আটক হওয়া প্রভাবশালীরা

প্রিন্স ওয়ালিদ বিন তালাল
বিশ্বজুড়ে ধনকুবের ও মানবসেবামূলক কাজের জন্য পরিচিত প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল। ওয়ালিদের দাদা সৌদি আরবের প্রথম বাদশাহ আবদুল আজিজ ইবনে সৌদ। আবার লেবাননের প্রথম প্রধানমন্ত্রী রিয়াদ আল সোলাহ তার নানা। ফোবর্স ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, প্রিন্স তালালের সম্পদের পরিমাণ ১৮ বিলিয়ন ডলার। যিনি কিংডম হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান। প্রিন্স ওয়ালিদের সিটি গ্রুপ, ফক্স নিউজ করপোরেশন এবং টুইটারে বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। ওয়ালিদ ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সৌদি অভিযানের সমালোচনা করেছেন এবং ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়াকে মর্যাদাহানিকর বলে উল্লেখ করেছিলেন।

প্রিন্স মুতাইব বিন আবদুল্লাহ
প্রিন্স মুতাইব বিন আবদুল্লাহ সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান। আরব গোত্র থেকে বাছাই করা তরুণদের নিয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছে। তার বাবা বাদশাহ আবদুল্লাহ পাঁচ দশক এই বাহিনীর প্রধান ছিলেন। ১৯৫৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন মুতাইব। তিনি ব্রিটেনের স্যান্ডহার্স্ট মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তাকে ন্যাশনাল গার্ডের কমান্ডার বলা হলেও এটি তার নিজস্ব মন্ত্রণালয়ের অধীন ছিল। তিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় ছিলেন। মুতাইব ফ্রান্সের বিখ্যাত হোটেল ডি ক্রিলনের মালিক। যেটি ২০১০ সালে ৩৫৪ মিলিয়ন ডলারে তিনি কিনে নেন বলে ফ্রান্সের পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়েছে।

খালিদ আল তুয়াজিরি
প্রিন্স না হয়েও সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন খালিদ আল তুয়াজিরি। বাদশাহ আবদুল্লাহর সময় থেকে তিনি সৌদি রয়্যাল কোর্টের প্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। তুয়াজিরির জন্ম ১৯৬০ সালে। সৌদি আরবে তিনি আইনের ওপর লেখাপড়া করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্স করেন। ইসলামি অপরাধ আইনের ওপর তার বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। তিনি বাদশাহ আবদুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে মনে করা হয়। তাকে অক্টোপাস নামে ডাকা হতো। সৌদি পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম নির্ধারক ছিলেন তুয়াজিরি। মিসরের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে অপসারণ ও বাহরাইনে বিক্ষোভ দমনে সৌদি সেনা পাঠানোর ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ২০১৫ সালে বাদশাহ সালমান ক্ষমতা গ্রহণের পর তাকে অপসারণ করা হয়।

বাকর বিন লাদেন
সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লাদেন গ্রুপের চেয়ারম্যান বাকর বিন লাদেন। ১৯৪৫ সালে মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন বাকর। ফোরিডার মিয়ামি ইউনিভার্সিটিতে লেখাপড়া করেন। প্রচারবিমুখ হিসেবে তিনি পরিচিত। সৌদি রাজপরিবারের অন্দরমহলে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে। তিনি ওসামা বিন লাদেনের বড় ভাই। লাদেন গ্রুপের বাণিজ্য সম্প্রসারণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

সালেহ কামেল
মধ্যপ্রাচ্যের বড় বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দালাহ আল বারাকাহ গ্রুপের চেয়ারম্যান সালেহ কামেল। তিনি সৌদি আরবের শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন কোম্পানির চেয়ারম্যান ও বোর্ড সদস্য। ফোবর্স ম্যাগাজিনের তথ্য অনুয়ায়ী তার সম্পদের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলার। তাকে ইসলামিক ব্যাংকিংয়ের অন্যতম উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও পাকিস্তান ও ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামি ব্যাংকিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করেন। এমনকি জার্মান চ্যান্সেলর অ্যানজেলা মার্কেলকেও ইসলামি ব্যাংকিংয়ে আগ্রহী করে তোলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামি আইন বিষয়ে একটি ইনস্টিটিউট খোলার জন্য অনুদান প্রদান করেন।

আল ওয়ালিদ আল ইবরাহিম
মধ্যপ্রাচ্যর ব্যবসায় সফল গণমাধ্যম মিডল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার (এমবিসি) প্রধান নির্বাহী আল ওয়ালিদ আল ইবরাহিম।
১৯৯১ সালে এই টেলিভিশন চালু করার পর তিনি আরো বেশ কয়েকটি চ্যানেল চালু করেন। এর মধ্যে আলজাজিরার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তিনি আল অ্যারাবিয়া নামে আরেকটি চ্যানেল চালু করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের নতুন মিডিয়া টাইকুন হিসেবে আবির্ভাবে চেষ্টা করছেন বলে মনে করা হয়। তিনি বাদশাহ ফাহাদের শ্যালক।

 

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.