৪০০ অনুগামীকে নৃপুংশক করা, যা বললেন গুরমিত সিং
৪০০ অনুগামীকে নৃপুংশক করা, যা বললেন গুরমিত সিং

৪০০ অনুগামীকে নৃপুংশক করা, যা বললেন গুরমিত সিং

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ধর্ষণে অভিযুক্ত ভারতের ভণ্ড ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংয়ের বক্তব্য রেকর্ড করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই। বুধবার তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে বলে সিবিআই সূত্রে খবর। তবে এটা দুই সাধ্বীকে ধর্ষণ করার বক্তব্য রেকর্ড নয়। বরং ডেরা সাচ্চা সৌদা প্রধানের বিরুদ্ধে চার শ' অনুগামীকে জোর করে নপুংশক করার অভিযোগের ভিত্তিতে বয়ান রেকর্ড করলেন সিবিআই কর্মকর্তারা। এই ঘটনায় ফের নতুন করে নাম উঠে এসেছে বাবা গুরমিত সিংয়ের।

সিবিআইয়ের এক মুখপাত্র জানান, ২০১২ সালে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল ভগবানের দূত গুরমিতের নামে। সেখানে ডেরার অন্দরে থাকা পুরুষ অনুগামীদের নপুংশক করার অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবি করা হয়েছিল। মামলাকারীর নাম হংসরাজ চৌহান। তিনি হলফনামা দাখিল করে দাবি করেছিলেন, হরিয়ানা, পাঞ্জাব এবং রাজস্থান থেকে আসা পুরুষ অনুগামীদের ডেরার ভেতরে জোর করে নপুংশক করা হতো। এই কাজটি করার জন্য বলা হত তার মাধ্যমে ঈশ্বরকে অনুভব করতে গেলে নপুংশক হতেই হবে।

বুধবার বিশেষ আদালতের অনুমতি নিয়ে সিবিআই কর্মকর্তারা রোহতক যান। যেখানে ধর্ষণের অভিযোগে ২০ বছরের জন্য কারাদণ্ড ভোগ করছেন গুরমিত সিং। ২০১৫ সালে পাঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের নির্দেশে বাবার বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল সিবিআই। আর তার ভিত্তিতেই তদন্তের স্বার্থে এদিন বয়ান রেকর্ড করা হয় বাবার। তবে সিবিআইকে তিনি কী বলেছেন তা এখন তদন্তের স্বার্থে গোপন রাখা হয়েছে।

জেরার মুখে ভেঙে পড়ল হানিপ্রীত, জানালেন বহু অজানা তথ্য
একের পর এক ভুল উত্তর দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছিল হানিপ্রীত। কিন্তু সে কৌশল ফলপ্রসূ হলো না। পুলিশের জেরার মুখে অবশেষে ভেঙেই পড়ল গুরমিত সিংয়ের তথাকথিত দত্তক কন্যা। ধর্ষক বাবার গ্রেফতারের পর যে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছিল, তা তারই মস্তিষ্কপ্রসূত বলে স্বীকার করেছে পুলিশের কাছে।

হানিপ্রীতকে গ্রেফতারের পরই তার কাছে একাধিক প্রশ্ন রাখে পুলিশ। কিন্তু সবই কৌশলে এড়িয়ে যায় হানিপ্রীত। কখনো জানায়, তথ্য জানা নেই তার। বার কয়েক চেষ্টার পর পুলিশ বুঝে যায় মচকালেও ভাঙবে না হানিপ্রীত। এরপরই কৌশলে হানিপ্রীতকে গোপন ডেরায় তুলে নিয়ে গিয়ে লাগাতার জেরা শুরু করে পুলিশ। প্রায় তিন শে'টি প্রশ্ন তৈরি করা হয়। গুরমিতের যৌন জীবন, গুরমিতের সঙ্গে তার সম্পর্ক, ডেরায় হিংসার ঘটনা, সাধ্বীদের ধর্ষণের মতো একাধিক বিষয় নিয়ে তার কাছে জানতে চাওয়া হয়।

লাগাতার জেরার মুখে নিজেকে আর সামলাতে পারেনি হানিপ্রীত। অবশেষে স্বীকার করেছে পঞ্চকুল্লায় সহিংসতার ঘটনার ছক কষেছিল সে নিজেই। ১৭ আগস্ট ডেরায় বসে পুরো ঘটনার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি হয়। কোন পথে সহিংসতা ঘটানো হবে, সেই ম্যাপও তৈরি করা হয়। যা হানিপ্রীতের ল্যাপটপ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সহিংসতা পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল ডেরার শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের। ল্যাপটপটি হস্তগত হওয়ার পর থেকেই পুরো ঘটনায় হানিপ্রীতের ভূমিকা জানতে আর বাকি নেই ভারতীয় পুলিশের। পুলিশের আশা, ল্যাপটপ থেকে ডেরার আর্থিক লেনদেনেরও হদিশ মিলবে। যদিও হানিপ্রীতের ফোনের এখনো খোঁজ পায়নি পুলিশ। বিদেশে কাকে ফোন করত সে, তাও জানা যায়নি। হানিপ্রীত জানিয়েছে, তার ফোনটি হারিয়ে গিয়েছে। যদিও হানিপ্রীতের ছায়াসঙ্গী শুখদীপ কউর জানাচ্ছেন, সেটি উত্তরপ্রদেশ বা রাজস্থানেই কোথাও লোকানো আছে।

ডেরার পরিচালনায় সহিংসতার ঘটনায় আদিত্য ইনসান, পবন ইনসান এ গোবি রামকে খুঁজছে পুলিশ। যদিও এখনো তাদের সম্বন্ধে বিন্দুমাত্র তথ্য ফাঁস করেনি হানিপ্রীত। আর তাই তার পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানানো হয়েছে। জেরার মুখে হানিপ্রীত যেভাবে ভেঙে পড়ছে, তাতে এ তথ্য বেশিদিন সে গোপন করতে পারবে না বলেই আশা পুলিশের।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.