বড় পতনের সাথে কমেছে পুঁজিবাজারে লেনদেনও

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

পুঁজিবাজারে দরপতন অব্যাহত রয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে বড় ধরনের সূচক হারায় দেশের দুই পুঁজিবাজার। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন বড় রকমের পতন ঘটল পুঁজিবাজার সূচকে। আর টানা পতনের কারণে হ্রাস পায় বাজারগুলোর লেনদেনও। পাশাপাশি দরপতনের শিকার হয় উভয় পুঁজিবাজারের লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানি।
প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪৪ দশমিক ১৬ পয়েন্ট হ্রাস পায়। ৬ হাজার ১০৮ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে দিন শুরু করা সূচকটি দিনশেষে নেমে আসে ৬ হাজার ৬৪ দশমিক ৪১ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১০ দশমিক ৯৮ ও ৬ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট।
দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক ও সিএসসিএক্স সূচকের অবনতি ঘটে যথাক্রমে ১৯০ দশমিক ৭৫ ও ১১৬ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। সিএসই-৫০ ও সিএসই শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ১৬ দশমিক ৪০ ও ১০ দশমিক ৯১ পয়েন্ট।
সূচকের বড় অবনতি প্রভাব ফেলে দুই পুঁজিবাজারের লেনদেনেও। ঢাকা শেয়ারবাজারে গতকাল ৭৪৩ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি হয়, যা আগের দিন অপেক্ষা ৩৪৯ কোটি টাকা কম। বুধবার ডিএসইর লেনদেন ছিল ১ হাজার ৯২ কোটি টাকা। চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে ৪৯ কোটি টাকা থেকে ৩৫ কোটিতে নেমে আসে লেনদেন।
পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাজারে সৃষ্টি হওয়া একটি গুজবের কারণেই দুই দিন ধরে পতন ঘটছে বাজার সূচকের। পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক আরো কঠোর নজরদারি করবেÑ এমন গুজব থেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগসীমা লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংককে জরিমানা করে। আরো কয়েকটি ব্যাংক একই কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারিতে রয়েছে। বুধবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করে বাজারে গুজব শুরু হয়, আরো আটটি ব্যাংককে জরিমানা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ খবর বাজারে চাউর হলে লেনদেনের মাঝামাঝি পর্যায়ে বড় ধরনের হোঁচট খায় দুই পুঁজিবাজার।
বুধবারের ধারাবাহিকতা ছিল গতকাল পুঁজিবাজারের লেনদেনের শুরুতেও। দিনের শুরুতেই বিক্রয়চাপে পড়ে দুই পড়ে। ঢাকা শেয়ারবাজারে প্রধান সূচকটি ৬ হাজার ১০৮ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু করে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নেমে আসে ৬ হাজার ৬৬ পয়েন্টে। তবে লেনদেনের এ পর্যায়ে হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে বাজার। সোয়া ১২টার দিকে সূচক পৌঁছে যায় ৬ হাজার ১০৬ পয়েন্টে। এ পর্যায়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। দিনশেষে সূচকের ৪৪ পয়েন্টের বেশি হারায় ডিএসই।
দুই পুঁজিবাজারের বেশির ভাগ খাতেই দরপতন ঘটে গতকাল। তবে দিনের সূচক পতনে বড় ভূমিকা ছিল ব্যাংকিং খাতের। এ খাতের ৮০ শতাংশ কোম্পানি দর হারায়। অন্যান্য খাতের মধ্যে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা, মিউচুয়াল ফান্ড ও টেক্সটাইলের মতো বড় খাতগুলোতেও বেশির ভাগ কোম্পানি দর হারায়। মিশ্র প্রবণতা দেখা যায় প্রকৌশল, রসায়ন, চামড়া ও বিবিধ খাতে। ঢাকায় লেনদেন হওয়া ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৯৭টির মূল্যবৃদ্ধির বিপরীতে দর হারায় ১৯৭টি। অপরিবর্তিত ছিল ৩৭টির দর। অন্য দিকে চট্টগ্রাম শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া ২৩৪টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৫৪টির দাম বাড়ে, ১৬১টির কমে এবং ১৯টি সিকিউরিটিজের দাম অপরিবর্তিত থাকে।
গতকাল টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে ব্র্যাক ব্যাংক। ৩৭ কোটি ৯৭ লাখ টাকায় কোম্পানিটির ৩৮ লাখ ৩৯ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় গতকাল। ৩৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় ২৩ লাখ ৯৭ হাজার শেয়ার বেচাকেনা করে ইফাদ অটোস উঠে আসে দ্বিতীয় অবস্থানে। ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির অন্যগুলো ছিল যথাক্রমে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সি ব্যাংক, আমরা নেটওয়ার্ক, উত্তরা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, এসিআই লি., মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।
ডিএসইর মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে উঠে আসে এপেক্স স্পিনিং। ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ঘটে কোম্পানিটির। বুধবার বিকেলে কোম্পানিটি আগামী পর্ষদ সভার তারিখ ঘোষণা করে, যেখানে গত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার সঙ্গে সঙ্গে বিগত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। গতকাল লেনদেন শুরুর প্রথম কয়েক মিনিটেই দিনের সার্কিট ব্রোকারের সর্বোচ্চ দরে পৌঁছে যায় কোম্পানিটির শেয়ারদর। উল্লেখযোগ্য মূল্যবৃদ্ধি পাওয়া অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্ট ৭.৪৯, মুন্নু স্টাফলার ৭.২১, এপেক্স ফুড ৭.১৪, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস ৫.৪৭ ও এমবি ফার্মার ৪.৯৯ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি হয়।
অন্য দিকে দিনের সর্বোচ্চ দরপতনের শিকার হয় মডার্ন ডাইং। ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি। গতকাল কোম্পানিটি বিগত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৮ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করলে বাজারে তার বিরূপ প্রভাব পড়ে। পতনের শিকার অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে ইস্টার্ন হাউজিং ৭.৫৯, আইটিসি ৬.৯৪, রিজেন্ট টেক্সটাইল ৫.৯০, ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স ৫.৮৪, আমরা নেটওয়ার্ক ৫.৮১ ও প্রগতি ইন্স্যুরেন্স ৫.৫৩ শতাংশ দর হারায়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.