জিম্মিকারী চক্রের ৪ সদস্য গ্রেফতার

লিবিয়ায় পাচার হওয়া বাংলাদেশী যুবক উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় পাচার হওয়া সাদ্দাম হোসেন নামের এক যুবককে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এছাড়া তাকে লিবিয়ায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তাসলিম উদ্দিন (৫০), মোফাজ্জল হোসেন (৪৮), আইয়ূব আলী (৫২) ও আরমান সরকার (৪২)।
গত শুক্রবার রাতে ঢাকা ও কিশোরগঞ্জ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। চক্রটি ভালো বেতন ও উন্নত জীবনের আশ্বাস দিয়ে লিবিয়ায় পাঠিয়ে জিম্মি করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে দাবি করেছে পিবিআই।

জানা গেছে, ভালো বেতন এবং উন্নত পরিবেশে চাকরির কথা বলে নেত্রকোনার সাদ্দাম হোসেনকে (২৩) লিবিয়ায় নিয়ে যায় একটি চক্র। সেখানে সাদ্দামের পাসপোর্টসহ সব বৈধ কাগজপত্র হাতিয়ে নিয়ে সে দেশে অবস্থানরত চক্রের সদস্যরা। পরে একটি ক্যাম্পে সাদ্দামকে আটকে রেখে মুক্তিপণ চেয়ে অমানবিক নির্যাতন করে তাকে। সেই নির্যাতনের ছবি, ভিডিও দেশে থাকা স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে অর্থ আদায় করতে থাকে চক্রটি। এভাবে কয়েক দফায় সাড়ে নয় লাখ টাকার বিনিময়ে সেই চক্রের হাত থেকে ছাড়া পান সাদ্দাম।

লিবিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন সাদ্দাম। পরে সাদ্দামের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পিবিআই। এরপর জিম্মিকারী চক্রের বাংলাদেশে অবস্থানরতদের মধ্যে ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদরদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইর বিশেষ সুপার আহসান হাবীব পলাশ বলেন, লিবিয়া এবং ইরাকে মানবপাচারকারীর এ চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। লিবিয়ায় এই চক্রের সাথে সে দেশের বাঙ্গালী এবং লিবিয়ানরাও জড়িত। চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে দেশের যুবকদের সে দেশে নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন চালাতে থাকে এবং মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করে। তখন স্বজনদেরও টাকা দেয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। আরো ৭-৮ জন বাংলাদেশী লিবিয়ায় জিম্মি আছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঠিক কতটি চক্র সক্রিয় রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা এখনো জিম্মিকারী চক্রের বিদেশে অবস্থানরত কোনো সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারিনি, তবে চেষ্টা চলছে।

জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া সাদ্দাম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে লিবিয়া যাওয়ার পরই সেখানকার বিমানবন্দর থেকে কয়েকজন আমাকে রিসিভ করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তারপরই টানা তিনমাস একই স্থানে রেখে মারধর করে অর্থ আদায় করে। পরে তারা আবার এক পাকিস্তানীর কাছে আমাকে বিক্রি করে দেয়। সেখানেও আবার নির্যাতন করে অর্থ দাবি করতে থাকে।

তিনি বলেন, আমাকে ৩/৪ বার বিক্রি করা হয়। ৫০০ দিনারে একজন আরেকজনের কাছে আমাকে বিক্রি করে দেয়। পরে সেই লোক আবার আমার কাছে ১০ হাজার দিনার দাবি করে। সেখানে বাঙ্গালী-পাকিস্তানী-লিবিয়ানরা মিলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে আমার মতো আরো ১৩/১৪ জন বাঙ্গালীকে জিম্মি অবস্থায় দেখেছি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.