ঢাকার কাছেই মুন্সীগঞ্জের আড়িয়াল বিল

অনলাইন ডেস্ক

২৬০ বর্গমাইল এলাকায় এক লাখ ৬৬ হাজার একর জমি। যার পুরোটাই শষ্যক্ষেত্র, জলাশয় আর জনবসতি। যেখানে এক টুকরা জমিও অনাবাদি নয়। শ্রীনগর এলাকার মূল সৌন্দর্য এখানকার দোচালা-চৌচালা সব টিনের ঘর ও বাড়ি। পাটাতন দেয়া সেসব বাড়ির চাল সৌন্দর্যে অসাধারণ। চাইলে এসব বাড়ি সরিয়ে নেয়া যায়। এখানকার আরেক সৌন্দর্য বর্ষা মওসুমে প্রতিটি বাড়ির সীমানায় কোষা ও ডিঙ্গি নৌকার বহর দাঁড়িয়ে থাকা। এসব ছোট্ট কোষা ও ডিঙ্গি নৌকা বাড়ির লোকজনের পারাপারের জন্য ব্যবহৃত হয়। রাজধানী থেকে মাওয়া যাওয়ার পথে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর নেমে পৌঁছে যাওয়া যায় এই জলাভূমিতে। এক দিনের ভ্রমণ গন্তব্যে সবুজ আর পানি দুই সৌন্দর্যই উপভোগ করা যায়।

আমরা দুই বন্ধু খুব ভোরে গুলিস্তান থেকে বাসে উঠলাম। আর এক বন্ধু রুবেল শ্রীনগরেই থাকে। রুবেল ভেজবাজারে আগে থেকেই ট্রলার ঠিক করে রেখেছিল। উঠে পড়তেই ট্রলার ছেড়ে দিলো মাঝি। চোখের সামনে ঢেউহীন এক পানির রাজ্য। টলটলে জল-জঙ্গলে মাথাচাড়া দিয়েছে শাপলা ফুল।
হঠাৎ করেই বৃষ্টি এসে গেল। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মাথায় ঢুুকে পড়ি কচুরিপানার জঙ্গলে। আরেকটা বাঁক নিতেই শাপলা ফুলের অরণ্যে গিয়ে পড়ি। মারিয়া বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্যামেরা বের করে ফটাফট ছবি তুলে চলে শাপলা ফুলের।

এলোমেলো জলপথ পাড়ি দিতেই সামনে পড়ল টলটলে পানি। জলে নামতে উসখুশ করছিল আমাদের বন্ধু রুবেলের। সাঁতার না জানায় লাইফজ্যাকেট সাথেই নিয়ে এসেছিলাম। বিলম্ব না করে পরে নেমে পড়লাম। সে এক অন্যরকম প্রশান্তি আড়িয়াল বিলের পানিতে।

এতক্ষণে ক্ষুধা পেয়েছে বেশ। আবার শ্রীনগর ফিরে চললাম। বন্ধুর বাসায় দায়াত। বাসায় জামাকাপড় পাল্টে খেতে বসতেই দেখি সরষে ইলিশ। তবে আমাদের মতো বন্ধু ভাগ্য কপালে না থাকলে খেতে চাইলে মাওয়া ঘাটেই খেতে পারেন। সাথে করে খাবার নিয়েও যেতে পারেন। তবে হাঁসাড়া বাজার দিয়ে গেলে সকালের নাশতাটা সেরে নিতে পারবেন। পরোটা-ভাজির নাশতা বেশ সুস্বাদুও। সাথে রসগোল্লার স্বাদ জিহ্বাতে লেগে থাকবে নিঃসন্দেহে।

কিভাবে যাবেন :
ঢাকা থেকে আড়িয়াল বিলে এক দিনেই ঘুরে আসা যায়। ঢাকার গুলিস্তান থেকে ‘ইলিশ’ গাড়িতে করে মাওয়া ফেরিঘাটের দিকে রওনা দেবেন। মাঝপথে শ্রীনগরের ভেজবাজারে নেমে পড়বেন। এ ছাড়াও শ্রীনগরের বালাসুর বাজারেও নামতে পারেন। এখান থেকে আড়িয়াল বিলে প্রবেশ করতে পারবেন। ভালো একটা ট্রলার ভাড়া নিয়ে বিল ঘোরা যায়। গুলিস্তান থেকে বাসে ভাড়া ৫০ টাকা। এ পথের ভালো বাস ‘ইলিশ’ পরিবহন ও বিআরটিসি। আড়িয়াল বিলে বেড়িয়ে আবার গাদিঘাটে এসে ফেরার রিকশা পাবেন। তিন-চার ঘণ্টার জন্য ট্রলার ভাড়া নেবে পাঁচ থেকে সাত শ’ টাকা। আর সারাদিনের জন্য ১৫ শ’ টাকা।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.