চট্টগ্রামে খাল খননে জমি অধিগ্রহণ

জটিলতাই ভাবাচ্ছে তিন সংস্থার কর্মকর্তাদের

ওমর ফারুক চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম নগরীতে খাল খনন নিয়ে চলছে বিস্তর আলোচনা। আলোচনা চলছে চট্টগ্রাম সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার মধ্যে। কারণ এই তিন সংস্থারই এখন প্রধান এজেন্ডাÑ নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন। এ এজেন্ডা বাস্তবায়নে আসবে বরাদ্দ, কিন্তু এই খাল খনন অতীতেও বহুবার করা হয়েছে। পুনরায় দখলও হয়ে গেছে। কাজের কাজ কিছু না হলেও খালখেকো ও খাল খননকারীদের পেটে গেছে সে খননের টাকা। তাই এবারো নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন এটাই, এবার খালের টাকা খাবে কে? কার পেটে যাবে খননের টাকা? এর কারণ খাল খননের আগে যে ভূমি অধিগ্রহণের দরকার সেটা অতীতে করতে পারেনি চসিক। তাই জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নে খাল খননে ১০৭ একর জমি অধিগ্রহণ জটিলতাই ভাবাচ্ছে ওই তিন সংস্থার কর্মকর্তাদের।
জানা যায়, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপরে (সিডিএ) ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনায় তিনটি নতুন খাল খননের সুপারিশ করেন নগর পরিকল্পনাবিদেরা। ২০১০ সালে নতুন একটি খাল খননের প্রকল্প গ্রহণ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। ২০১৪ সালে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর ইতোমধ্যে ওই প্রকল্পে অর্থ ছাড় শুরু হলেও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় তা থেমে যায়।
চসিক সূত্রে জানা যায়, ভূমি অধিগ্রহণের জন্য পুরো টাকা বরাদ্দ না পেলে অধিগ্রহণ কাজ শুরু করা যায় না। ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বহদ্দারহাট বাড়ৈপাড়া হতে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খননের উদ্যোগ নেয় চসিক। প্রকল্পটি অনুমোদন হওয়ার আগেই বারবার জমির মৌজা দর বেড়ে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। প্রায় পৌনে তিন শ’ কোটি টাকার প্রকল্পটি অনুমোদনের সময় ৩২৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। মোট প্রকল্প ব্যয়ের প্রায় ৬৯ শতাংশ অর্থাৎ ২২৪ কোটি টাকা খরচ হবে ভূমি অধিগ্রহণে। আর প্রকল্পের মেয়াদ রাখা হয়েছে ২০১৭ সাল পর্যন্ত, কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ অনুমোদন না পেয়ে কাজ শুরু করতে না পারায় গত বছরের ৮ মার্চ খাল খনন প্রকল্পের অনাপত্তিপত্র দেয় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ (চউক)।
জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৬টি খালের মধ্যে অস্তিত্ব রয়েছে ২৬টির। বিদ্যমান খালগুলো সংস্কার, বিলুপ্ত খালের জায়গার অবৈধস্থাপনা উচ্ছেদ ও নতুন খাল খনন না করে শুধু পাম্প হাউজসহ সøুইচ গেট নির্মাণ করলে সব টাকা পানিতে যাবে বলে মন্তব্য করছে পরিকল্পিত চট্টগ্রাম ফোরাম। সম্প্রতি সিডিএর কালুরঘাট থেকে চাক্তাইখাল পর্যন্ত কর্ণফুলী নদীর পাড়ে বেডিবাঁধ ও খালের মুখে সøুইচ গেট নির্মাণের জন্য এক হাজার ৯৭৮ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে একনেকে।
এ প্রসঙ্গে প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়–য়া বলেন, সিডিএ শুধু সøুইস গেট নির্মাণ করলেই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে না এবং কোনো লাভও হবে না। আগে খালের পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে। বালির ফাঁদ ও জলাধার নির্মাণ করতে হবে। নয়তো সব টাকা পানিতেই যাবে।
চসিক সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর সময়মতো অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় কাজ শুরুর আগেই নতুন এ খাল খনন প্রকল্পে দুই দফায় ৩২৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয় বেড়েছে। সম্প্রতি ব্যয় সংশোধন করে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আবারো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠায় চসিক। একইসাথে প্রকল্পের মেয়াদ আরো দুই বছর বাড়ানোরও আবেদন করা হয়। বর্তমান এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬১৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত ৪ মে মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে সংশোধিত ব্যয় যাচাই-বাছাইয়ের পর এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সম্প্রতি ভূমি অধিগ্রহণের জন্য ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ মিলেছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপ, চট্টগ্রাম ওয়াসা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক যৌথ সমন্বয় সভায় উলিখিত ভিন্নতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.