হলদে খামের চিঠি : জীবনের বাঁকে বাঁকে

সিয়াম বিন আহমাদ

চিঠিটা খুব পুরনো। হলদে খামে ভরা। যদিও এখন ধূসর রঙে ঢাকা পড়েছে এর পুরোটা গা। তবুও ভেতরের দু-চারটে পাতা আজো আমায় ডেকে যায়। ইচ্ছে জাগে সব ফেলে তখনই ছুটি ওদের পিছু পিছু। কিন্তু সময় সুযোগ হয়ে ওঠে না আর। অধুনা গভীর রাতে দৈবাৎ ঘুমটি ভেঙে যায়। স্মৃতিরা ওবেলায় খুব ব্যস্ত হয়ে পড়ে আমাকে নিতে। আমিও অবুঝ শিশুর মতো শূন্যে ওড়া স্মৃতিঘুড়ির পেছনে ছুটি। যদিও অবশেষে কয়েক ফোটা অশ্রু নিয়েই ফিরে আসি। তবুও এতে তেমন ব্যথা অনুভূত হয় না আমার। সোনালি স্বপ্নগুলো পুড়ে পুড়ে হৃদয়টা আজ তামাটে। বেশ সইতেও শিখেছি আজ। একফোঁটা নিঃশ্বাস ছাড়ার প্রয়োজনে শিখতে হয়েছে এসব। জীবনের প্রতিটি পৃষ্ঠাই যেন এমন। কষ্টে আঁকা বেদনায় মাখা। ওরা ইচ্ছেমতোই আমাকে জ্বালায়। বাঁধা দেই না আমিও।
চিঠিটা মুড়ানো যন্ত্রণার ভাঁজে। বেদনার আঁচড়ে ভরা। পড়েছি আর কেঁদেছি, কেঁদে যাই আজো; তবে খুব নীরবে, সঙ্গোপনে। চিঠির শেষ পাতাটি আজ তোমাদের সামনে খুলে দিলাম। যদি কখনো চোখে পড়ে, পড়ে নিও।
‘শহর ছাড়লে। একদম আমাকে কিছু না জানিয়েই। তুমি জানো? আজো মায়াবী সন্ধ্যা নেমেছে। যদিও আমি সেটা উপলব্ধি করতে পারছি না। হারিয়ে গেছে আমার অনুভব, তলিয়ে গেছে আমার অনুভূতি। টবে দোলনচাঁপা ফুল ফুটবে। তার পরেই নেমে পড়বে রাত। রাতভর জ্যোৎস্নারা জাগবে। থাকবে মিটিমিটি তারকাদের লুকোচুরি। জোনাকি পোকারা আঁধারে হাবুডুবু খেলবে। ঝিঁঝি পোকারাও ডেকে যাবে তানপুরার সুরে। নিশুতি রাতে দূর ঝোপের আড়াল থেকে ভেসে আসবে ডাহুকের ডাক। হিজল বনে ফুটবে হিজল, তেমনি তমাল বনে তমাল। শ্রাবণ মেঘেরা নিমন্ত্রণ করে আনবে টিপটিপ ঘুমের বোল। শুধু ওবেলা থাকবে না তুমি। তুমি ছাড়া আজ আমার পৃথিবী।’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
কুষ্টিয়া

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.