শরতের চিঠি

আহমদ মেহেদী

প্রিয়তম, তুমি কেমন আছ? তোমার স্বাস্থ্য ভালো তো? কত দিন পর তোমাকে লিখতে বসেছি। জানি আমার ওপর অভিমান করে আছ খুব কিন্তু তুমি তো সবই জানোÑ আমার বিয়ের পর তোমার সাথে যোগাযোগের অনেক চেষ্টা করেছি। তোমার আগের নাম্বারে কয়েক দিন পরপরই কল দিতাম। তা এখনো দেই কিন্তু তা বন্ধ করে রেখেছ। তুমি নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারবে সেটা আমি জানিÑ এটা ভাবিনি যে এত আড়ালে চলে যাবে তুমি। আমি হেরে গেছি আবারো তোমার কাছে, তোমার ভালোবাসার কাছে। একটা অনুমান করি যদিও আমার অনুমান সত্যি হয়Ñ ‘তুমি এখনো ভোরের আলো এবং শরতে রাতের নিকষ কালো আঁধারে আমাকে খুঁজে বেড়াও’। এখনো কি আমার পছন্দমতো চুল-দাড়ি কাটো? আমার পছন্দের পেস্ট কালার লং শার্ট পরো? এখনো কি আমার জন্মদিনে ফতুয়া পরে বাইক চালাও? শুনেছি তুমি নাকি অতিরিক্ত সিগারেট খাও, নার্গিসের কাছে শুনলাম আরো কত কী। অবশ্য তার কথা আমি বিশ^াস করিনি। কখনো আর করবও না। তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর আর কারো সাথে আমার তেমন সখ্যতা নেইÑ ইচ্ছাও নেই। আচ্ছা তুমি কি একদিন আমার শ্বশুরবাড়ির কাছে এসেছিলে? আমার শুধু কেন জানি মনে হয়েছে তুমি এসেছিলে। এসেই যদি থাক তুমি একটিবার আমাকে দেখে গেলে না। আমি তো বিশাল অট্টালিকার ভেতরে শুক্রবার ছাড়া প্রায় একাই থাকি। ভালো কথা, আমার মেয়ের কথা তোমায় বলাই হয়নি। তার নাম কী রেখেছি জানো? ‘মেহেরীন’। তুমিই একদিন বলেছিলে আমার মেয়ে হলে তুমি নাম রাখবে। মেহেরীনকে পড়াই আর তার সাথেই দুষ্টামি করে দিনরাত কেটে যায় আমার। তোমার মতো কথা বলে কম, রাগ বেশি। যাই হোক, আগামী সপ্তাহে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে যাব। কত দিন তোমায় দেখিনি, তুমি কী করছ? কই থাক কিছুই জানি না। তোমাকে একটি বার শুধু দেখতে চাই, তোমার চোখের রাগী-ভালোবাসাটুকু দেখব। প্লিজ, তুমি আমাকে আর কষ্ট দিও না কেমন। মনে থাকে যেন ১০ অক্টোবর, রাত ১১টায়! আমাদের ছাদের বাগানে। ভালো থেকো, মেহেরীনের জন্য খিচুড়ি রান্না করব এখন। ইতি-ছঁববহ ড়ভ ুড়ঁৎ যবধৎঃ.
সাহিদার চিঠি পেয়ে সব কিছুই কেমন জানি এলোমেলো লাগছে আমার, কাজে মন বসাতে পারছি না। অফিস থেকে দুই দিন ছুটি নিলাম আর ওই দিনের জন্য ছটফট করতে লাগলাম।
১১টা বাজতে ১৫ মিনিট বাকি। আমি মসজিদের কাছেই রিকশা থেকে নেমে পড়লাম। শরতের মিটমিট জোসনা আছে আজ। ছাদের ফুল গাছের কারণে একপাশ অন্ধকার। অন্ধকারেও সাহিদার ছাদে দাঁড়ানোর দৃশ্য দেখছি। ওপরে উঠতে না উঠতেই সে আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। নিজেকেও সামলাতে পারিনি, দু’জনের চোখের জলে জোছনার আলো কেন জানি ধীরে ধীরে কমতে থাকে সে দিন।
নোয়াগাঁও, দেবীদ্বার, কুমিল্লা।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.