প্রত্যাশার চাপ নয়

নিপা আহমেদ

সন্তানকে নিয়ে সব বাবা-মায়ের কিছু স্বপ্ন বা প্রত্যাশা থাকে। পড়াশোনায় ভালো হবে, খেলাধুলায় হবে তুখোড়, গানবাজনায় পারদর্শী হতে হবে, সেই সাথে সন্তান হবে শান্তভদ্র, কোনো দুষ্টুমি করবে না ইত্যাদি। কখনো কখনো বাবা-মায়ের প্রত্যাশার চাপ সামলানো ছোট শিশুদের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রভাব পড়ে তাদের মনের ওপর। প্রতিযোগিতা শিশুদের লড়াই করতে শেখায় ঠিকই, তবে অবশ্যই প্রয়োজন সঠিক ভারসাম্য।
নিজের সন্তানের সাফল্য সব বাবা-মা চান, কিন্তু তার জন্য সবার আগে শিশুকে বুঝতে হবে। সব মানসিকতা, দক্ষতা একরকম হয় না। অতিরিক্ত চাপ কখনো তাদের অবসাদগ্রস্ত করে তুলতে পারে। সেই সাথে তারা আগ্রহও হারিয়ে ফেলতে পারে। শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য কিছু বিষয় লক্ষ রাখা প্রয়োজন।
যে কাজটা করতে ভালো লাগে শিশুকে তা-ই করতে দিন। এটা বুঝতে হবে যে, সব শিশু একরকম মেধাবী হয় না। তাই পড়ালেখা বা খেলাধুলায় একই রকম তুখোড় সবাই নাও হতে পারে। কেউ ক্রিকেটে ভালো হতে পারে আবার কেউ হয়তো ভালো সাঁতার দিতে পারে। শিশু যে কাজটা ভালোবেসে করে, তাকে সেটা করতেই উৎসাহ দিন। পড়ালেখার ক্ষেত্রেও জোর না করে বরং শিশুকে পড়ালেখার প্রতি আগ্রহী করে তুলুন। যেন সে নিজেই পড়তে পছন্দ করে। সে ক্ষেত্রে তাকে অভিভাবকেরা সাহায্য করতে পারেন।
ষ শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নিয়ম ও সময় অনুসারে কাজ করতে শেখান। নিয়ম করে সব কাজ করতে শেখালে শিশু মানসিকভাবে সেসব কাজ করার জন্য প্রস্তুত হবে। ফলে তার মধ্যে আগ্রহও সৃষ্টি হবে।
ষ প্রতিযোগিতা মানেই যে শুধু হারজিৎ নয় সে বিষয়টি শিশুকে শেখান। বরং আসল উদ্দেশ্য কোনো কিছু শেখা, অন্যের সাথে শেয়ার করা। তাকে শেখান তার চেষ্টায় যেন কোনো ত্রুটি না থাকে। সেটা পড়ালেখার ক্ষেত্রে হোক অথবা অন্য কোনো প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায়। যেকোনো প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই ফলাফলের ওপর বেশি জোর দিয়ে থাকেন অভিভাবকেরা। এটা শিশুর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তখন প্রতিযোগিতা উপভোগ করার বদলে ভীতির সৃষ্টির হবে তার মধ্যে। সন্তানকে শেখান, ও যতটুকু পারে ততটুকু নিয়েই আপনারা সন্তুষ্ট। সেই সাথে তাকেও প্রতিযোগিতার ফলাফল সহজভাবে মেনে নিতে শেখান। তার ভুল থেকে যেন পরে নতুন করে শিখতে পারে, সেই শিক্ষাই ওকে দিন। আপনি নিজেই ওকে ছোটখাটো উপহার দিন যেন সে উৎসাহী হয়।
ষ প্রত্যেক শিশুর সহজাত কিছু গুণ থাকে। সেগুলো চেনার চেষ্টা করুন। সন্তানের পজিটিভ এনার্জি যাতে সঠিক পথে পরিচালিত হয় সেদিকে লক্ষ রাখার দায়িত্ব কিন্তু বাবা-মায়ের। এর জন্য সন্তানের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটানো দরকার। বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক যদি বন্ধুত্বপূর্ণ হয় তাহলে সহজেই তারা তাদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবে। বাবা-মায়ের গাইডেন্স শিশুকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।
ষ কথায় কথায় শিশুকে অন্যের সাথে তুলনা করবেন না। এতে ওরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে। তাই অন্যের সাথে তুলনা না করে শিশুকে তার মতো করে কাজ করতে শেখান। তার মতো করে উৎসাহী করুন কাজ করতে। শিশুর জন্য একটা লক্ষ্য স্থির করে দিন। তাহলে ওর ব্যক্তিত্বের একটা বিশেষ দিক উন্মুক্ত হবে, সে আত্মবিশ্বাসের সাথে ওর পছন্দের বিষয় চর্চা করতে পারবে।
ষ শিশুকে বুঝতে হবে। শিশুকে বুঝে তারপর তার সাথে অভিভাবকেরা তাদের নিজেদের প্রত্যাশাগুলো যোগ করবেন; তবে সন্তানের শেখাটা সঠিক হবে ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.