মডেল : দেবদীপ ও নাহিদ নিশান ছবি : শওকত মোল্লা; স্টাইলিং : আকাশ পোশাক : ইজি
মডেল : দেবদীপ ও নাহিদ নিশান ছবি : শওকত মোল্লা; স্টাইলিং : আকাশ পোশাক : ইজি

ফরমাল শার্টে স্মার্ট : রঙের ঝলক

এ কে রাসেল

ছোটবেলা থেকে শুরু করে ছাত্রজীবন পর্যন্ত ছেলেরা মূলত ক্যাজুয়াল পোশাক পরে; যেমন টিশার্ট, পলো টিশার্ট, ফতুয়া প্রভৃতি। কিন্তু অফিসের ক্ষেত্রে কেমন হবে পোশাক। অফিসের পরিবেশটাই যে একদম ভিন্ন। বাইরে চলাচল করতে বা উৎসবের জন্য আমরা যেমন ক্যাজুয়াল আউটলুক বেছে নিই, তেমনি অফিসের দায়িত্বশীল আবহ ধরে রাখতে চাই ফরমাল আউটলুক। অফিসিয়াল পোশাক ব্যক্তির ইমেজকে ফুটিয়ে তোলে। ফরমাল পোশাক যেমন কোট, টাই আর স্যু মানুষকে অনেক বেশি স্মার্ট করে তোলে।
পেশাগত কারণে মানুষকে বাইরে ছুটতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে কর্মস্থলে পড়তে হয় নির্দিষ্ট ফরমাল পোশাক। যেসব অফিসে নির্দিষ্ট পোশাক পরার বাধ্যবাধকতা নেই, সেখানেও পরা চাই রুচিশীল পোশাক। অফিসে ফরমাল পোশাকের বিকল্প নেই। একজন ব্যক্তির পোশাক তার ব্যক্তিত্বকে অন্যের কাছে উপস্থাপন করে। একেকজনের পেশা একেক ধরনের। যেমন অনেককে অফিসে চেয়ার-টেবিলে বসে সারা দিন কাজ করতে হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে আবার বাইরে দৌড়াদৌড়ির কাজটাই বেশি। কাজের খাতিরে অনেকের সাথে দেখা করতে হতে পারে। তাই পোশাক বাছাই করতে হবে কাজের ধরন বুঝে। যাদের বাইরে কাজ বেশি থাকে তাদের উচিত আরামদায়ক ও হালকা পোশাক পরা। এতে গরমে অস্বস্তি কম হবে। তবে করপোরেট অফিসগুলোয় কাজের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাক বেছে নেয়া উচিত সব সময়। বিভিন্ন অফিস যেমনÑ ব্যাংক, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি বা অন্যান্য করপোরেট অফিসের ক্ষেত্রে ফরমাল পোশাক বাধ্যতামূলক। ফরমাল শার্ট-প্যান্টের ক্ষেত্রে অবশ্যই শার্ট ভালোভাবে ‘ইন’ করে পরতে হবে এবং সাথে মানানসই জুতা অবশ্যই থাকতে হবে।
এ সময়ের ফরমাল শার্ট নিয়ে জানতে চাইলে ইজির ফ্যাশন ডিজাইনার ও পরিচালক তৌহিদ চৌধুরী বলেন, কর্মস্থলে স্মার্ট থাকা খুবই জরুরি। তাই পোশাক নির্বাচনে ব্যাপারটি মাথায় রাখতে হবে। এখন যেহেতু হালকা শীত তাই ফরমাল পোশাক আরামদায়ক হবে। ফরমাল শার্টের ক্ষেত্রে কিছুটা ডিপ কালারের শার্ট মানানসই ও আরামদায়ক হবে। আগে ফরমাল শার্ট সবাই ঢিলেঢালা বেছে নিত, কিন্তু বর্তমানে সেমি ফিটিং শার্ট ও সেমি ন্যারো প্যান্ট বেশ চলছে। আর চেক বা স্ট্রাইপের শার্টের চেয়ে এক কালারের শার্টই ট্রেন্ডি। এখনকার তরুণেরা প্রিন্টের মধ্যে ফরমাল শার্ট বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে