বিরাট কোহলি
বিরাট কোহলি

কোহলির 'শূন্য' রেকর্ড

নয়া দিগন্ত অনলাইন

ব্যাট হাতে বিরাট কোহলি ক্রিজে এলেই প্রতিপক্ষ শিবিরে আতঙ্ক। কারণ চার-ছক্কায় বোলারদের নাস্তানাবুদ করে ছাড়েন তিনি। গড়েন রেকর্ড। তবে তিনি যখন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হন, তখনও রেকর্ড হয়! হ্যাঁ, তবে সেটা হয় লজ্জার রেকর্ড। যেমনটা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-২০তে। ওই ম্যাচে ব্যাট হাতে কোনো রান না করেও রেকর্ড গড়েছেন তিনি!

মঙ্গলবার প্রথম ওভারেই রোহিত শর্মা সাজঘরে ফিরলে ক্রিজে আসেন ভারত অধিনায়ক কোহলি। তবে তিনি খেলতে পেরেছেন মাত্র ২ বল। রান করতে পারেননি। অস্ট্রেলিয়ার পেসার জেসন বেহরেনডর্ফের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন। সাতে সাথে একটি রেকর্ডও গড়েন।

সেটি হলো, টি-২০ ক্রিকেটে শূন্য রানে আউট হওয়া। এর আগে ৫১ ম্যাচে ৪৭ ইনিংসে কখনোই শূন্য রানে আউট হননি কোহলি। এর মধ্য দিয়ে টি-২০ ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ইনিংস খেলে প্রথম ‘শূন্য’ রানে আউট হওয়ার নজির গড়েন তিনি।

এতো দিন রেকর্ডটি দখলে রেখেছিলেন পাকিস্তানের শোয়েব মালিক। ৪১তম ইনিংসে এসে প্রথম ‘ডাক’ মেরেছিলেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার। ৩৯ ইনিংস পর প্রথম ‘ডাক’ মেরেছিলেন যুবরাজ সিং।

এবার শোয়েবের চেয়ে ৬ ইনিংস বেশি খেলে শূন্যের দেখা পেলেন কোহলি। এ ছাড়া আরো একটি রেকর্ড গড়েছেন কোহলি।

টি-২০ ফরম্যাটে এটা ছিল ভারতের ৮৫তম ম্যাচ। এ ফরম্যাটে কোনো ভারতীয় অধিনায়কের এটাই প্রথম ‘ডাক’ মারার নজির।

কোহলিদের দুর্বলতা
বিরাট কোহালির দলের ব্যাটিং লাইন-আপ যে এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা, তার প্রমাণ তো বহু বার পাওয়া গেছে। এই ব্যাটিং লাইন-আপই সে দিন গুয়াহাটির মাঠে ব্যর্থ হওয়ায় অনেকে অবাক হয়েছেন।

জেসন বেহরেনডর্ফের প্রথম ওভারেই যে ভাবে ভারতের নামী ব্যাটিং লাইন-আপে ধস নামে, শুধু সেই ওভারটা ইউটিউবে একাধিকবার দেখলে ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দুর্বল একটা দিক সামনে চলে আসে। বাঁ হাতি পেসারদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের এই দুর্বলতা আগেও লক্ষ্য করা গেছে। সে দিন আবার তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অদূর ভবিষ্যতে বিরাটদের এই দুর্বলতা অন্য প্রতিপক্ষরাও কাজে লাগাতে পারে।

ভারতীয় ব্যাটিং ভালো পিচে ভালো। কিন্তু যেখানে বল ভালো নড়াচড়া করে, সেখানে তারা অসুবিধায় পড়ে। এটা শুধু ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের দোষ নয়। অন্য দেশের ব্যাটসম্যানদেরও এই অসুবিধা হয়। কিন্তু সমস্যাটা কাটিয়ে দ্রুত ছন্দে ফেরার ক্ষমতা থাকাটাই আসল ব্যাপার।

মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে জোড়া সমস্যায় পড়ে গিয়েছিল ভারতের ব্যাটসম্যানরা। একেই স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় বল ভালো সুইং করছিল, নড়াচড়াও করছিল। উইকেটে ঘাস ছিল। তার উপর সামনে বাঁ হাতি পেসার। যার বল স্টাম্পের ভিতরে ঢুকে আসছিল প্রায়ই। এখনকার ব্যাটসম্যানদের এটাই একটা সমস্যা। সবাই স্ট্রোক নিতে পছন্দ করে। বাইরের বলে চার-ছক্কা হাঁকাতে এরা ভালই জানে। কিন্তু ভিতরে ঢুকে আসা বল সামলানোর বিদ্যাটা অনেকেরই জানা নেই। শীর্ষ ব্যাটসম্যানরাও একই সমস্যায় ভুগছে!

সুনীল গাভাস্কার, গুন্ডাপ্পা বিশ্বনাথ-রা এদের মতো এত আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতেন না বটে, কিন্তু শরীরের কাছের বলগুলো দারুণ খেলতেন। যা এখনকার ব্যাটসম্যানরা তেমন পারে না। ক্রিজে থেকে সমস্যা কাটিয়ে ওঠাই একমাত্র সমাধান। এখনকার ক্রিকেটে তো অপেক্ষার ব্যাপারই নেই। ক্রিজে এসেই ব্যাট চালাও। খেলেটাও ছিল টি-টোয়েন্টির, তাই বেশি অপেক্ষা করার সময়ও নেই।

রোহিত শর্মা আড়াআড়ি শট খেলতে অভ্যস্ত। যার ফলে ভিতরে আসা বল খেলতে ওর অসুবিধা হয়। আর বাঁহাতি পেসারদের বল এমন একটা কোণে ঢোকে, যা ব্যাটসম্যানদের অসুবিধায় ফেলতেই পারে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে পাকিস্তানের মোহাম্মদ আমির এবং গুয়াহাটিতে বেহরেনডর্ফ প্রায় একই ভাবে ফেরায় রোহিতকে। এ জন্যই রোহিত টেস্টের চেয়ে ওয়ান ডে-তে বেশি সফল। ও পরিবেশ অনুযায়ী ব্যাট করার চেয়ে নিজের মতো করে ব্যাটিং করা বেশি পছন্দ করে। আর ওয়ান ডে ক্রিকেটে বেশির ভাগ সময় স্লিপ ফিল্ডার না থাকাটা ওর সুবিধা হয়।

আগামী বছর বিরাটরা দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডে যাবে। তার আগে এই সমস্যাটা কাটিয়ে উঠতে না পারলে কিন্তু সমস্যা হবে। ভারতীয় দল অনিকেত চৌধুরি, জয়দেব উনাদকট, বারিন্দর স্রানদের দলে রেখে তাদের দিয়ে নেটে বল করিয়ে বাঁহাতি পেসারদের খেলার অনুশীলন করেছে। এই প্রথাটা চালু রাখা উচিত।

বাঁ হাতির বিরুদ্ধে সমস্যা কাটাতে নেটে শরীরের কাছের বল খেলা প্র্যাকটিস করতে হবে। বাঁহাতি পেসারের বল কতটা কাট করছে, খেয়াল রেখে খেলার প্র্যাকটিস আরো দরকার। - আনন্দবাজার

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.