প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (ফাইল ফটো)

সরকার দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে : প্রধানমন্ত্রী

নয়া দিগন্ত অনলাইন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমে কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭’ উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘দুর্যোগ সহনীয় আবাস গড়ি, নিরাপদে বাস করি’। বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও আগামীকাল ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭’ পালন করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ যাতে বিনামূল্যে আবহাওয়ার বার্তা পায় সেজন্য আমরা যে কোনো মোবাইল থেকে ১০৯০ নম্বরে (টোল ফ্রি) ফোন করে আবহাওয়া বার্তা পাওয়ার ব্যবস্থা করেছি। ভূমিকম্প মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই ১৬৯ কোটি টাকার উদ্ধার সামগ্রী ক্রয় করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল গঠন, ন্যাশনাল ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ১৩ হাজার ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প চলমান আছে। মুজিব কিল্লা নির্মাণ প্রকল্প এবং গ্রামীণ রাস্তা হেরিং বোন বল্ড করার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।

বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে ভবন নির্মাণ করার আহবান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কার্যক্রমে আরো অধিক সংখ্যক নগর স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে। প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত, শিল্পকারখানা, মার্কেট ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব প্রশিক্ষিত দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক তৈরি করতে হবে।

তিনি বলেন, এবারের হাওড় অঞ্চলের ছয়টি জেলায় আকস্মিক ও নজিরবিহীন বন্যা, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামের পাহাড়ধস, উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় মোরা ও উত্তর অঞ্চলসহ দেশের ৩৫টি জেলায় দুই দফায় ব্যাপক বন্যা সরকার সফলতার সাথে মোকাবিলা করছে।

বাণীতে শেখ হাসিনা বলেন, বজ্রপাত মোকাবিলায় ইতোমধ্যেই সারাদেশে ১০ লাখ তালগাছ রোপণ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বজ্রপাত ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাস কর্মসূচি প্রণয়নের পথিকৃৎ। তিনি ঘূর্ণিঝড় থেকে জানমাল রক্ষায় মুজিব কিল্লা নির্মাণের ব্যবস্থা করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে ১৯৭৩ সালে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) প্রতিষ্ঠা করেন যা আজ সারাবিশ্বে সমাদৃত।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশাবলি অধিকতর পরিমার্জিত আকারে ২০১০ সালে স্ট্যান্ডিং, অর্ডার অন ডিজাস্টার নামে প্রকাশিত হয়। এছাড়া আমরা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন-২০১২, জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০১৫ সহ গুরুত্বপূর্ণ আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৭’ এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.