শার্টের ক্ষেত্রে ট্রেন্ড হলো সিøমফিট শার্ট। অফিসে যেমন হালকা রঙের শার্ট পরা হয়, বাইরে উজ্জ্বল রঙের শার্ট পরতে পারেন। বড় ছাপা, চেক প্রভৃতি নকশা থাকতে পারে শার্টে। রাতের পার্টিতে আপনার পোশাকটি অবশ্যই গর্জিয়াস হতে হবে। শার্টের রঙ গাঢ় বা সলিড হতে পারে। এসব অনুষ্ঠানে কালো রঙের ওপর কাজ করা শার্টও মন্দ হয় না। রঙের ক্ষেত্রে সাদা, কালো, ব্রাউন বেজ, পিচ, নীল, আকাশি বা হালকা বেগুনি রঙের পোশাক বাছাই করে নিতে পারেন।
পোশাকের ব্যাপারে অনেকেই নজর দিতেন না; কিন্তু আধুনিক এ করপোরেট যুগে দক্ষতার পাশাপাশি চাই স্মার্টনেস।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সামনে যাওয়ার আগে অবশ্যই শার্ট বা কোটের বোতাম ভালোভাবে আটকে রাখতে হবে।
অফিসে সব সময়ই মানানসই পোশাক পরা জরুরি। নিজের মাপের চেয়ে ছোট বা বড় পোশাক পরা উচিত নয়। নিজের ব্যক্তিত্ব আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলতে ঘড়ি, টাই, জুতা, ব্যাগ প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অফিসের পরিবেশের সাথে মানানসই পোশাক শুধু নিজের ইমেজ নয়, নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে।
তৌহিদ চৌধুরী বলেন, ফরমাল পোশাক আমার মতে এক কালার হলেই ভালো। খুব বেশি চকচকে বা কালারফুল না হওয়াই ভালো। শার্টের রঙ গাঢ় বা সলিড হতে পরে। আর সাথে পরবেন গাঢ় রঙের প্যান্ট। প্যান্টের মধ্যে লিনেন বা গ্যাবার্ডিন কাপড়ের প্যান্ট পরতে পারেন। পোশাক কেনা বা বাছাই করার সময় খেয়াল রাখতে হবে পোশাক ব্যক্তির সাথে কতটুকু মানানসই এবং মাপ ঠিক আছে কি না।
ব্র্যান্ডের শোরুম থেকে ক্রয় করলে সাইজ ঠিক আছে কি না, কালার ভালো লাগছে কি না, পরে আরামদায়ক মনে হচ্ছে কি না, চেহারার সাথে ম্যাচ করেছে কি না সবদিক দেখে বাছাই করুন ফরমাল শার্ট।
কোথায় পাবেন
‘ইজি, ক্যাটস আই, এক্সট্যাসি, ইয়েলো, জেন্টল পার্ক, আমবার, সেইলর, মেনজ ক্লাব, আর্টিস্টি, রিচম্যানসহ প্রায় সব ফ্যাশন হাউজেই ফরমাল শার্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ঘুরে ঘুরে কিনতে চাইলে বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক, নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, শাহবাগ আজিজ সুপার মার্কেট, নূরজাহান মার্কেটসহ পলওয়েল, গুলিস্তান ও চকবাজার পাবেন ফরমাল শার্ট। আপনি চাইলে কাপড় কিনে নিতে পারেন রাজধানীর বড় বড় শপিংমল থেকে। এখানে থান কাপড়ের দোকান রয়েছে এবং সাথে পেয়ে যাবেন টেইলার্স। থান কাপড় পাইকারি বা পরিমাণে বেশি প্রয়োজন হলে চলে আসুন গুলিস্তান, চকবাজার ও ইসলামপুরে।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.