ইসলামের ছায়াতলে ৬ সফল পেশাজীবী
ইসলামের ছায়াতলে ৬ সফল পেশাজীবী

ইসলামের ছায়াতলে ৬ সফল পেশাজীবী

নয়া দিগন্ত অনলাইন

বিশ্বসুন্দরী, মডেল ও অভিনেত্রী 


ব্রিটেনের সাবেক বিশ্বসুন্দরী মার্কেটা কোরিনকোভা ইসলাম গ্রহণের পর নিজের নাম পরিবর্তন করে রেখেছেন মরিয়ম। তিনি নাম করা ফ্যাশন ডিজাইনার, সুপার মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। ইতালিতে অনুষ্ঠিত ২০১২ সালে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন এই সুন্দরীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ঘোষণা ফ্যানদের অবাক করেছে।

তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম গ্রহণ এবং দুবাইয়ে বসবাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিন বছর ধরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি।’ পরে দুবাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে খ্রিষ্টান ধর্ম ত্যাগ করেন তিনি। দুবাইয়ের আলি অ্যান্ড সনস গ্রুপস অব কোম্পানিতে সেলস ম্যানেজার পদে যোগও দিয়েছেন।

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা 


ক্রীড়াজীবনের শুরুর দিকেই কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী রিংয়ের ভেতরে ও বাইরে অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার পর তিনি আমেরিকান মুসলিমদের আদর্শ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। ১৯৬৪ সালে ২২ বছর বয়সে মোহাম্মদ আলী বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে নেন। এরপর আলী জনসমক্ষে খ্রিষ্টধর্ম ত্যাগ করার কথা এবং নিজের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহ এবং শান্তিতে বিশ্বাস করি। আমি শ্বেতাঙ্গ প্রতিবেশীদের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করব না। আমি শ্বেতাঙ্গ কোনো নারীকেও বিয়ে করতে চাই না। ১২ বছর বয়সে আমি খ্রিষ্টধর্মে দীক্ষিত হই। তবে আমি কী করছি, তখন তা জানতাম না। আমি আর খ্রিষ্টান নই।’


ইরানে ইসলাম গ্রহণ কেরেন পোল্যান্ডের ইঞ্জিনিয়ার

পোল্যান্ডের অধিবাসী প্রকৌশলী ড্যানিয়েল ভিঝোনোভস্কি ইরানের উত্তরাঞ্চলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। ইরানের গিলান অঞ্চলের আস্তানা আশরাফিয়া শহরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর ৩৯ বছর বয়স্ক এই সাবেক ক্যাথলিক খ্রিস্টান বলেছেন, পূর্ণতা অর্জনের জন্য ইসলামকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে মনে করি। তিনি মিসেস সাদেকি নামের একজন ইরানি মুসলিম নারীকে বিয়ে করেছেন। তারা ব্রিটেনের একটি কোম্পানিতে কাজ করার সময় পরস্পরের সঙ্গে পরিচিত হন।

এই ইঞ্জিনিয়ার আস্তানা আশরাফিয়া শহরের জুমা ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম মুহাম্মাদ সাজেদির কাছে এসে কলেমা শাহাদাতাইন পাঠ করে মুসলমান হন। ইন্টারনেটে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে গবেষণা ও পবিত্র কুরআন অধ্যয়নের পর ইউরোপের এই নাগরিক ইসলামকে শ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে উপলব্ধি করতে সক্ষম হন।

বৃটিশ সাংবাদিক 


রেডলি একজন বৃটিশ মহিলা সাংবাদিক। আফগানিস্তানে মার্কিন হামলার মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি ছদ্মবেশে আফগানিস্তানে প্রবেশ করেন। কিন্তু তালেবানদের হাতে সাথে সাথেই তিনি বন্দি হন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে তিনি ইসলাম বিষয়ে বিস্তর পড়াশোনা করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।

রেডলি বলেন, আমি মনে করি, অন্যের সাথে সম্পর্ক ও কর্মপন্থা ঠিক করার আগে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নজর দেয়া উচিত। প্রেসিডেন্ট বুশ তালেবান সরকারকে বিশ্বের সর্প বলে ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করি, আমি তালেবানদের হাতে বন্দি হয়েছি। মার্কিনীদের হাতে নয়, আমি তাদের বন্দিশালায় যেন মেহমানখানায় অবস্থান করছিলাম। আমি কিভাবে তালেবানদের কৃতজ্ঞতা আদায় করবো! কোন ভাষা পাচ্ছি না। আমি নিশ্চিত, তালেবান সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে মিথ্যা কথা বলা হয়েছে। আমি তাই স্থির করে নিলাম, আমি তাদের ধর্ম অধ্যয়ন করব। আর এ অধ্যয়ন ও গবেষণাই আমাকে ইসলামের পথ দেখাল।

