ত্বকের যতেœ মাস্ক : রূপ কথা

ফাহমিদা জাবীন

রূপচর্চা কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রাচীনকাল থেকেই মেয়েরা তাদের সৌন্দর্যচর্চা করে আসছে। সৌন্দর্যচর্চার অন্যতম উপকরণ হিসেবে নানা উপাদানের মিশ্রণ তখনও ব্যবহার করা হতো। এসবই পরিবর্তন করে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে মেয়েদের সৌন্দর্যচর্চার উপাদান হিসেবে, যা ফেসপ্যাক বা মাস্ক হিসেবে সৌন্দর্যসচেতন মেয়েদের কাছে খুবই পরিচিত ও জনপ্রিয়।
ত্বককে সুরক্ষার দেয়ার জন্য বাজারে বহু পণ্য পাওয়া যায়। তবে রাসায়নিক উপাদানে তৈরি এসব পণ্যের বাইরে প্রাকৃতিক উপাদানে ত্বকের যতœ নেয়ার বিষয়টি এখনো মেয়েদের মধ্যে বেশি জনপ্রিয়। ঘরোয়া উপাদানে তৈরি কিছু ফেস মাস্কের বিষয়ে জানানো হলো। শীতে এগুলো আপনার ত্বকের যতেœ খুবই কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
দুধের প্যাক
ক্লান্ত ত্বকের জন্য এই প্যাক খুবই উপকারী। দুধের সাথে অল্প টকদই মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণ চোখের চার পাশ ছাড়া মুখের বাকি অংশে লাগিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট। এই মাস্ক আপনার ত্বককে করবে কোমল, ত্বকের ক্লান্তি দূর করবে এবং পিএইচ ব্যালান্স বজায় রাখবে। শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বককে দেবে সুরক্ষা।
ডিমের মাস্ক
একটি ডিমের সাদা অংশ আলাদা করে নিন। এবার এই অংশ ভালোভাবে ফেটে মুখে লাগিয়ে রাখুন। আধা ঘণ্টা পর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। তৈলাক্ত ত্বকের জন্য এই মাস্ক খুবই উপকারী। এই মাস্ক ত্বককে করবে সতেজ ও টানটান। ত্বককে করবে আরো উজ্জ্বল। শীতের এই সময়ে আলাদা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে ডিমের এই মাস্ক। অন্য দিকে যাদের ত্বক শুষ্ক তারা ডিমের কুসুমের সাথে দুই চা চামচ অলিভঅয়েল মিশিয়ে একইভাবে প্যাক ব্যবহার করতে পারেন। ডিমের কুসুম শুষ্ক ত্বকের জন্য খুবই ভালো।
ওটমিল মাস্ক
শীতে ত্বকের সুরক্ষায় খুবই ভালো কাজ করে এই মাস্ক। দুই টেবিল চামচ ওটমিল, দুই টেবিল চামচ ডিমের কুসুম ও দুই টেবিল চামচ মধু একসাথে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। মুখে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। এরপর কুসুমগরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বক হবে কোমল, মসৃণ ও দাগমুক্ত।
কলার মাস্ক
মিশ্র ত্বকের জন্য কলার মাস্ক খুবই উপকারী। কলা চটকে তাতে গুঁড়া দুধ মিশিয়ে দিন। এরপর মুখে লাগিয়ে রাখুন ৩০ মিনিট। এই মাস্ক ত্বকে পুষ্টি জোগাবে তাই ত্বক হবে উজ্জ্বল ও পেলব। শীতের শুষ্কতা থেকে ত্বককে সুরক্ষা দিতে এই মাস্ক খুবই কার্যকর। দুধের বদলে কলার সাথে মাখনও দিতে পারেন। কলার এই প্যাক ত্বকে আর্দ্রতা বজায় রাখতে খুবই ভালো কাজ করে।
মধু ও গোলাপজল
এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ গোলাপজল ভালোভাবে ফেটে সারা মুখে লাগিয়ে রাখুন। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। মধু ত্বকে ময়েশ্চারাইজিংয়ের কাজ করবে আর গোলাপজল টোনিংয়ের কাজ করে দেবে।
গাজর, মধু ও দইয়ের মাস্ক
গাজর বাটা দুই টেবিল চামচ, এক চামচ মধু ও দুই চামচ টকদই একসাথে ভালোভাবে ফেটে নিন। এবার এই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে রাখুন আধা ঘণ্টা। শুকিয়ে এলে ধুয়ে ফেলুন। দাগ দূর করতে এবং ত্বকের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করবে এই মাস্ক।
ঘরোয়া উপাদানে তৈরি এসব মাস্ক ত্বকে জোগায় ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান, যা শীতের রুক্ষতা দূর করার পাশাপাশি ত্বককে করবে স্বাস্থ্যোজ্জ্বল, মসৃণ ও সুন্দর।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.