কিশোর মুসা রবিনের অভিযান

রকিব হাসান  

সাঁইত্রিশ.

তারের মাথার খোঁচা লেগে আমার আঙুল আর হাতের চামড়া কেটে রক্ত বেরোতে লাগল। ব্যথা করতে লাগল। পরোয়া করলাম না। প্রাণপণে কাজ চালিয়ে গেলাম।

অবশেষে তার ছিঁড়ে বড় হতে লাগল ফোকরটা। মাথা ঢোকানোর মতো বড় হলো। 

এ সময় হঠাৎ করে মাথা ঝিমঝিম করতে লাগল। ঢেউয়ের মতো সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়তে লাগল যেন সেটা।

গোঙানি বেরিয়ে এলো আমার মুখ দিয়ে। টলে উঠল মাথা। পড়ে যাচ্ছিলাম। দুই হাতে তারের জাল আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম। 

চোখের সামনে আলোর বিন্দুগুলো উদয় হয়েছে আবার। এবার সংখ্যায় অনেক বেশি। অজস্র রঙিন তারা নাচতে লাগল চোখের সামনে। কমলা, গোলাপি, লাল ও হলুদ।

আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে আমার মন। মনে হচ্ছে, মেঝেতে শুয়েই ঘুমিয়ে পড়ি। শান্তির ঘুম...

‘না!’ চেঁচিয়ে উঠলাম। জোরে জোরে চড় মারতে লাগলাম নিজের গালে। ‘এখান থেকে বেরিয়ে যেতে হবে আমাকে!’

টেনে সোজা করলাম নিজেকে। তারের ছেঁড়া জায়গাটাকে টেনে টেনে আরো বড় করতে লাগলাম। জোর করে ওটার ভেতর দিয়ে বেরোতে গেলে তারের ধারাল মাথায় লেগে চামড়া কেটে ফালাফালা হবে।

আরো কিছুটা বড় করার পর যখন মনে হলো, এবার বেরোতে পারব, প্রথমে মাথা না ঢুকিয়ে পা ঢোকালাম। তাড়াহুড়োয় খোঁচা লাগছে পায়ে। লাগুক। একটা পা, আরেকটা পা, পেট, তারপর কাঁধ...

তারের প্রচুর খোঁচা খেয়ে, গায়ের চামড়া রক্তাক্ত করে বেরিয়ে এলাম বাইরে। বৃষ্টিতে বেরিয়ে এত আনন্দ জীবনে আর কখনো পাইনি। হয়েছে! পেরেছি! পিশাচদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে পেরেছি আমি। (চলবে)

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.