শ্রমিক সমাবেশে নেতৃবৃন্দ

অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক

অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের জন্য রেশন চালুর দাবি করেছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

তারা বলেছেন, পাঁচ হাজার তিনশ’ টাকা মজুরির শ্রমিক তো দূরের কথা মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষে বর্তমান বাজারে টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালসহ জিনিসপত্রের চরম দাম বৃদ্ধির কারণে শ্রমিক জনতা আজ দিশেহারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গার্মেন্ট শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মন্টু ঘোষের সভাপতিত্বে এবং মঞ্জুর মঈনের পরিচালনায় সমাবেশে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।

চালসহ জিনিসপত্রের দাম চরম বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতিবাদে, অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণা, শ্রম আইন ও বিধিমালার সব শ্রমিকবিরোধী ধারা বাতিলসহ বিভিন্ন দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, যারা ১০ টাকা দামে চাল খাওয়ানোর অঙ্গীকার করে ক্ষমতায় এসেছে, তাদের শাসন আমলে আজ চালের দাম ইতিহাসের সব দৃষ্টান্ত অতিক্রম করে সর্বোচ্চ। মানুষের জীবনকে যারা দুর্বিসহ করে তুলেছে কৃতকর্মের ফল তাদের ভোগ করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, সমাজের উৎপাদনশীল শ্রমিকরা রেশন পাবার প্রথম হকদার। অবিলম্বে বাজার নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এই দুর্মূল্যের বাজারে সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩ সালে যখন চালের কেজি ২৮ টাকা ছিল, তখন গার্মেন্ট শ্রমিকদের মোট নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয় পাঁচ হাজার তিনশ’ টাকা। বর্তমানে বাজারে ৬০ টাকার নিচে চাল পাওয়া যায় না, বাড়ি ভাড়া, অন্যান্য ব্যায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না। উপরন্তু শ্রমিকরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি তুললে তাদের উপর নির্মম নির্যাতন নেমে আসে।

নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিম্নতম মূল মজুরি ১০ হাজার টাকা এবং নিম্নতম মোট মজুরি ১৬ হাজার টাকা ঘোষণার দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তারা আরো বলেন, শ্রম আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অতীতের অভিজ্ঞতা হলো যতবার সংশোধন হয়েছে শ্রম আইন ততই প্রতিক্রিয়াশীল, নির্যাতনমূলক এবং শ্রমিক বিদ্বেষী রূপ ধারণ করেছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩০ লাখ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি হলো ব্রিটিশ ও পাকিস্তানী শাসনের শ্রম আইনের চাইতেও প্রতিক্রিয়াশীল আইন ও বিধিমালা এদেশের শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কার্যকরি সভাপতি কাজী রুহুল আমীন, সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা সাদেকুর রহমান শামীম, জিয়াউল কবির খোকন, দুলাল সাহা, এম এ শাহীন, সাইফুল আল মামুন, শফিকুল ইসলাম, রাজু আহমেদ প্রমুখ।

সমাবেশে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

অক্টোবর মাস জুড়ে সব গার্মেন্ট শিল্পাঞ্চলে মিছিল, সমাবেশ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময়ে চার দফা দাবির সমর্থনে ব্যাপক ভিত্তিতে প্রচার অভিযান পরিচালিত হবে।

আগামী ১৩ অক্টোবর ২০১৭ ‘গণতান্ত্রিক শ্রম আইন ও বিধিমালা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ঢাকায় বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরির গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.