বলছে সেই ভাবনা থেকে সরে আসুন; নতুবা আপনি আপনার সেরাটা দিতে পারবেন না, ভালোটা অনুভব করতে পারবেন না। আপনার অনুভূতি আপনার অবস্থা ব্যাখ্যা করে। আজকের ভাবনাই আপনার আগামী দিন গড়বে, বর্তমানের ভাবনাই ভবিষ্যত সৃজন করে।

ভাবনা সুন্দর হলে আপনি আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব হবেন। একইসাথে ভালো ও খারাপ ভাবনা সম্ভব হয় না। ভালো চিন্তা ও খারাপ চিন্তা কখনো একসাথে অবস্থান করে না। আপনাকে সংকল্প নিতে হবে-আমি কখনো খারাপ ভাবনায় তাড়িত হব না, আমি ভালো ভাবনা ভাবছি, আমি সবসময় ভালো ভাবনায় তাড়িত হব ইত্যাদি। আপনি স্বপ্ন দেখলে সে স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন এমন বিশ্বাসও থাকতে হবে। বিশ্বাস না করলে ফলাফল আসবে না। স্বপ্নকে বিশ্বাস করতে হবে, স্বপ্ন বুকে নিয়ে পথ চলতে হবে। সবার অট্টহাসি বিলিন হবে আপনার অর্জনের মাধ্যমে। বলবেন না আমি পারব না, আমার দ্বারা হবে না। আপনি তাদের দলের হবেন না যারা কোনো কিছু আশা করে না, কাউকে বিশ্বাস করে না, কাউকে নিজের আদর্শ মনে করে না, সমস্যায় ভীত হয়ে সমাধানের পথ খুঁজে না, আত্মতৃপ্তিতে ভোগে, অহমিকা দেখায়, পরিকল্পনা করে না, সঙ্কট থেকে উত্তরণে যতটুকু প্রচেষ্টা চালানো উচিত তা করেন না।

যে নিজের অন্তরাত্মার সুর শুনেনি, নিজেকে জানার চেষ্টাও করেনি, নিজের কর্মফলে বিশ্বাসও করেনি, অলৌকিক ঘটনার ওপর বিশ্বাস করেছে, আদশের্র অস্তিত্বের ওপর বিশ্বাস করেনি, সমস্যাকে মোকাবেলা না করে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছে- তারপক্ষে আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। অবশ্যই সমস্যার সমাধানের জন্য আগে সমস্যাকে স্বীকার করতে হবে। পরিশ্রমী ও কর্মঠরাই প্রতিনিয়ত দেখানোর চেষ্টা করতে পারে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত এক নয়। যার সমস্যাকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা আছে, ঝুঁকি গ্রহণের সাহস আছে, বিপদে ধৈর্য ধারণের শক্তি আছে সে এগিয়ে যাবেই। হীন ভাবনা শেষ করে ফেলুন, হীনমন্যতা দূর করুন, আমি কারো চেয়ে কম নই ভাবুন তবে নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাববেন না। জয়ের জন্য নিজেকে তৈরি করুন; থেমে যাবেন না, হতাশ হবেন না। ক্লান্তি যেন আপনার শরীর- মনে বাসা না বাধে সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।

কিছু মানুষ আছে যারা নিজেরা হতাশ, তাদের সাথে কথা বললে অন্যরাও হতাশ হয়। যারা অন্যের মাঝে আশা না জাগিয়ে হতাশা ছড়িয়ে বেড়ায় তারা বিপদজনক। স্বপ্ন পূরণের পথ অজুহাত দেখানোর পথ নয়, সমস্যাকে বড় করে দেখার কিছু নয়। জীবনে চলার পথে জাগতিক সফলতার পথে দাঁড়ানোই সব নয়। ‍অন্যের স্বপ্নপূরণে কাজ করা, অন্যের সিদ্ধান্তের কাছে বলিদান করা, অন্যের ভালোলাগার কাছে নিজের ব্যক্তিত্ব বিকিয়ে দেয়ার নামই ক্যারিয়ার নয়। অন্যের সিদ্ধান্তে বিচলিত হবেন না, মানুষ চিনতে ভুল করবেন না। প্রথমে ভালোবাসতে হয় নিজেকে, হৃদয়ের সুরে সুরারোপ করতে হয়, চলার পথে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মুক্ত হতে হয়। যথার্থ ও ইতিবাচক চিন্তা হলে সুফল আসবেই।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.