ভালো পারফরমেন্সের পর মোস্তাফিজকে বাহবা দিচ্ছেন মাশরাফি (ফাইল ফটো)
ভালো পারফরমেন্সের পর মোস্তাফিজকে বাহবা দিচ্ছেন মাশরাফি (ফাইল ফটো)

বাংলাদেশের সামনে সুবর্ণ সুযোগ

নয়া দিগন্ত অনলাইন

দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজে এখনো সাফল্যের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। টেস্টে পরাজয়ের পর সামনে এখন ওয়ানডে সিরিজ। আর এই সিরিজেই র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠার সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশের সামনে।

বর্তমানে আইসিসি ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। মাত্র এক পয়েন্ট বেশি ৯৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ী পাকিস্তান রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ৮৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা রয়েছে অষ্টম স্থানে।

তিন দলেরই ওয়ানডে সিরিজ চলছে। ফলে সুযোগ রয়েছে র‌্যাঙ্কিংয়ে ওঠা-নামার। বাংলাদেশের সামনে সুযোগ রয়েছে ওয়ানডে র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে উঠে আসার। সেক্ষেত্রে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষের তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ বাংলাদেশের জন্য একটা সুযোগ।

সিরিজে বাংলাদেশ স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ১০০। টাইগাররা উঠে যাবে ষষ্ঠ স্থানে। আর উল্টো দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলে বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট হবে ৯২।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা যদি পাকিস্তানকে ৫-০ ব্যবধানে হারাতে পারে তাহলে শ্রীলঙ্কার পয়েন্ট হবে ৯১। আর পাকিস্তানের পয়েন্ট হবে ৮৯। এই সমীকরণেও বাংলাদেশ র‌্যাঙ্কিংয়ের ষষ্ঠ স্থানে উঠেতে পারে।

তাছাড়া বাংলাদেশ যদি প্রোটিয়াদের কাছে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে তাহলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৯৫। আর যদি কোনোভাবে ২-১ ব্যবধানে মাশরাফি বাহিনী সিরিজ জিতে যায় তাহলে রেটিং পয়েন্ট হবে ৯৭। তাতে পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে ছয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশ।

তবে পাকিস্তান ষষ্ঠ স্থানেই থাকবে যদি তারা ৫-০ কিংবা ৪-১ ব্যবধানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জিতে যায়। টেস্টে শ্রীলঙ্কা যেভাবে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করেছে তাতে করে ওয়ানডেতে এই ব্যবধানে পাকিস্তানের পক্ষে সিরিজ জেতা সহজ হবে না। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকায় মাশরাফিদের সাফল্যের পাশপাশি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাকিস্তান বাজে ফল করলে ষষ্ঠ স্থানে ওঠার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের সামনে।

আর কত সুযোগ দেয়া হবে সৌম্যকে?
বাংলাদেশ দলের ওপেনিং নিয়ে নতুন চিন্তা শুরুর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তামিম ইকবালের পার্টনার হিসেবে সৌম্য সরকার রয়েছেন ব্যর্থতায়। নিজেকে মেলে ধরতে একেবারেই ব্যর্থ এ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যান। এ পর্যন্ত যে সুযোগটা পেয়েছেন সৌম্য, সেটা অন্য কোনো ক্রিকেটারের বেলায়ই হয়নি। দলে টিকে থাকার মূল বিষয় যদি হয়, পারফরম্যান্স। তাহলে সেটাতে সৌম্যের বেলায় কেন নয়?

দশ টেস্ট ম্যাচে ২৯.৩৬ গড়ে রান করেছেন ৫৫৮। যার মধ্যে হাফ সেঞ্চুরি মাত্র চারটি। দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বশেষ টেস্ট ওপেনার মারকরামের ব্যাটের দিকে তাকালেই দেখা যাবে কতটা সফল। প্রথম টেস্টে ৯৭ করার পর দ্বিতীয় টেস্টে সেঞ্চুরি। সৌম্য কবে পৌঁছবেন ওই মার্কে?

শুধু তা-ই নয়। প্রায় প্রতিটা টেস্ট ম্যাচেই সৌম্যই প্রথম আউট হয়ে দলকে চাপের মধ্যে ফেলে দেয়। এমনিতেই বাংলাদেশ দলের একটা কথা রয়েছে, সূচনা ভালো হলে শেষও ভালো। সূচনাটা বারবার খারাপ করে দেন এ ব্যাটসম্যান। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পচেফস্ট্রুমে ইনজুরিতে পড়ে খেলতে পারেননি। দ্বিতীয় টেস্টে খেলতে নেমে রান করেছেন দুই ইনিংসে ১২। ৯ ও ৩।

