অভিমত : খালগুলো খনন করা জরুরি

নোয়াখালীর খাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেই। দীর্ঘ দিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে সেনবাগের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, সুধারামের পশ্চিমাঞ্চল, কোম্পানীগঞ্জ, বেগমগঞ্জ, সোনাইমুড়ির উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও চাটখিল এলাকার প্রায় সোয়া লাখ হেক্টর আবাদি জমি প্রতি বছর চাষের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এর ফলে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, হাটবাজার, দোকানপাট, খালবিল, আবাদি জমি, পশু ও মৎস্য সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর উত্তরাঞ্চল তথা সেনবাগ, ছাতারপাইয়া, সোনাইমুড়ি, খাল, ভুলুয়া খাল, রহমতখালী খাল, বেউলা সুন্দরী-নোয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট, মানিকছড়ি খাল, তেমুহনী বাজার, সাহারপাড় তালতলা, হোসেনপুর খাল ইত্যাদি পানি নিষ্কাশনের প্রধান খালসহ সব খাল ১৯৭৭-৭৮ সালের পর প্রায় ৪০ বছর ধরে পুনঃখননের অভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পাউবো লাখ লাখ টাকা খরচ করলেও পরিকল্পনার অভাবে নিরসন হয়নি জলাবদ্ধতার। ছোট-বড় খাল ভরাট ও বেদখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মওসুমে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এক সময় এই খালগুলো দিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীতে বড় বড় নৌকা আসা-যাওয়া করত। মাছের অভাব ছিল না। খালবিলের পানি দিয়ে চাষাবাদ করা হতো। আর এখন পৌষ মাস এলে খালবিলে পর্যন্ত পানি থাকে না।
ফেনী-চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর ওয়াপদার খালটি পশ্চিমে চৌমুহনী হয়ে লক্ষ্মীপুর দিয়ে মেঘনার মোহনার উত্তরে ডাকাতিয়া নদীতে মিলিত হয়েছে। চৌমুহনীর ওপর দিয়ে উত্তরে চৌমুহনী-ছাতারপাইয়া-তেমুহনী বাজার (চিলাদী), কুমিল্লা, বেউলা সুন্দরী-নোয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট, মানিকছড়ি খাল, পশ্চিমে চৌমুহনী চন্দ্রগঞ্জ খাল, দক্ষিণে আঁটিয়াবাড়ি খাল এবং পূর্বে চৌমুহনী-ফেনী খাল। আগে কৃষক খালের পানি দিয়ে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিলেও পানির অভাব হতো না। খালগুলো থেকে কৃষকেরা মাছের চাহিদাও মেটাতেন। এখন খালগুলো বহুলাংশে সঙ্কুুচিত ও ভরাট হয়ে গেছে।
১৯৯১ সালের পর থেকে প্রভাবশালী লোকজন দখল করে ইটভাটার রাস্তা, দোকানপাট, মৎস্য খামার নির্মাণ করছে খালের মধ্যে বাঁধ দিয়ে। খালগুলো ইটভাটার মালিকেরা ভরাট করে রেখেছে। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালগুলো পুনঃখনন করার এখনই সময়।
মো: গিয়াস উদ্দিন হৃদয়

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.