বিশেষজ্ঞের মতামত

অধ্যাপক মাহমুদা পারভিন সমাজবিজ্ঞান বিভাগ

নেপোলিয়ন বোনাপোর্ট বলেছিলেনÑ ‘আমাকে একজন শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাদের একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেবো।’ এই বাণীর অন্তর্নিহিত ভাব আমাদের বুঝিয়ে দেয়, জাতির জন্য একজন মা কতটা গুরুত্ব বহন করেন। অথচ বৃদ্ধ বয়সে এই মা-ই হন সবচেয়ে অবহেলিত নিঃগৃহীত। আমরা সমাজবিজ্ঞানীরা প্রতিনিয়ত সমাজের নানা দিক নিয়ে ভাবছি, সমাজের পরিবর্তন-পরিবর্ধন তদুপরি উন্নতির জন্য। কিন্তু বাংলাদেশের প্রবীণ নারীদের শেষ জীবনের শান্তির জন্য কোনো ব্যবস্থাই নেই। স্বামীর অন্তর্ধানের পর নিজের সন্তান ও ছেলের বউ দ্বারা নিঃগৃহীত বৃদ্ধাদের সংখ্যা যেন দিন দিন বাড়ছে। আজকাল নিজের সন্তানেরাও বৃদ্ধা মাকে ফেলে চলে যায়। নিজের সংসারে মাকে বোঝা মনে করে। এ ক্ষেত্রে যদি বিধবা মা বা ডিভোর্সি মাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়া যায়, তাহলে ব্যাপারটা মন্দ হয় না। এতে মা তার নতুন সঙ্গীকে নিয়ে ভালো থাকবে আর সন্তানেরাও তাদের নিজের সংসার গুছিয়ে করতে পারবে। কারো জীবনই হ্যাম্পার হবে না।

বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি যদি এই সমাজ তথা ছেলেমেয়ে, আত্মীয়স্বজন উদার মনোবৃত্তি প্রকাশ করে; এতে তাদের পথও সুগম হবে। হতে পারে ২০-৩০ বছর পর তার নিজের জীবনেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এতে ধীরে ধীরে আমাদের সাধারণ জীবনযাপনে যেসব অসঙ্গতি আছে, তা আমরা উৎরে আসতে পারব। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আমরা বিচার করি, এক হাদিসে বলা আছেÑ ‘তোমার বিবাহযোগ্যা কুমারী মেয়ের আগে বিধবা মেয়েকে বিয়ে দাও।’ আর বিধবা মেয়েকে যে পুরুষ বিয়ে করে, তার অনেক নেক লেখা যায়। আমাদের সমাজে যেহেতু সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন বৃদ্ধাশ্রম নেই, ছেলে-মেয়েরাও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রেই উদাসীন। সুতরাং ৫০-৬০ ঊর্ধ্ব মা-বাবাকে খুব সহজেই বিয়ে দিয়ে সংসারী করে দিতে পারি। যদিও বৃদ্ধ মায়েরা এতে লোকলজ্জার ভয়ে রাজি হতে চাইবেন না। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা পেলে আমাদের এই সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি আস্তে আস্তে বদলাতে থাকবে। সমাজে শত শত মা-অসহায় জীবনযাপন করছেন। যে মা তার মাথার ঘাম পায়ে ফেলে চাকরিসহ ঘরকন্নার কাজ করে নিজের সন্তানের মুখে হাসি ফোটান, সে মা-ই আজ চরম কষ্টে আছেন। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে এই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা তেমন কঠিন কাজ নয়।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.