টাকায় মিলছে পুলিশ সার্টিফিকেট
টাকায় মিলছে পুলিশ সার্টিফিকেট

ভুয়া ‘পুলিশ কিয়ারেন্স’ সার্টিফিকেটের রমরমা ব্যবসা

৫৮ জেলার এসপি ৫৯ থানার ওসির সিলসহ গ্রেফতার ৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

খুব সহজেই মিলছে ভুয়া পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। সাধারণ মানুষকে হয়রানির ভয় দেখিয়ে, বিভিন্ন কৌশলে জাল পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের রমরমা ব্যবসা করছে একটি চক্র। পুলিশের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা ছাড়াই জালিয়াতির মাধ্যমে চক্রটি জাল পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে প্রতারণার শিকার হচ্ছে বিদেশগামী সাধারণ মানুষ। গোয়েন্দাদের দাবি, চক্রটি দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের নেয়া পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট যাচাই-বাছাই করার মতো থার্ড কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায়, সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

এমন একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে রাজধানীর ফকিরাপুল থেকে গত বুধবার মধ্যরাতে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিরিয়াস ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের একটি টিম। গ্রেফতারকৃতরা হলো- আব্দুল বারিক, মোহাম্মদ আলী, সাব্বির হোসেন, শহিদুল হক নিজাম ও মোরশেদ ভূঁইয়া। তাদের কাছ থেকে বিপুল জাল পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট (পিসিসি) ও নকল সিলসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, বিদেশ গমনে ইচ্ছুক নাগরিকদের প্রয়োজনে দেয়া হয় পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। থানা ও জেলা পুলিশ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া যেত ওই পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। কিন্তু ওই চক্রটি থানা জেলার ওসি এসপিদের সিল নকল করে দীর্ঘ দিন ধরে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

গতকাল দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন বলেন, বুধবার রাতে ফকিরাপুলের কোমর গলির হাসেম আলীর বাড়ি থেকে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ৫৮ জেলার এসপি, ৫৯ থানার ওসির নকল ৫৭৭টি সিলসহ এক হাজার ৪৫০টি জাল পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ও বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়। উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে সুক্ষ্মভাবে পুলিশ কিয়ারেন্সের জাল সার্টিফিকেট বিভিন্ন মাধ্যমে ট্রাভেল এজেন্সিতে সরবরাহ করার জন্য তৈরি ও মজুদ করেছিল।

তিনি বলেন, পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট রাষ্ট্রের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সনদপত্র। বিদেশ যাওয়ার পর ওই দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ব্যক্তির চরিত্র সম্পর্কে জানতে পারে। কিছু অসাধু ট্রাভেল এজেন্সি বিদেশে পাঠানোর েেত্র চুক্তির মাধ্যমে জাল পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট করে থাকে। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট প্রদানের নাম করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে কোনো হয়রানি হতে হয় না। সার্টিফিকেট পেতে সরকারি খাতে ৫০০ টাকা ব্যাংকে জমা দিয়ে টাকার রশিদসহ পুলিশ সুপারের অফিস বরাবর আবেদন করতে হবে। তারপর নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আবেদনকারী সার্টিফিকেট পেয়ে যায়।

যারা বিদেশে যাচ্ছেন তারা আসল নাকি ভুয়া পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে যাচ্ছেন তা ভেরিফিকেশন হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভেরিফিকেশন করেই পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেয়। তবে ভুয়া কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট দেখার জন্য থার্ড কোনো কর্তৃপ নেই। বিদেশে যাওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে যায়।

তিনি বলেন, এ সার্টিফিকেটের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, এতে একটি কিউআর কোড প্রিন্ট করা থাকে। যেকোনো স্মার্টফোন থেকে কিউআর কোড স্ক্যানার অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে কোডটি স্ক্যান করলে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটের একটি অনলাইন লিংক পাওয়া যায়। যেকোনো ইন্টারনেট ব্রাউজার ব্যবহার করে লিংকটি ভিজিট করলে ইস্যুকৃত সার্টিফিকেটের একটি অবিকল ডিজিটাল কপি কম্পিউটারে দেখা যাবে। কোনো বিদেশী মিশন অনলাইনে পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট যাচাই করতে পারবে।

ভুয়া পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিয়ে তবে অনেকেই বিদেশে যাচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভুয়া সার্টিফিকেট যেহেতু মিলছে। সেহেতু যেতে পারে। ভুয়া পুলিশ কিয়ারেন্স প্রাপ্তির বিষয়টি বিদেশে ধরা পড়া বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ ভুয়া পুলিশ কিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের বিষয়ে অভিযোগ করেননি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.