ক্ষমতার লড়াইয়ে আঞ্চলিক সঙ্ঘাত

সৌ দি আ র ব
আলফাজ আনাম

সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের একক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে এখন নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির সাথে আঞ্চলিক সঙ্ঘাতের সম্ভাবনা তীব্রতর হচ্ছে। ইতোমধ্যে মোহাম্মদ বিন সালমান রাষ্ট্রের পূর্ণনিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। একই সাথে তিনি ইরানের সাথে উত্তেজনাকর সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। যার সূচনা হয়েছে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরবে এসে পদত্যাগের ঘোষণার মাধ্যমে। এক দেশের প্রধানমন্ত্রী আরেক দেশে এসে পদত্যাগ করার এমন বিস্ময়কর ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে আগে কখনো ঘটেনি। অপর দিকে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে পরিবর্তনের ধাক্কা দেশটির অর্থনীতিতে যেমন পড়তে যাচ্ছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। আসলে সৌদি ক্রাউন প্রিন্সের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটতে যাচ্ছে। এমনকি নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না।

একচ্ছত্র ক্ষমতায় বিন সালমান
বাদশাহ সালমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর ৩২ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ বিন সালমান যে দেশটির ভবিষ্যৎ কর্ণধার হবেন তাতে কোনো রাখঢাক ছিল না। কিন্তু রাজপরিবারে এই পরিবর্তন কোন প্রক্রিয়ায় ঘটবে তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। সালমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ২০১৫ সালে মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদানের মধ্য দিয়ে তার ক্ষমতার বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। গত জুনে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে মোহাম্মদ বিন সালমানকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা হয়। নায়েফ ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে। তাকে সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ তার হাতে চলে আসে। কিন্তু সৌদি আরবের প্রতিরক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী হচ্ছে ন্যাশনাল গার্ড। যার প্রধান ছিলেন প্রিন্স মুতাইব বিন আবদুল্লাহ। নায়েফের মতো মুতাইবকেও মোহাম্মদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ভাবা হতো।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে যে ১১ জন প্রিন্স, ৩৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সাবেক মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তার মধ্যে মুতাইব রয়েছেন। ন্যাশনাল গার্ডের নিয়ন্ত্রণ বিন সালমানের জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল। সৌদি বিভিন্ন গোত্র থেকে বাছাই করা তরুণদের নিয়ে এই বাহিনী গঠিত। বিশেষ করে মুতাইব ও উতাইবা এই দুই গোত্রের প্রভাব ন্যাশনাল গার্ডে সবচেয়ে বেশি। আর এই গার্ডের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। মুতাইব বাদশাহ আবদুল্লাহর পুত্র। মোহাম্মদ বিন সালমান এ ক্ষেত্রে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। মুতাইবকে সরিয়ে দেয়ার মাধ্যমে সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর ওপর পূর্ণনিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো।
এই অভিযানে আরো যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে ধনকুবের প্রিন্স ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করেন এমন ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা রয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন ওয়ালিদ বিন তালাল। যিনি সারা বিশ্বে ধনকুবের ও মিডিয়া টাইকুন হিসেবে পরিচিত। ওয়ালিদের গ্রেফতারের সাথে অর্থনৈতিক স্বার্থ রয়েছে বলে মনে করা হয়। বিন সালমান সৌদি আরবে যে নতুন শহর গড়ে তুলছেন তাতে ওয়ালিদকে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না ওয়ালিদ।
এ ছাড়া সৌদি আরবের রোতনা মিডিয়া গ্রুপ এবং মার্কিন ও ব্রিটিশ মিডিয়ায় তার বিনিয়োগ আছে। ফলে মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের জন্য তাকে বাগে আনা প্রয়োজন ছিল। একই কারণে বাদশাহ ফাহাদের শ্যালক ও ব্যবসায়ী ওয়ালিদ আল ইব্রাহিমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সৌদি আরবের আরব রেডিও ও টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (এআরটি ) এবং মিডল ইস্ট ব্রডকাস্টিং সেন্টার (এমবিসি) মিডিয়া গ্রুপের প্রধান। এদের গ্রেফতারের মাধ্যমে মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো। এ ছাড়া সৌদি আরবের বড় নির্মাণ প্রতিষ্ঠান লাদেন গ্রুপের প্রধান বাকর বিন লাদেন ও আল বারাকা গ্রুপের চেয়ারম্যান সালেহ কামেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। বিপুল সম্পদের মালিক এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পদ জব্দ করা হবে তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যে দেয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে পারে।
