ভালোবাসি এ কথাটি

জোবায়ের রাজু

হাইস্কুল পার করে কলেজ জীবনে যেতে-না-যেতেই প্রেম জিনিসটা আমার জীবনে উঁকিঝুঁকি মারতে শুরু করেছে। ঘটনাটা কিয়ার করে বলিÑ কলেজের প্রথম দিনে নেকাবে মুখ ঢাকা একটি মেয়ে আমাকে সামনে পেয়ে ছোট্ট গলায় মিষ্টি করে বলল, ‘হাই’। কথাটি বলেই হিল পায়ে ঠক ঠক আওয়াজ তুলে কাসে চলে গেল। মেয়েদের গলা এত মিষ্টি হতে পারে আগে জানা ছিল না। কিন্তু এ মেয়ে আমাকে দেখে এভাবে হাই বলবে কেন? নিশ্চয় আমার মতো স্মার্ট ছেলেকে তার মনে ধরেছে। যদিও নেকাবে ফেস আবৃত বলে আমি তার চেহারা দেখিনি। কিন্তু নেকাবের ফাঁকে দুই চোখ দেখে অনুমান করতে পারছি এই মেয়ে ভয়াবহ সুন্দরী।
পরদিন আবারো আচমকা সিঁড়ির পাশে মেয়েটির সাথে দেখা হতেই ‘হাই’ বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে গেল। সেকি! আজো একই কাণ্ড! নাহ, এই মেয়ে আমার প্রেমেই পড়েছে।
বন্ধু শুভকে ব্যাপারটা বললাম। শুনে শুভ ১০০% শিওরিটি দিয়ে বলল, ‘মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফাটে না। এই মেয়ে তোমার প্রেমেই পড়েছে। ইশারায় তোমাকে বোঝাচ্ছে। তোমার বোঝা উচিত। পাশে গিয়ে বলোÑ ভালোবাসি।’
ভালোবাসি? হ্যাঁ, ভালোবাসিই। মধু মাখানো এই কণ্ঠের মেয়েকে আমার ভালোই লেগেছে। কিন্তু তাকে ভালোবাসার কথা জানাব কী করে। আমি যে চিরকাল ভিতু।
উপায় পেতে আবার শুভর দারস্থ হলাম। শুভ বললÑ ভালোবাসায় ভয় নেই। যখন ভয় পাও, সমস্যা কী? চিঠিতে মনের কথা লিখে পাঠাও। মনের মাধুরী মিশিয়ে প্রেমপত্র লিখে মেয়েটির হাতে দাও।
আইডিয়াটা মন্দ না। প্রেমপত্রই হবে আমার মনের কথা বলার একমাত্র ভরসা। সেদিন রাতেই বোরকা পরা সেই মেয়েটিকে একখানা প্রেমপত্র লিখলাম মনের সমস্ত ভাষা উজাড় করে।
পরদিন কলেজ গেটে মেয়েটির সাথে দেখা। নেকাবের আড়ালে তার হরিণী চোখ দেখে আমি যখন পুরোপুরি মুগ্ধ, তখনই সে অন্যবারের মতো মিষ্টি করে ‘হাই’ বলে চলে যাওয়ার সময় ডাকলামÑ ইয়ে শুনুন।
সে কাছে এসে বললÑ কিছু বলার আছে নাকি?
আমি এদিক-সেদিক তাকিয়ে পকেট থেকে চিঠিখানা বের করে মেয়েটির হাতে গুঁজে দিয়ে বললামÑএটা রাখেন।
চোখ কপালে তুলে সে বললÑ এটা কী?
বললামÑ বাসায় গিয়ে পড়ে দেখবেন।
এবার সে ইংরেজিতে ‘ইটস ওকে’ বলে চলে গেল।
সে রাতে আর আমার ঘুম হলো না। মেয়েটি চিঠিখানা পড়ে আমার সমস্ত মনের কথা এতক্ষণে জেনে গেছে। কাল কলেজে দেখা হলে কী বলবে কে জানে।

আজ কলেজের হল রুমের পাশ দিয়ে যেতে সে আমাকে ডেকে বললÑ এই যে শোনো, এটা নাও।
ওমা! মেয়েটি আমার হাতে একখানা চিঠি ভরে দিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল। পেছন থেকে শুভ এসে বললÑ কিরে, প্রেমপত্রের জবাব দিয়েছে মনে হয়। আমি আনন্দে চিৎকার দিয়ে বললামÑ ইয়েস দোস্ত।
শুভ আর আমি কলেজের ছাদে চলে গেলাম চিঠিখানা পড়তে। জানি না এখানে কী লিখেছে ওই অদেখা কুমারী।
আমরা যখন চিঠিখানা পড়ে শেষ করলাম। আমার মুখের হাসি চলে গেল আর শুভ অট্টহাসিতে মেতে উঠল। মেয়েটি লিখেছেÑ ‘তুমি এখনো গাধা রয়ে গেলে? আমি হাই বলার অর্থ এই নয় যে তোমাকে প্রপোজের সঙ্কেত দিচ্ছি। নেকাবে মুখ ঢেকে রাখি বলে তুমি আমাকে চিনতে পারোনি। আমি ইরা। মোমেনা আপার, মানে তোমার মায়ের চাচাতো বোন। সম্পর্কে তোমার খালা হই। যদিও আমাদের বয়স কাছাকাছি। ছোটবেলায় তোমার সাথে কত খেলেছি। তোমার সেসব মনে আছে ভাগ্নে?’
চিঠির এইটুকু পড়ে শুভ হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায়। আর আমি লজ্জায় মরে যাই।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.