ইডিইউর তারুণ্যমুখর আড্ডায় নোমান

চট্টগ্রাম ব্যুরো

উৎসুক চোখগুলো খেলছিল ক্যারামের বোর্ডে। একটু পরপরই হই হুল্লোড়। কখনো চিৎকার। আবার মুহুর্মুহু করতালি। আড্ডা জমে যখন প্রায় একাকার, ঠিক তখনই ‘ইশ’ বলে আফসোসের শব্দ। লাল রঙের (রেড) গুটিটা পড়ে-পড়ে করেও আটকে গেল পকেটের কাছে। শুরু হলো মাতামাতি। পয়েন্ট পাওয়া নিয়ে যেন রীতিমতো যুদ্ধ। হঠাৎ-ই ভিড় ঠেলে তরুণদের কাঁধে একটি হাত। ব্যস! মুহূর্তেই পকেটস্থ হলো কাক্সিক্ষত লাল রঙের সেই গুটি।
সবাই হতবাক। চোখ ফেরাতে এ কী! এ যে বীর মুক্তিযোদ্ধা, বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান! কিন্তু তিনি এখানে কী করছেন? প্রশ্ন করতেই মিষ্টি হেসে জবাব দিয়ে বললেন, ‘আড্ডা দিতে এলাম তোমাদের সাথে।’ তারুণ্যমুখর বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটিতে (ইডিইউতে) গত শনিবার দুপুরে যারা এমন দৃশ্য দেখেছেন, তাদের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি ব্যস্ত সময় কাটানো দেশবরেণ্য এই রাজনীতিবিদ তাদের সাথে আড্ডা দিতে আসবেন এভাবে। নগরীর প্রবর্তক মোড়ের বর্ধিত অ্যাকাডেমিক ভবনে তাকে কাছে পেয়ে শিার্থীরা আবেগে আপ্লুত। কেউ বা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সেলফি তুুলতে। অনেকে তার পাশে বসে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলেন নিজের মতো। আবদুল্লাহ আল নোমান এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় কাটান শিক্ষার্থীদের আড্ডায়। তিনি কথা বলেন তার ফেলে আসা স্কুল লাইফ নিয়ে যেখানে ভীষণ চটপটে ও দুরন্ত জীবনের গল্প উঠে আসে কথার ভাঁজে-ভাঁজে। কলেজ লাইফে উঠেই নাকি নাটক করার পাগলামিটা ভর করেছিল তার মনে। এরপর রাজনীতিতে জড়িয়ে মুক্তিযুদ্ধ। সব মিলিয়ে দেশকে ভালোবেসে এখনো পথচলা। কান্তিটাকে ছুটি দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া। আবদুল্লাহ আল নোমান যখন তরুণদের সাথে আড্ডায় মগ্ন, তখনই একজন ছাত্র দৌড়ে গিয়ে রাস্তার পাশ থেকে তার জন্য ডাব কেটে নিয়ে এলেন। শিার্থীদের এমন আতিথিয়েতায় মুগ্ধ হলেন তিনি। পিয়াল নামের একজন শিক্ষার্থী নোমানকে কাছে পেয়ে বললেন, ‘স্যার আমাদের বিশ্বাসই হচ্ছে না এভাবে বসে আপনি সবার সাথে কথা বললেন। কয়েকদিন আগে টিভিতে দেখলাম রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ বিতরণ করছেন। সবার জন্য সময়টা দেন কিভাবে?’ নাহিয়ান নামের আরেক শিার্থী তো বলেই ফেললেন, ‘বাইরে গিয়ে যদি বলি নোমান স্যার আমাদের সাথে বসে আড্ডা দিয়েছেন, তাহলে কেউ বিশ্বাসই করবে না!’ আড্ডায়-আড্ডায় আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, কয়েক দিন ধরেই ভাবছিলাম তোমাদের সাথে বসে কথা বলব। নিজের সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি করব। তারুণ্য আমাকে অনেক টানে। সেই টানেই কাজির দেওড়ির বাসা থেকে একাই চলে এলাম। তিনি আরো বলেন, দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রায় তোমাদের সব সময় এক থাকতে হবে। দেশকে ভালোবেসে পৃথিবীর বুকে সবুজ মানচিত্রটা তুুলে ধরা সবার দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি তারুণ্যই পারে শান্তিময় দেশ উপহার দিতে। ইডিইউর শিক্ষার্থীরা আগামী দিনের বাংলাদেশের ‘ক্যাপ্টেন’ বলে এই সময় উল্লেখ করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির চেয়ারম্যান ও জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ নোমান।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.