তামিম ইকবালের অবর্তমানে তাকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবটা অমন। টেস্ট ম্যাচে সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি গত মার্চে শ্রীলঙ্কায় ও কলম্বোতে। ৬১ করেছিলেন তিনি। পরের ইনিংসে ১০ করে আউট। ওই হাফ সেঞ্চুরির পর টানা সাত ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি পর্যন্ত নেই তার। সেটা হোমে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের চার ইনিংসসহ। দেশের বাইরে সবার কিছু না কিছু দুর্বলতা থাকে। কিন্তু হোমেই (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) তার সর্বশেষ স্কোর ৩৩, ৯, ৯.৩।

এ তো গেল টেস্ট ম্যাচের চিত্র। ওয়ানডেতেও সৌম্য সরকারের পারফরম্যান্স একই রকম। তার ব্যাটে সর্বশেষ হাফ সেঞ্চুরি এসেছে ডাবলিনে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৭ করেছিলেন। সে থেকে টানা পাঁচ ম্যাচে কোনো হাফ সেঞ্চুরি নেই। তার ইনিংসগুলো হচ্ছে- ০ (নিউজিল্যান্ড), ২৮ (ইংল্যান্ড), ৩ (অস্ট্রেলিয়া), ৩ (নিউজিল্যান্ড), ও ০ (ভারত)। এ পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন তিনি ৩১টি। যাতে রান করেছেন তিনি ৩৫.৫১ গড়ে. ৯৫৯। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ফ্লপ ছিলেন এ ব্যাটসম্যান।

কথাগুলো উঠে এসেছে কাল ব্লুমফন্টেইনে একমাত্র ওয়ানডে প্রস্তুতি ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কারণে। প্রতিটা ম্যাচেই তার ব্যাটে রান আসবে এ প্রত্যাশায় ঠেলে দেয়া হয় ওপেনিংয়ে। কিন্তু প্রতিবারই ব্যর্থ। দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড একাদশের বিপক্ষে এক্সট্রা কোনো চাপ ছিল না প্রাকটিস ম্যাচ বলেই। কিন্তু সে ম্যাচে ৩ রান করেই আউট। তামিম খেলেননি। ফলে সৌম্য ও ইমরুল কায়েস ইনিংস ওপেন করেন। কিন্তু দলীয় ৩২ রানে সৌম্য ক্যাচ দিয়ে ফেরেন প্যাভেলিয়নে। ৩১ রানের মধ্যে তার ব্যাটে এসেছিল ৩ রান। কবে রান করবেন তিনি। কবে ফর্মে ফিরবেন এ বাঁ-হাতি।

টেস্ট ক্রিকেটে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার পর এবার ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর পালা। মাশরাফি-সাকিবে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ভালো একটা ওয়ানডে সিরিজ খেলবে এমনটাই প্রত্যাশা। সেখানে এমন ফ্লপ ব্যাটসম্যানদের নিয়ে কিভাবে সেটা কাভার করা সম্ভব। না পারছেন তিনি টেস্ট ম্যাচে, না ওয়ানডে। সর্বশেষ ১৩ ইনিংসে কোনো হাফ সেঞ্চুরি পর্যন্ত নেই এ ব্যাটসম্যানের। এমন অবস্থা তার এ-ই প্রথম নয়। আরো বহুবার হয়েছে। টানা ব্যর্থ। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে টিকে যান তিনি দলে।

ঘরোয়া টপ অর্ডারে পারফরম্যান্স করা বহু ক্রিকেটার পারফর্ম করেও জাতীয় দলের কথা চিন্তাও করতে পারেন না। অথচ ঘরোয়া ক্রিকেটেও বাজে পারফরম্যান্স এ ব্যাটসম্যানের। কথিত রয়েছে হেড কোচ হাতুরাসিংহের খুবই আস্থাভাজন। হাতুরাসিংহের অনেক আস্থা। এক দিন বিশ্ব ক্রিকেটে অনেক বড় একজন ব্যাটসম্যান হবেন। অনেক সফল হবেন সৌম্য। আদৌ তেমন কোনো লক্ষণ কী দেখা যায় সৌম্যতে। নাকি বাঁ-হাতি এ ব্যাটসম্যানেরই ক্যারিয়ার শেষ করে দেয়া হচ্ছে। কারণ ব্যাটসম্যানরা আস্থাশূন্য হলে তাকে বিশ্রাম দেয়া হয়। নিজেকে গুছিয়ে আবার ফেরার সুযোগ থাকে তাতে। সৌম্য তো সে ফুরসৎও পান না। বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং লাইনে কী এমন স্বপ্ন বিলাসের সুযোগ রয়েছে? যেখানে প্রতিনিয়ত চলছে ব্যর্থতা ও হতাশা, তেমন এক দলে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.