চট্টগ্রাম মহানগরীতে বেড়েছে মশার উৎপাত

নূরুল মোস্তফা কাজী চট্টগ্রাম ব্যুরো

শীতের আগমনী বার্তার সাথে বন্দর নগরী চট্টগ্রামে বেড়েছে মশার উৎপাত। একদিকে মশার কামড়ে অতিষ্ঠ, অন্য দিকে মশাবাহিত নানা রোগের শঙ্কায় নগরবাসী। শীতকালে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় নালা-নর্দমায় পানির স্থিরতা বেড়ে যায়। ফলে মশার প্রজনন হারো অন্য সময়ের তুলনায় বাড়ে। চিকিৎসকদের মতে শীতকালে স্বাভাবিক কারণেই মশার উপদ্রব এবং ম্যালেরিয়া ও চর্ম রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ে।
সারা দেশে চিকনগুনিয়া জ্বরের বিস্তারের পরিপ্রেেিত গত জুলাই মাসে মশক নিধনে দুই মাসের ক্রাস প্রোগ্রাম শুরু করে চসিক। ওই কর্মসূচির পুরো সময়জুড়েই চট্টগ্রাম নগরীতে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়। ফলে পানি প্রবাহমান থাকায় তখন মশার প্রজনন তেমন হয়নি। কিন্তু বৃষ্টির মওসুম শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি নগরীতে মশার উৎপাতে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। জেএসসি ও জেডিসি পরীার্থীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানান।
এ দিকে নগরীর বিভিন্ন সরকার বেসরকারি হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চিকিৎসক চেম্বারে মশাবাহী নানা রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। মশার উৎপাত থেকে বাঁচতে বাজারের বিভিন্ন কয়েল ও ম্প্রে ব্যবহারেও নিস্তার মিলছে না উল্লেখ করে অনেকে জানান, করপোরেশনের প থেকে মশক নিধনে কার্যকর উদ্যোগ না নেয়ায় স্বাস্থ্যঝুঁকির পাশাপাশি আর্থিক ব্যয়ও বেড়েছে।
চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগে মশক নিয়ন্ত্রণে প্রতি বছর নগরীর বিভিন্ন বাসাবাড়িতে মশা ধ্বংসকারী ওষুধ ছিটানো হতো। এ ছাড়া বর্ষা মওসুম ছাড়া বছরের অন্য দিনগুলোতে নালা-নর্দমায় ‘লাইট ডিজেল এবং লিমব্যাক’ (লাল তেল নামে পরিচিত) নামক মশার ডিম ধ্বংসকারী একটি তেল ছিটানোর ক্রাস প্রোগ্রাম নগরজুড়ে দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু সম্প্রতি এই কার্যক্রম দৃশ্যমান হয় না বলে নাগরিকদের অভিযোগ।
সিটি করপোরেশনের অপর একটি সূত্র ওষুধ ছিটানোর চাইতে মশার প্রজনন ত্রে খাল ও নালা পরিচ্ছন্ন রাখাকে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলছে। কিন্তু সে েেত্রও যথাযথভাবে নালা-নর্দমা, ডোবা ও খাল পরিষ্কার না হওয়ায় কাক্সিত ফলাফল মিলছে না বলে সূত্র জানায়। সিটি করপোরেশনের প থেকে মশক নিধন কার্যক্রম চালু থাকার কথা বলা হলেও নগরজুড়ে মশার উৎপাত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে মশক নিধন কার্যক্রম চলছে। গত জুলাই মাসে শুরু হওয়া ক্রাস প্রোগ্রাম এখনো চলমান আছে বলে তিনি দাবি করেন।
গত জুলাইয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ ও নিধনে ক্রাস প্রোগ্রামের আওতায় নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ২০০ লিটার করে সার্ভেসাইড (মশার ডিম ধ্বংসকারী ওষুধ) এবং ৬০০ লিটার করে এডালটিসাইড (পূর্ণবয়স্ক মশা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটানোর কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.