মেঘ ও চিল

মির্জা আদিপ

একদিন আকাশে মেঘেদের খেলা চলছিল। যেমন তেমন খেলা নয়, একেবারে জম্পেশ খেলা। মেঘেরা প্রবল বেগে ছুটছে আর হঠাৎ করে সামনে থেকে মেঘ কত থেমে যাচ্ছে। আর তখনই সামনের মেঘের সাথে পেছনের মেঘের তুমুল সংঘর্ষ হলে সব মেঘ একেবারে হেসেই খুন হচ্ছে। আবার তারা রঙ বদলানোর খেলায় মেতে উঠছে। এক দিকের মেঘ কালো হচ্ছে, আরেক দিক সাদা হয়ে যাচ্ছে, আবার কিছু হয়তো নীল হয়ে উড়ছে। মাঝে মধ্যে মেঘেরা গোলাকার বৃত্তের মতো হচ্ছে, আবার চতুর্ভুজাকার হয়ে ছুটছে। কখনো কখনো দেখে মনে হচ্ছিল মেঘেরা একটা বিরাট বাড়ি তৈরি করছে। আবার মুহূর্তেই সেগুলো হয়ে যায় যেন পাহাড়ের গুহার মতো। শুধু তা-ই নয়, মেঘেরা আবার মানুষের মূর্তি বানিয়ে ফেলছে। সেই সময় নদীর জলে একটা চিল দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে এসব কাণ্ড দেখছিল। তারও মেঘেদের সাথে খেলা করতে ভীষণ ইচ্ছা করছিল। কিন্তু মনে মনে ভয় হচ্ছিল তাদের কাছে গেলে শেষে আবার না পুরো খেলাটাই বন্ধ হয়ে যায়। তার চেয়ে বরং নিচে থেকে মজা পাচ্ছি সেটাই ঢের ভালো। যাই ভাবুক চিলের মনটা কিন্তু ওপরে যাওয়ার জন্য খচখচ করছিল। মেঘেরাও চিলের মনের কথা বুঝে ফেলল। আর তাই তাকে ইশারা করে ওপরে যেতে বলল। এবার চিলের খুশি দেখে কে। এক নিমিষে উড়ে গেল মেঘেদের কাছে। মেঘেরা বলল, কী, আমাদের সাথে খেলতে চাও? তবে এসো দেখি কেমন ছুটতে পারো। বলেই তারা লক্ষ মাইল বেগে ছুটে চলল। ওমা, এ তো চিলের কম্ম নয়! সে একটু ছুটেই অস্থির হয়ে গেল। এবার মেঘেরা থেমে গেল। চিলকে বলল, এসো আমাদের মাঝে তোমাকে ভিজিয়ে দিই। দেখবে সব ক্লান্তি কোথায় হারিয়ে যাবে। চিলটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। হঠাৎ মেঘেরা দেখে নিচে কিছু দুষ্ট ছেলে একটা খরগোশ ছানাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আহা ছানাটা আর পারছে না। আরেকটু হলে ধরাই খেয়ে যাবে। দুষ্টগুলো ধরেই সেটা খাঁচায় পুড়বে। মেঘেরা তখন চিলকে বলল, যাও ওই দুষ্ট ছেলেদের একটা ধাওয়া দিয়ে এসো। দেখতে পাচ্ছ না খরগোশ ছানাটা কেমন বিপদে পড়েছে। চিল তাকিয়ে দেখে সত্যিই দুষ্টগুলো ছানাটার কী হাল করছে। চিলটা তখনই এসে ছেলেগুলোকে দাবড়ানি দিয়ে তাড়িয়ে দিলো। তার পর সেই খরগোশ ছানাটিকে তার বাসায় নিয়ে পৌঁছে দিলো। এবার ছুটল মেঘেদের কাছে। তারা তার জন্য বেশি দূর যায়নি। খুশি হয়ে চিলকে বলল, চলো তোমাকে আমাদের তৈরী ঘরের ভেতরে নিয়ে যাই। মেঘের ঘরে ঢুকে চিলের সে কী আনন্দ। কিন্তু যখন সে বেশি ভিজে যাওয়ার অবস্থা হলো তখনই মেঘেরা ঘর ভেঙে দিলো। আবার ছুটতে লাগল সবাই। এবারে তারা চিলটাকে সামনে দিয়ে নিজেরা পেছন পেছন ছুটল। কিছু সময়ের জন্য চিলের নিজেকে নিয়ে বেশ গর্ব হতে লাগল। কারণ মেঘেরা তাকে নিয়ে কেমন খেলছে। এমন ভাগ্য ক’জনার হয়। সে মেঘেদের বলল, নিজেকে কেমন রাজা রাজা মনে হচ্ছে। সত্যিই তোমরা আমাকে তোমাদের সাথে খেলায় নেবে এটা বিশ্বাসই হচ্ছে না। মেঘেরা বলল কেন হবে না। তুমি মন থেকে এটাই চেয়েছিলে তাই তো সম্ভব হয়েছে। কেউ যদি একান্ত মনে আমাদের সাথে খেলতে চায় তবে অবশ্যই তাকে আমরা খেলায় নেবো। এরপর অনেক সময় চিলটা তাদের সাথে খেলায় মেতে থাকল। মেঘেরা জিজ্ঞেস করল, তোমার খিদে লাগেনি? সে হাসতে হাসতে বলল, আমি জানি তোমরা খাও না। আর যেহেতু আমি এখন তোমাদের সাথে খেলছি তাহলে আমার আবার খিদে কিসের। মেঘেরা তার কথা শুনে খুব খুশি হলো। তারা তখন বলল, বেশ তবে তুমি আমাদের সাথে একেবারে থেকে যাও। আমরা সব সময় কত্তো মজা করি। তুমি যদি আমাদের সাথে থাকো তবে দেখবে এক দিন তুমিও মেঘ হয়ে যাবে। কথাটা চিলের মনে খুব ধরল। সাথে সাথে সে রাজি হয়ে গেল। সে দিন থেকে সেই চিলটা মেঘেদের সাথে থাকতে লাগল।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.