ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করবে চায়না কোম্পানি

বিশেষ সংবাদদাতা

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনকে (সিএমসি) ঠিকাদার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পটি নির্মাণে ব্যয় হবে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ।

আজ বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ক একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে সভায় কমিটির অন্যান্য সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সভায় মিরেরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের এতথ্য জানান।

তিনি বলেন, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের লক্ষ্যে সিএমসির সাথে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রোকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশান) টার্নকি কনট্রাকটের ভিত্তিতে বাংলাদেশী মুদ্রায় ১২ হাজার ৫৬৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মূল্যের ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।

জানা গেছে, এই উড়ালসড়কটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সড়ক থেকে শুরু হয়ে ইপিজেড-চন্দ্রা ইন্টারসেকশনে গিয়ে শেষ হবে। এক্সপ্রেসওয়েটির মোট দৈর্ঘ্য হবে ২৪ কিলোমিটার। এর উভয় পাশে চারলেনের ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সংযোগ সড়কও নির্মিত হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা ও এর পার্শ্ববর্তী আশুলিয়া অংশের যানজট নিরসন হবে অনেকাংশে। এছাড়া ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমের ৩০টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের ঢাকা ছাড়ার জন্য গাবতলী, সাভার এবং চন্দ্রা এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকার প্রয়োজন হবে না।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের কাজ করবে নৌবাহিনী
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়নের কাজ করবে নৌবাহিনী। কোনো দরপত্র ছাড়াই নৌবাহিনী সাড়ে ৯৩ লাখ ঘনমিটার মাটি সরাসরি ক্রয় করে উন্নয়নের কাজ করবে। এতে ব্যয় হবে ২১৮ কোটি টাকা।

আজ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এই প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল-২ এ ব্লকের উন্নয়নের জন্য মাটি ভরাট করতে হবে। একাজে পাউবি প্রতি ঘনমিটার মাটির ক্রয়মূল্য সর্বনিন্ম ৩১৮ দশমিক ১৪ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৪০ দশমিক ৬৮ টাকা প্রস্তাব করেছে। এতে উন্নয়ন কাজের সর্বনিন্ম ব্যয় প্রায় ৩০৭ কোটি টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩১৮ কোটি টাকা দাঁড়ায়। অপরদিকে প্রতি ঘনমিটার মাটির ক্রয়মূল্য ২২৩ দশমিক ২০ টাকার প্রস্তাব করেছে নৌবাহিনী। এতে ব্যয় দাঁড়ায় ২১৮ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।

সূত্র আরো জানায়, নিয়মানুযায়ী সরকারি কেনাকাটায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুসরণ করতে হয়। তবে এ ক্ষেত্রে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ (পিপিএ) ধারা-৬৮ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ (পিপিআর)-এর বিধি-৭৬(২) অনুযায়ী জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।

মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের ৮৩১ একর জমি ব্লকের প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। এলাকাটি সমুদ্র তীরবর্তী হওয়ায় ভূমির উচ্চতা সমুদ্র থেকে সাত মিটারে উন্নীত করতে হবে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এ প্রকল্পের আওতায় চার দশমিক ১৫ মিটার ভরাটের কাজ প্রক্রিয়াধীন আছে। কিন্তু প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপিতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না থাকায় বাকি উন্নয়ন কাজের ব্যয় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাকি উন্নয়ন কাজের ব্যয় ‘বেজার’ নিজস্ব অর্থায়নে শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হয়।

এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কার্যালয় থেকে এ সংক্রান্ত সারসংক্ষেপ তৈরি করা হয়। সেখানে বলা হয়েছে, এই উন্নয়ন কাজ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের মাধ্যমে শেষ করতে সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু আসন্ন শীত মৌসুম অর্থাৎ আগামী ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। অন্যথায় কাজ শেষ করার জন্য ২০১৯ সালের শীত মৌসুমের অপেক্ষায় থাকতে হবে। কারণ মৌসুমী বায়ু প্রবাহের সাথে সাথে সমুদ্র উত্তাল হয়ে পড়ে। ওই সময় সমুদ্র অঞ্চলে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এসব বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে কাজ শেষ করা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ নৌবাহিনী একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক কাজ শেষ করেছে। মিরসরাই অথনৈতিক অঞ্চলটি সমুদ্রতীরবর্তী। সামুদ্রিক পরিবেশে নৌবাহিনীর কাজের বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ফলে এ উন্নয়ন কাজ নৌবাহিনীর পক্ষে শেষ করা সহজ হবে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৭ কিলোমিটার দূরে মিরসরাই উপজেলা ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবস্থান। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন করছে। বেজা সূত্র জানায়, ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের মধ্যে চারটি সরকারি ও ছয়টি বেসরকারি।
সরকারিগুলো হলো: মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল, মৌলভীবাজারের শ্রীহট্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল, বাগেরহাটের মংলা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও কক্সবাজারের সাবরাং পর্যটন অঞ্চল।

সূত্র আরো জানায়, মিরসরাই ও সোনাগাজীর সাত হাজার ৭১৬ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হবে এই অর্থনৈতিক অঞ্চল। কারখানা স্থাপনের জন্য এখানে এক হাজার ২২২টি প্লট তৈরি করা হবে। এতে ১০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.