শিশুর প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে করণীয়
শিশুর প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে করণীয়

শিশুর প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে করণীয়

মো. সাজেদুল ইসলাম

শিশু প্রতিবন্ধিতা নিয়ে কর্মরত প্রতিষ্ঠান ‘সিএসএফ গ্লোবাল’-এর মতে, বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ছয় লাখ ৫০ হাজার শিশু রয়েছে, যারা মূলত চার ধরনের প্রতিবন্ধিতার শিকার। এগুলো হলো- শারীরিক, দৃষ্টি, শ্রবণ ও মৃগী। 

সিএসএফ গ্লোবালের সভাপতি ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ডক্টর মোহাম্মদ মুহিত দেশব্যাপী গবেষণা করেন শিশু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার ওপর। তার গবেষণায় জানা গেল, বাংলাদেশে ৪০ হাজার শিশু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। সঠিক সময়ে চিকিৎসা, সেবা ও পরামর্শ পেলে আমাদের মতো স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারত এসব শিশু।

প্রতিষ্ঠানটির ২০০৮ সালের অন্য একটি গবেষণায় জানা যায়, বাংলাদেশে অসংখ্য প্রতিবন্ধী শিশু রয়েছে। তাদের মধ্যে অন্যতম শ্রবণপ্রতিবন্ধী, সেরিব্রালপালসি, মুগুড় পা, মৃগী, কাটা ঠোঁট, কাটা তালু, জলমাথাসহ অন্যান্য প্রতিবন্ধী শিশু। সিএসএফ গ্লোবালের মতে, বাংলাদেশে সব প্রতিবন্ধিতার পেছনে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়, গর্ভকালীন ও প্রসবকালীন সময়ে মায়ের যত্ন, অসচেতনতা, সুচিকিৎসার অভাব ও পুষ্টিহীনতা অন্যতম কারণ। সচেতনতা, রোগ সম্পর্কে ধারণা, সঠিক চিকিৎসার ধারণা, চিকিৎসাসেবা কোথায় কিভাবে পাওয়া যাবে সে সম্পর্কে ধারণা না থাকাও একটি কারণ।

গর্ভকালীন মায়ের অসুস্থতা, রুবেলা, অপুষ্টি, অতিমাত্রায় ওষুধ সেবন, প্রসবকালীন সমস্যার কারণে শ্রবণপ্রতিবন্ধী শিশু জন্মগ্রহণ করতে পারে। জন্ম-পরবর্তী সময়ে শিশুর বিভিন্ন রোগের কারণেও শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা হতে পারে। যেমন- কানের সংক্রামক, টাইফয়েড, মেনিনজাইটিস, নিউমোনিয়া, মাথা বা কানে আঘাত ইত্যাদি। একজন মা যদি এ বিষয়ে জানেন তবে তিনি নিজেই সময়মতো তার শিশুর শ্রবণ সমস্যা আছে কি না পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। তিন মাস বয়সের সময়েই শব্দ হয়, এমন খেলনা বা বিভিন্নভাবে শব্দ করে আমরা পরীক্ষা করে নিতে পারি শিশুর শ্রবণ সমস্যা আছে কি না। কানে কোনো ধরনের শলাকা বা ম্যাচের কাঠি দিয়ে কান চুলকানো ঠিক নয়। মনে রাখা উচিত, কান পরিষ্কার করার কোনো প্রয়োজন হয় না। কান এমনি এমনি আপন গতিতে পরিষ্কার হয়ে যায়। কান দিয়ে পানি পড়া, পুঁজ বা ময়লা পড়লে বা ব্যথা হলে নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে শিশুকে শ্রবণপ্রতিবন্ধিতা থেকে রক্ষা করা যেতে পারে।

প্রফেসর মুহিত মনে করেন, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও নির্দেশনা পেলে এ ধরনের শিশুরা লেখাপড়া, সামাজিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করতে পারবে। আর এ জন্য প্রয়োজন একীভূত/বিশেষায়িত স্কুলের মাধ্যমে দ্রুত বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং পরিবার, সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা। সময়মতো ব্যবস্থা গ্রহণ ও সচেতনতা প্রতিবন্ধিতার প্রকোপ কমিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই এগিয়ে আসবেন, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

প্রতিবন্ধীদের সমবেদনা নয়, সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেকেই তাদের অবহেলা না করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা দিন, তাহলে তারা ফিরে পাবে মনোবল এবং বোঝা হয়ে থাকবে না। দেশ ও সমাজ গড়ার কাজে তারা শক্তি-সামর্থ্য দিয়ে সাহায্য করবে। 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.