কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান

ছত্রিশ.

চোখ মিটমিট করে চোখের সামনে থেকে লাল-নীল রঙগুলো দূর করার চেষ্টা করলাম। বারবার মাথা ঝাড়া দিয়ে সাফ করতে চাইলাম মগজটাকে, যাতে স্পষ্টভাবে ভাবতে পারি। হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে গেলাম পর্দার কাছে। হাতড়ে হাতড়ে খুঁজতে লাগলাম কোথাও কোনো ফাঁকফোকর আছে কি না।
ক্রমেই অস্থির হয়ে উঠছে জানোয়ারগুলো। হয়তো ভাবছে, আমি ওগুলোকে মুক্ত করে দেবো।
কিন্তু পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে ওগুলোকে মুক্ত করা তো দূরের কথা, নিজেকেও বাঁচাতে পারব কি না সন্দেহ।
হঠাৎ করেই থেমে গেলাম। হাতড়ানো বন্ধ করে দিলাম। মনে হলো, একটা বড় ফুটোর মধ্যে ঢুকে গেছে হাতটা।
জানালার তারের জালে একটা ফোকর। বুঝলাম, এটা দিয়েই ঢুকেছিল বিড়ালছানাটা। বেরোনোর পথ। ছোট্ট ফোকর। ওটা দিয়ে বিড়ালের বাচ্চা ঢুকতে পারলেও মানুষ বেরোতে পারবে না। আমি বেরোতে চাইলে বড় করতে হবে ফোকরটা।
ছেঁড়া তারগুলো ধরে টানতে শুরু করলাম।
পাগল হয়ে উঠল যেন কুকুরগুলো। এত জোরে ঘেউ ঘেউ করতে লাগল, আমার ভয় হলো, কী হচ্ছে দেখার জন্য কিটু না চলে আসে।
প্রাণ বাঁচানোর তাগিদ আমার গায়ের শক্তি বাড়িয়ে দিলো। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে হবে আমাকে। ওষুধের প্রভাবে যদি বেহুঁশ হয়ে যাই, আর বেরোনোর সুযোগ পাবো না। অল্প খেয়েছিলাম বলেই রক্ষা, এখনো বেঁচে আছি, পুরোটা খেলে অনেক আগেই মরে যেতাম। (চলবে)

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.