ব্লু হোয়েলের ব্যাপারে অনন্ত জলিল
ব্লু হোয়েলের ব্যাপারে অনন্ত জলিল

ব্লু হোয়েল নিয়ে তরুণদের প্রতি অনন্ত জলিলের পরামর্শ

বিনোদন প্রতিবেদক

অাতঙ্ক হঠাৎ করেই ছড়ায়। যেমন ব্লু হোয়েল গেমস এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। এ নিয়ে সতর্কবাণী ছড়িয়েছে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। উপদেশ ও বিভিন্ন করণীয় জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

এবার এতে শামিল হলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ব্লু হোয়েল গেমস নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন অনন্ত জলিল। স্ট্যাটাসের চুম্বক অংশ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-
বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম।
আশা করি, আল্লাহ তায়ালার দয়ায় আপনারা সবাই ভালো আছেন। তবে আমি মানসিকভাবে কিছুটা আঘাতপ্রাপ্ত। কারণ ব্লু হোয়েল গেমসের চিন্তায়। এ গেমসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আর এর বিষাক্ত ছোবল বাংলাদেশেও পড়েছে। যার ফলে আমি শঙ্কিত দেশের সম্ভাবনাময় তরুণ-তরুণী নিয়ে। আশা করি, তরুণ-তরুণীরা বেশ মেধাবী ও জ্ঞানী। তারা জানেন, এই গেমস তাদের শুধু বিপদেই ফেলবে না, সাথে সাথে তার পরিবারকেও অনিশ্চিত রাস্তায় ঠেলে দেবে।

আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, আল্লাহ যেন বাংলাদেশের সবাইকে বিশেষ করে যারা গেমস খেলেন তাদের এই গেমসের হাত থেকে রক্ষা করেন। বন্ধুরা, একটা কথা ভাবতে হবে, কেন আমরা অপরের নির্দেশনায় যাকে কখনো দেখিনি, যার পরিচয় জানি না, তার কথায় নিজের জীবন অকালে বিলিয়ে দেবো? আমরা জানি, আত্মহত্যা মহাপাপ। তবে কেন আমরা এই গেমস খেলতে যাবো? কেন এই গেমসের সাথে সংযোগ স্থাপন করব?

আমরা অবশ্যই এই গেমস থেকে দূরে থাকবো, এবং কেউকে এই যদি খেলতে দেখলে বা শুনলে অবশ্যই তাকে আমরা গেমসটি হতে যে কোন উপায়েই ফিরিয়ে আনবো। কারণ সে তো অবশ্যই কারো সন্তান, ভাই বা বোন। আমি চাই না শুনতে আমার প্রিয় দেশের কেউ এই গেমসের প্রভাবে নিজের সামান্যতম ক্ষতির সম্মুখীন হোক।

বন্ধুগণ, এইসব ফালতু গেমস নিজের মোবাইলে ইন্সটল করে নিজের পার্সোনাল ইনফরমেশন গেমসের এডমিনকে একসেস দেয়ার কোনো মানেই হয় না। অপরকে ব্লাকমেইল করতে দিবেন কেন? ব্লু হোয়েল খেলা মানেই নিজেকে ব্লাকমেইলে ফেলা।

একটু মাথা খাটান ..
ধরুন অপরিচিত কেউ আপনার একটা একান্তই ব্যক্তিগত ছবি চাইল। যে ছবি অন্য কেউ দেখলে আপনার মানসন্মান শেষ। আপনি দিবেন?
ব্লু হোয়েল এই সব ই গেমের মাধ্যমে চাইবে।
সুতরাং এইসব ফালতু জিনিস মাথায় না নিয়ে মাথা খাটান ভালো কিছুতে যা নিজের এবং মানুষের উপকারে আসে।

বন্ধুগণ, আমরা বেশির ভাগই মুসলিম ঘরের সন্তান। ইসলাম আমাদের শান্তির পথ দেখায়, ভালো ও আলোর পথ দেখায়। আসুন এ সব বিপথে পরিচালিত গেমসকে দূরে ফেলে, সে সময়ে ভালো কিছু করি। বর্তমান সরকার তথ্য প্রযুক্তিকে অনেক এগিয়ে নিয়েছে। আমরা চাইলে সফটওয়্যার, গ্রাফিক্সসহ অনেক সেক্টরে কাজ করতে পারি লেখাপড়ার পাশাপাশি। এতে যেমন নিজের প্রতিভাকে যর্থাথ ব্যবহার করা হবে তেমনিভাবে দেশ এগিয়ে যাবে।

বন্ধুগণ, আশাকরি আমরা নিজেও এ গেমসে ধারে কাছে যাব না, অপরকেও যেতে দেবো না। কেউ এ গেমসের প্রতি অলরেডি আসক্ত হয়ে পড়েছে দেখলে, তাকে যথাযথ উপায়ে গেমসের নিকট থেকে ফিরিয়ে আনব। পরবর্তীতে তাকে ভালো কাজে উৎসাহিত করব, ইনশাআল্লাহ্। সাথে নিজেও নিজের ধর্ম পালন করব এবং অন্যদের পালন করতে দাওয়াত দিবো ও উৎসাহিত করব ইনশাআল্লাহ্। বন্ধুগণ, ভালো থাকবেন।
খোদা হাফেজ।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.