বিসিএস যন্ত্রণা

তারেকুর রহমান

সবাই যখন বিসিএস প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে, ঠিক তখনি প্রেমিকাদের ফুচকা টানার কাজ করছে বদরুল। বদরুলের প্রেমিকার সংখ্যা ঠিক কত তা এখনো অনেকের কাছে ধাঁধার মতো। আশপাশে বন্ধুবান্ধব যখন বিসিএস যুদ্ধে নেমেছে বদরুল তখন নাক ডেকে ঘুমায়। তার অবশ্য বিসিএস নিয়ে অনেক দুর্বলতা। বিসিএসের কোনো বই খুঁজে পেলেই সেটি কিনে নিতে হবে। এরপর বইটি সুন্দর করে টেবিলে রেখে দেয়া হয়। তা আর কষ্ট করে খোলার দরকার হয় না বদরুলের। টানা তিনবার প্রিলি ফেল করলেও তার হাউশ মেটে না। সে নাকি বিসিএসের শেষ দেখে নেবে। বদরুল বিসিএস দেবে এটা তার পুরো গ্রাম জানে। একজন এসে বলল, শোন বদরুল, অনার্স-মাস্টার্স করছোস ভালো কথা, এবার বিসিএসটা ভালো কর।
Ñ হ, ভালোই করেই তো চেষ্টা করতেছি। এই যে বিসিএসের ওপর তিন বছরের ডিপ্লোমা করছি, আর এক বছর লাগব। এটাকে ইন্টার্নি বলে।
Ñযাক শুনে ভালো লাগল। দ্রুত শেষ করবি কিন্তু।
বদরুল হাসতে থাকে লোকটার বোকামি দেখে। যেভাবেই হোক বদরুলকে এবার বিসিএস প্রিলি টিকতেই হবে। সেই জন্য অবশ্য তার প্ল্যানেরও অভাব নেই। প্রতি ঘণ্টার রুটিন খুব সুন্দর করে টেবিলের ওপর টাঙানো আছে কিন্তু কখনোই সেই রুটিন ফলো করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। ভিন্ন উপায়ে প্রিলি টেকা যায় কি না তার ফন্দি আঁটছেন বদরুল। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিতে লাগলেন প্রশ্ন ফাঁস করা যায় কি না। কিন্তু বিসিএসের প্রশ্ন এখন আর ফাঁস হয় না এটা শুনে বেশ চিন্তিত বদরুল। প্রেমিকা বলে দিয়েছে এবার প্রিলি না টিকলে ব্রেকআপ হয়ে যাবে। না না তা হতে পারে না। প্রেমিকাকে হারানো যাবে না। যে করেই হোক বদরুলকে প্রিলি টিকতেই হবে। প্রিলি আস্তে আস্তে ঘনিয়ে আসতে লাগল। সেই বাতাস অবশ্য বদরুলকে ছুঁতে পারেনি। প্রিলির আগে ঘুমের ঘোর আরো বেড়ে গেল বদরুলের। সবাই যখন সারা রাত জেগে প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ঠিক তখনি বদরুল দেশীয় আন্তর্জাতিক প্রেমিকাদের নিয়ে ব্যস্ত। প্রিলি পরীা দিয়ে সবাই যখন চিন্তিত বদরুল তখন বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। তার কাটাকাটির পর ১৫০-এর বেশি থাকে। কিন্তু অন্যরা কোনোক্রমেই তা ১০০ অতিক্রম করতে পারছে না। সবাই অবাক হয় কিভাবে এত বেশি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে বদরুলের। বদরুল খিলখিল করে হাসে। সে বলে, শোন বিসিএস টিকতে টেকনিক লাগে, টেকনিক।
দিন যত যেতে থাকে বদরুলের নেগেটিভ মার্কিং বাড়তে লাগল। একপর্যায়ে এসে তা ৭০-এর নিচে নেমে গেল। বদরুলের মনের আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা দিলো। কিন্তু এ কথা বন্ধুদের জানানো যাবে না। কেউ জিজ্ঞেস করলে সে হেসে বলে, ১৫০-এর ওপর থাকবে আশা করি। প্রিলির রেজাল্ট দেয়ার পর অন্যরা টিকলেও বদরুল টেকেনি। এ কথা কাউকে বলা যাবে না। সবাইকে প্রিলি টিকেছে এই খবর জানিয়ে দেয়া হলো। আকাশে-বাতাসে একটা খবরই ঘুরে বেড়াচ্ছে বদরুলের প্রিলি টেকার কাহিনী। যেখানেই যায় সেখানেই বদরুল তার প্রিলি টেকার পেছনের ডেডিকেশনের গল্প শুনিয়ে দেয়। যদিও এ গল্পের ধারেকাছেও সে ছিল না।
রিটেন এক্সাম ঘনিয়ে এলেও বদরুলের পূর্ব রুটিনে কোনো পরিবর্তন আসেনি। কারণ সে প্রিলি না টিকেও সবাইকে টিকেছে বলে বেড়িয়ছে। এ দিকে প্রেমিকার কাছে বদরুলের কদর অনেক বেড়ে গেল। রিটেন এক্সামের আগে হঠাৎ করে মেস থেকে উধাও হয়ে গেছে বদরুল। সে গিয়ে এক বন্ধুর বাসায় উঠেছে। রিটেনের সময় সে ওই বন্ধুর বাসায় ছিল। একবারও বাসা থেকে বের হয়নি। সবাই জানে ও রিটেন দিতে গেছে। রিটেনের রেজাল্টের পরও বদরুল রিটেনে টেকে এ কথা চার দিকে প্রচার হয়ে যায়। ইদানীং নানা মানুষ তার কাছ থেকে বুদ্ধি নেয়া শুরু করে। বদরুলও দিলদরিয়া মানুষ, সে বুদ্ধি বিলিয়ে যাচ্ছে। প্রেমিকা এসে বদরুলকে সাফ জানিয়ে দেয় সে আর তাকে ছেড়ে যাবে না। বদরুল মনে মনে হাসে। কিন্তু কিছুই বলে না। ভাইভা ঘনিয়ে আসতেই বদরুলের বুক দুরু দুরু কাঁপতে থাকে। এবার ভাইভার রেজাল্টের পর সে কিভাবে বুঝাবে? ভাইভার রেজাল্ট দিলে কী বলবে বদরুল তা ভেবে কূল পাচ্ছে না সে। বিসিএসের ভাইভার রেজাল্ট দেয়া হয়েছে। কারো ফোন রিসিভ করছে না বদরুল। ফেসবুকের ইনবক্সে নক করছে কিন্তু কোনো রিপ্লাই দিচ্ছে না সে। বদরুল বিসিএসে টিকেছে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বদরুলের মোবাইল অফ পেয়ে তারই বন্ধু কাশেমের কাছে ফোন দেয় বদরুলের প্রেমিকা।
কাশেম তাজ্জব হয়ে বলে, বদরুল তো প্রিলিই টেকে নাই। বদরুলের প্রেমিকার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার অবস্থা। অবশ্য এর পর থেকে বদরুলের আর তার প্রেমিকার যোগাযোগ থাকার কথা না। বদরুলের মনের আকাশে মেঘের ঘনঘটা। সব হারিয়ে চাপাবাজ বদরুল আজ নিঃস্ব। সে ভাবছেÑ আবার বিসিএস দেবে। তবে এবার প্রিপারেশন নিয়েই দেবে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.