অনুসন্ধানসেবা থেকে শপিং আলাদা করছে গুগল

গুগলের নিজস্ব কম্প্যারিজন-শপিং সার্ভিসের মাধ্যমে অনুসন্ধান ফলাফলে কারসাজি করায় ইউরোপে রেকর্ড পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে গুগলকে। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সার্চসেবা থেকে শপিং ব্যবসাকে আলাদা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। ইইউর অ্যান্টি-ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রকদের সন্তুষ্ট করতে এবং ভবিষ্যতে জরিমানা এড়াতে গুগল এ পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। বর্তমানে শপিং ইউনিট সার্চের অংশ হিসেবে থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এ ইউনিটটি গুগলের অংশ হিসেবে থাকবে। অর্থাৎ এটি গুগলের সার্চ ব্যবসার সাথে একীভূত হবে না।
চলতি বছরের জুন মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অ্যান্টি-ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ শপিংসেবায় সার্চের ফলাফলে গুগলের পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে ২৪০ কোটি ইউরো বা ২৭০ কোটি ডলার জরিমানা করে। ইইউ কর্তৃপক্ষ জরিমানার এ অর্থ পরিশোধের জন্য গুগলকে ৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে আরো জরিমানার হুমকি দেয়া হয়।
গুগল ইইউর এমন সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। গুগল সম্প্রতি ইইউর অ্যান্টি-ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লুক্সেমবার্গে অবস্থিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের সর্বোচ্চ আদালত ‘কোর্ট অব জাস্টিস অব দ্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (সিজেইইউ)’ এ আপিল করেছে। গুগলের এ আপিলের মধ্যদিয়ে ব্রাসেলস ও ইন্টারনেট জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। জরিমানা আরোপের কারণে এরই মধ্যে ইউরোপের সাথে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিটির সম্পর্কের অবনতি লক্ষ করা গেছে এবং তা আরো খারাপের দিকে যেতে পারে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছে। আদালতে গুগলের আপিলের অর্থ এই নয়, জরিমানার সিদ্ধান্তটি বাতিল হয়ে গেছে বরং মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি এখনো জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য। গুগল প্রতি বছর যে পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে তার বেশির ভাগই আসে বিজ্ঞাপন খাত থেকে। ইইউর অভিযোগ সঠিক নয় বলে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করছে। অনলাইন কেনাকাটার বাস্তবতার সাথে ইইউর দাবি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে গুগল মনে করে। এর আগে ইইউ কমিশন বাজার-আধিপত্যের অপব্যবহার করায় ২০০৯ সালে ইন্টেল করপোরেশনকে ১১৮ কোটি ডলার জরিমানা করেছিল। গুগল ব্যবসায়িক ওয়েবসাইটগুলো বিভিন্নভাবে পৌঁছে থাকে। যেমনÑ সাধারণ সার্চ ইঞ্জিন, বিশেষায়িত সার্চ ইঞ্জিন, ব্যবসায়িক প্লাটফর্ম, সামাজিক মাধ্যম সাইট ও বিভিন্ন কোম্পানির অনলাইন বিজ্ঞাপন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.