রেডলি বলেন, আমি দীর্ঘ ৩০ মাস ইসলাম সম্পর্কে গবেষণা করেছি। আমি বিশেষত কোরআন ও হাদিস দ্বারা প্রভাবিত হই। আমি বিশ্বাস করি, একটি নতুন দুনিয়া আবিষ্কার করতে যাচ্ছি। আমি অনুভব করতে লাগলাম, একটি নতুন তাড়না আমাকে স্বীয় স্থানে স্থির থাকার ব্যাপারে বাধা দিচ্ছে। আমি ধীরে ধীরে অনুভব করতে লাগলাম, ঈমান আমার অন্তরকে প্রশান্ত করছে। মনে হচ্ছিল, আল্লাহ নিজেই আমার অন্তরে ইসলামের বীজ বপন করে চলছেন এবং আমাকে ঐ আধুনিক সভ্যতার পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত করছিলেন যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি। আমার অন্তরে এক চমৎকার প্রশান্তি ও স্বস্তিবোধ-এর সূচনা হতে লাগল। এটা নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রদত্ত। আর তখনি আমি মনে করলাম, ইসলাম গ্রহণের কথা ঘোষণার সময় এসে গেছে। অমনি কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করলাম। আমি হয়ে পড়লাম তখন থেকে মুসলিম। আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র আল্লাহই আমাকে তার হেদায়াত দান করেছেন। আজ আমি ঈমানের স্বাদ গ্রহণ করেছি। আসলে ঈমান হলো এ দুনিয়ার সবচেয়ে উত্তম অনুভূতি।

সাইকোথেরাপিস্ট ও গবেষক

ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের তিরস্কারমূলক ও আক্রমণাত্মক ভাষা প্রয়োগে অনেক অমুসলিম ইসলাম ও কুরআনের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাদেরই একজন লিসা এ শাঙ্কলিন। যিনি ট্রাম্পের মুসলিম বিরোধী প্রচারণায় ইসলাম ও কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। সাবেক সাইকোথেরাপিস্ট লিসা শানকিন শার্লট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে মনোবিজ্ঞানের ওজর গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

তিনি তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন, ট্রাম্পের বাড়াবাড়ি ও তির্যক মন্তব্যের কারণে একবছর আগেই লিসা শানকিন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। চলতি বছর (২০১৭) ঠিক সেই দিন তিনি হিজাব পরিধান করেছেন, যে দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। আমি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি যে দিন ট্রাম্প শপথ নিবেন; সেই দিন থেকে আমার প্রকাশ্যে হিজাব পরা শুরু হবে।’

রাজনীতি বিজ্ঞানী ও ভাষাতাত্ত্বিক

ফরাসি নও-মুসলিম নারী নাথালিয়েলে লে-বেররে বড় হয়েছেন একটি ক্যাথলিক পরিবারে। তিনি বিশ্বাস করতেন ধর্মই মানুষকে রক্ষা করতে পারে।  তিনি বলেছেন, আমার পড়াশুনার বিষয় ছিল রাজনীতি বিজ্ঞান ও ভাষাতত্ত্ব। তাই আমি মনে করতাম কোনো জনপদ বা জাতির রাজনীতি বোঝার জন্য আগে তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে জানা উচিত। অন্যদিকে মধ্য-এশিয়া, ইরান ও ভারত উপমহাদেশ সম্পর্কে আমার বিশেষ আগ্রহ ছিল। আর এইসব কারণে আমি ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক গবেষণা ও পড়াশুনা শুরু করি। এ কারণেই জার্মানিতে পড়াশুনা শেষ করার পর যখন ফ্রান্সে ফিরে আসি তখন ইসলাম সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশুনা শুরু করি।

লেবেররে'র নিজের ভাষায়: ‘একদিন নিজ এপার্টমেন্টে ঢুকে সবিস্ময়ে দেখলাম যে বাবা ও মা আমাকে দেখতে এসেছেন। আমাকে দেখা মাত্রই মা শুরু করলেন কান্নাকাটি। তিনি যত সময় নিউইয়র্কে ছিলেন এ সময়ে তার কান্না আর থামেনি। বাবা-মা মনে করতেন মুসলমান মানেই সন্ত্রাসী। তাই নিশ্চয়ই সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছি ও তাদের গ্রুপের সদস্য হয়েছি। পাশ্চাত্যে ইসলাম ও মুসলমানদের সম্পর্কে গণমাধ্যমগুলোর অপপ্রচারের প্রভাবেই এ ধরণের মনোভাব সৃষ্টি হয়েছে আমার মা-বাবার মধ্যে। এইসব গণমাধ্যমের প্রচারণায় হিজাবকে নারীর ওপর জুলুম অত্যাচারের মাধ্যম ও নারী স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ার বলে তুলে ধরা হয়।

তাই আমার বাবা মায়ের মধ্যেও এই একই ধারণা জন্ম নেয়াটা ছিল খুবই স্বাভাবিক। তারা মনে করতেন ইসলামকে ধর্ম হিসেবে বেছে নেয়ার মাধ্যমে আমি নিজের ধ্বংসের পথই বেছে নিয়েছি। আমি তাদের কাছে ইসলামের সত্যতা তুলে ধরার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানো সত্ত্বেও তাদের চিন্তা-চেতনায় কোনো পরিবর্তন দেখা দেয়নি এবং আমার মায়ের কান্নাও থামেনি। উল্টো তারা আমাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার এবং পড়াশুনার খরচ বন্ধ করে দেয়ারও হুমকি দেন। এ সময় বাবা কিছুটা শান্ত আচরণ করতেন। কিন্তু তিনি বলতেন, ঘরের বাইরে যাওয়ার সময় তোমার মাথায় ওই স্কার্ফ বা ওড়না রাখবে না।’

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.