দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পেকুয়া-রাজাখালী সড়কের বর্তমান অবস্থা  :নয়া দিগন্ত
দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে পেকুয়া-রাজাখালী সড়কের বর্তমান অবস্থা :নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারে পেকুয়া-রাজাখালী সড়ক ক্ষতবিক্ষত

ছফওয়ানুল করিম পেকুয়া (কক্সবাজার)

চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন জনগুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক কতটা ক্ষতবিক্ষত হতে পারে। পেকুয়া-রাজাখালী সড়কটি দেখলে মনে হবে পোড়া চামড়ার একটি মৃত অজগর পড়ে আছে। কোথাও কোথাও মনে হবে অজগরের শরীরের একেকটি অংশ পচে গলে যাচ্ছে। পেকুয়া সদরের সাথে চিংড়ি ও লবণসমৃদ্ধ এলাকা রাজাখালীর যোগাযোগের এ সড়কটি দীর্ঘ দিন ধরে সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লবণ পরিবহনের জন্য সড়কের ধারণ ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল করায় সড়কটি দ্রুত নষ্ট হয়ে গেছে। তা ছাড়া লবণসহনীয় প্রযুক্তি না থাকায় উপকূলীয় লবণাক্ত এলাকার সড়কগুলো খুব দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ সড়কটি এলজিইডির অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এটি ২০০৯ সালে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একবার সংস্কার করা হয়েছিল; কিন্তু লবণ এলাকা হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ীরা সড়কের ধারণ ক্ষমতার বেশি ওজনের ট্রাক যাতায়াত করানোয় সড়কটি সাত-আট বছরের মধ্যে আবারো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, সড়কটির অফিসিয়াল নাম হচ্ছে, ‘পেকুয়া টু আরবশাহ বাজার ভায়া রাজাখালী সবুজ বাজার সড়ক’। ১০ কিলোমিটারের এ সড়কটি লবণ ও চিংড়ি পরিবহন ছাড়াও স্থানীয় লোকজনের পেকুয়া উপজেলা সদরে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। পেকুয়া থেকে তিনটি রাস্তা দিয়ে রাজাখালীর মেইন স্টেশন আরবশাহ বাজারে যাওয়া গেলেও পেকুয়া-রাজাখালী সড়কটিই অধিকতর সহজ ও কম দূরত্বের রাস্তা। একইভাবে পেকুয়া থেকে এবিসি সড়ক হয়ে বারাইয়াকাটা রাস্তার মাথা হয়ে মেইন্যার বাড়ি ভায়া রাজাখালী আরবশাহ বাজারে যাওয়া যায়। অপর দিকে এবিসি সড়কের টইটং সীমান্ত ব্রিজ থেকে সরাসরি আরেকটি রাস্তা আরবশাহ বাজারে গিয়ে পৌঁছায়। রাজাখালীর লোকজন চট্টগ্রামে যাতায়াতের জন্য বিশেষ করে এ রাস্তাটি ব্যবহার করে থাকে।
পেকুয়া বাজার থেকে মুজিব কিল্লা হয়ে বিসমিল্লাহ ব্রিজের মাধ্যমে সংযুক্ত হয়ে যে রাস্তাটি আরবশাহ বাজারে পৌঁছেছে সে রাস্তাটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। অন্তত দুই বছর ধরে সড়কটি একেবারেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির জন্য এ অঞ্চলের অর্থনীতির চাকা কার্যত থমকে আছে। কেননা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত লবণ ও চিংড়ি পরিবহনের খরচ আগে যেখানে দুই টাকা পড়ত সেখানে এখন চার টাকা পড়ছে। দ্বিগুণের বেশি খরচ দিয়েও সঠিক সময়ে মালামাল পৌঁছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় লবণ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় তাদের লবণ পরিবহন খরচ দ্বিগুণের চেয়ে বেশি পড়ছে। বিশেষ করে সবুজ বাজার থেকে বিসমিল্লাহ ব্রিজ পর্যন্ত অংশে যে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে তাতে এখন গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাও দায় হয়ে পড়েছে।
রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আবদুল মান্নান জানান, সড়কটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় তাদের ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। সড়কটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় তাদের লবণ ব্যবসায় বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না। এতে করে সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাবে বলে মনে করেন তিনি।
সবুজ বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শফিউল্লাহ জানান, সড়কটি কী পরিমাণ ক্ষতবিক্ষত তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। অতিরিক্তি লবণবোঝাই ট্রাক চলাচল এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কালভার্ট না থাকায় সড়কটি দ্রুত চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এতে করে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, চকরিয়া-পেকুয়ার এমপি হাজী মোহাম্মদ ইলিয়াছের কাছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বেশ কয়েকবার সড়কটি সংস্কারের দাবি জানালেও তিনি বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি। সড়কটি এতদিন ধরে এমন অবস্থায় পড়ে থাকলেও তিনি স্থানীয় জনগণের দুর্দশা দেখতে একবারও আসেননি।
রাজাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ নূর জানান, সড়কটি রাজাখালীবাসী এবং এখানকার লবণ ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি সড়ক। এটি সংস্কারের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে অনেক ধরনা দিয়েছেন; কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। তিনি সরকারের কাছে সড়কটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য জোর দাবি জানান।
এ বিষয়ে জানতে পেকুয়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) জাহেদ চৌধুরীর সাথে দু’দিন ধরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী হারু বাবু জানান, ইবিআরআইবিপি পূর্বাঞ্চলীয় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় রুর‌্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনটেনেন্স প্রজেক্টের মাধ্যমে পেকুয়া টু আরবশাহ বাজার ভায়া রাজাখালী সবুজ বাজার ৮ দশমিক ৫১ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে এবং দ্রুত সড়কটির উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সড়কটির কাজের মধ্যে রয়েছে দু’পাশে মাটি ভরাট, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ও খালের সাইটে ব্লক নির্মাণ, ড্যামেজ পোর্শন রিপেয়ারিং করা এবং পুরো রাস্তায় পিস ঢালাই করা। তবে কাজ কখন শুরু হবে সেটি বরাদ্দ পাওয়ার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.