কন্যাসন্তান আল্লাহর নিয়ামত

জাব্বার কারিম

কন্যাসন্তান এখন আর বোঝা নয়। কন্যাসন্তানেরা সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বত্রই দাপটের সাথে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার ফলাফলের ক্ষেত্রেও দেখা যায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছে। পিতামাতার প্রতি ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা অনেক বেশি কর্তব্যপরায়ণ। এখনকার মেয়েরা ঘরসংসার সামলে অফিস-আদালত করছেন। সরকারি-বেসরকারি সামরিক-বেসামরিক করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সব পদেই মেয়েরা রয়েছেন। এরপরও কুসংস্কার মেয়েদের পিছু ছাড়ছে না। কন্যাসন্তানেরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার পথে এসিড-সন্ত্রাসের শিকার হন। তালাকপ্রাপ্তদের অনেকে প্রথম স্বামী দ্বারা আবার নির্যাতিত হন। অধম্য মেধাশক্তি থাকার পরও বাল্যবিবাহের শিকার হন। যৌতুকের কারণে স্বামী শাশুড়ির হাতে খুন হন। পরপর কন্যাসন্তান প্রসব করলে অপবাদ দেয়া হয়। এখনো পর পর কন্যাসন্তান প্রসব করায় তালাকের ঘটনা ঘটে। ছেলেমেয়ে সন্তানাদি আল্লাহর দান। ছেলে কিংবা মেয়েসন্তান জন্মদানের পেছনে মায়ের কোনো ভূমিকা থাকে না। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র আল্লাহরই। তিনি যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে পুত্র ও কন্যা উভয়ই দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করেন।’ ( সূরা শূরা : ৪৯-৫০)।
আইয়্যামে জাহেলিয়াতের যুগে কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হতো। এখন কন্যাশিশুদের হত্যা না করলেও পরিবারের বোঝা কমানোর জন্য কোনো কোনো এলাকায় অভাব-অনটনের কারণে বাল্যবিবাহ দেয়া হয়। বাসাবাড়িতে কাজের মেয়ে হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়। অনেকে কন্যাদের লিখাপড়া শিখানোর চেয়ে তাড়াতাড়ি বিবাহ দেয়াকে মঙ্গল মনে করেন। রিজিকের মালিক আল্লাহ তায়ালা। আল্লাহ সৃষ্টির সব মাখলুকের রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। সবাইকে তার রিজিকের ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে। অভাব-অনটনের ভয়ে কাউকে হত্যা করা মহাপাপ। কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘অভাব-অনটনের ভয়ে তোমরা তোমাদের সন্তানদের হত্যা করো না। আমিই তাদেরকে রিজিক দেই এবং তোমাদেরও। নিশ্চয়ই তাদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।’ ( সূরা বনি ইসরাঈল: ৩১)।
এখন পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরা বৈদেশিক রেমিট্যান্স নিয়ে আসছে, যা কোনো এক সময় কেউ চিন্তাও করতে পারত না। আল্লাহর কুদরত বোঝা খুবই মুশকিল। তিনিই ভালো জানেন, কখন কার মাধ্যমে কী কাজ করাবেন। আজ যেসব মেয়েরা আয়-রোজগার করে পিতামাতার খেদমত করছেন, পরিবারের ভরণ পোষণ করছেনÑ এ মেয়েরাই আখিরাতে পিতামাতার নাজাতের ফয়সালার কারণ হয়ে যাবে। যারা দুনিয়ায় কন্যাসন্তান নিয়ে কষ্ট ভোগ করে যাচ্ছেন, পরকালে কন্যাসন্তানরা জাহান্নামের আগুনের ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হবেন। কন্যাসন্তানের পিতামাতাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। হজরত আয়েশা রা: থেকে বর্ণিত হয়েছে, হজরত রাসূল সা: এরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি এরূপ অসহায় কন্যাদের কারণে কষ্ট ভোগ করবে, এই কন্যারা তার জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে ঢালস্বরূপ হবে। (বুখারি : ১৩৩৫)।
লেখক : ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষক

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.