গাজা সিটিতে এ মাসের শুরুর দিকে মিসরের মন্ত্রী খালিদ ফৌজির সাথে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া (ডানে)
গাজা সিটিতে এ মাসের শুরুর দিকে মিসরের মন্ত্রী খালিদ ফৌজির সাথে হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া (ডানে)

হামাস-ফাতাহ চুক্তি সম্পন্ন

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ফিলিস্তিনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই গ্রুপ হামাস ও ফাতাহ রাজনৈতিক পুনর্গঠন নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার হামাসের প্রধান ইসমাইল হানিয়া এক বিবৃতিতে ওই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি বলে জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা।

খবরে বলা হয়েছে, কায়রো থেকে দুপুর নাগাদ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেয়া হবে। মঙ্গলবার সেখানেই আলোচনা করেছে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো।

হানিয়া এক বিবৃতিতে বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মিসরের পৃষ্ঠপোষকতায় ফাতাহ এবং হামাস একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।

২০০৭ সালে পশ্চিমা সমর্থিত মূল ধারার ফাতাহ পার্টি হামাসের সঙ্গে লড়াই করে গাজার নিয়ন্ত্রণ হারায়। কিন্তু গত মাসে মিসরের মধ্যস্ততায় ফাতাহ সমর্থিত সরকারের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে গাজার ক্ষমতা অর্পনের বিষয়ে একটি চুক্তিতে সম্মতি জানায় হামাস।

২০১১ সালের কায়রো চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই দুই রাজনৈতিক দলের নেতারা কায়রোতে বৈঠক করেছেন। এর ফলে দীর্ঘ ১০ বছরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের অবসান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত মাসে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে গাজার ক্ষমতা অর্পনের বিষয়ে সম্মতি জানায় হামাস। কিন্তু এর বিশাল সামরিক বাহিনী দু’পক্ষের কাছেই একটি উল্লেখযোগ্য বিষয়। দু’পক্ষের এই চুক্তি গাজার ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে।

ইসরাইল ও মিসরের অব্যাহত অবরোধের মুখে দুর্বল হয়ে পড়েছে ইসলামপন্থী হামাস। ইসরাইলের সাথে তিনটি যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের সাথে বিচ্ছিন্নতা হামাসকে চাপে ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় হামাসের সাথে বৈরিতা চলছে মিসরের বর্তমান সামরিক সরকারের। মার্চে গাজা উপত্যকা পরিচালনার জন্য নতুন কমিটি ঘোষণা করলে হামাসের ওপর চাপ বাড়ান মাহমুদ আব্বাস। গাজায় বিদ্যুতের জন্য অর্থ বরাদ্দ কমানো এবং সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য বেতন না দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

২০১১ সালে মিসরের মধ্যস্থতায় এমন সমঝোতা হলেও তা ভেঙে যায়। আব্বাস সরকারের অধীনে হামাসের নিরাপত্তা বাহিনীকে ছেড়ে দেয়া নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে সমঝোতা ভণ্ডুল হয়ে যায়। তবে এবারের সমঝোতায়ও মিসরের ভূমিকা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে মিসর সফর করেন হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়া।

গাজা উপত্যকায় প্রায় ২০ লাখ মানুষের বসবাস। সাম্প্রতিক সময়ে সেখানে ক্রমেই মানবিক পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। নানা সমস্যার মধ্যে বিদ্যুৎ ও পানযোগ্য পানির ভয়াবহ সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। গাজার অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই নাজুক এবং এখানে বেকারত্বের হার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি। মানবিক সঙ্কট বিবেচনায় নিয়ে গাজার ওপর আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারে ইসরাইলের প্রতি বহুবার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘ। কিন্তু তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেনি।

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.