এ ছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের মধ্যে দু’জন প্রিন্সের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এরা হলেন সাবেক ক্রাউন প্রিন্স মুকরিন বিন আবদুল আজিজের পুত্র মনসুর বিন মুকরিন এবং বাদশাহ ফাহাদের ছেলে আবদুল আজিজ বিন ফাহাদ। এর মধ্যে মনসুর মারা যান রহস্যজনক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় অপর দিকে আবদুল আজিজের মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
অনেক বিশ্লেষক মনে করেন, মোহাম্মদ বিন সালমানের একক ক্ষমতাচর্চার বিরুদ্ধে রাজপরিবারের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। সম্ভবত তার বিরুদ্ধে যেসব প্রিন্স ও প্রভাবশালী ব্যক্তি অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের সবাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুধু আইওয়াশ। এখন মোহাম্মদ বিন সালমান সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তিনটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর প্রধান, সব অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে মিডিয়াও তার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। কার্যত বিন সালমানকে এখন কারো মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে না। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে চলে আসা রাজপরিবারের সবার মতামতের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতির বিলোপ ঘটেছে। একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইতোমধ্যে বিন সালমান সৌদি আরবের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছেন। বড় বড় রাষ্ট্রীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া হচ্ছে। সৌদি আরামকোর শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে। একই সাথে তিনি সৌদি আরবকে মধ্যপন্থী মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। নারীরা আরো বেশি স্বাধীনতা পাবে। সিনেমা, থিয়েটার, নারী ও পুরুষের একসাথে খেলা দেখার অনুমোদন দেয়া হবে। পর্যটন খাতকে আরো বেশি আকর্ষণীয় করা হবে। ধর্মীয় আবহে ঐতিহ্যবাহী সৌদি সমাজব্যবস্থায় এর বিরূপ প্রভাবও আছে। প্রকৃতপক্ষে বিন সালমান সৌদি আরবকে ধীরে ধীরে সেকুলার সমাজব্যবস্থার দিকে নিয়ে যেতে চান। তার এসব সংস্কারে সৌদি আরবের তরুণদের বিপুল অংশের সমর্থন আছে বলে মনে করা হয়। একই সাথে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ধাক্কা সামলাতে পারবেন কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। রাজপরিবারে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তিনি অনেক বেশি ঝুঁকি নিয়েছেন।
আঞ্চলিক সঙ্ঘাত
সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান দেশের ভেতরে নিজের অবস্থান সংহত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। এই যুদ্ধে আট হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ইরানের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে। এর মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর দেশটির ইরান নীতিতে যে পরিবর্তন আসে, তাতে মূল ভূমিকায় চলে আসে সৌদি আরব ও ইসরাইল। এ ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রাখছেন ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন। ইসরাইলের সাথে সৌদি আরবের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম জ্যারেড কুশনার। ইতোমধ্যে ডেনাল্ড ট্রাম্প সৌদি রাজপরিবারে মোহাম্মদ বিন সালমানের সব তৎপরতাকে সমর্থন দিয়েছেন এবং বলেছেন ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের প্রতি তার আস্থা রয়েছে।
সৌদি-ইসরাইল পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইয়েমেনের পর এখন দৃষ্টি দেয়া হয়েছে লেবাননের দিকে। দেশের ভেতরে দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের আগের দিন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ আল হারিরিকে সৌদি আরবে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়। সাদ হারিরি সৌদি নাগরিক এবং দেশটিতে তার বিপুল বিনিয়োগ রয়েছে। হঠাৎ করে সফররত সাদ আল হারিরি টেলিভিশনে ঘোষণা দেন তার জীবনের নিরাপত্তাশঙ্কা দেখা দেয়ায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। আর তার এই জীবনের শঙ্কা আসছে হিজবুল্লাহ আর ইরানের দিক থেকে। সাদ হারিরির এই পদত্যাগের ব্যাপারে লেবাননের সরকার ও তার দলের নেতারা কিছুই জানতেন না। লেবাননে যে ঐকমত্যের সরকার রয়েছে, তার অন্যতম অংশীদার ইরানপন্থী হিজবুল্লাহ। সাদ হারিরির পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই হিজবুল্লাহ-প্রধান হাসান নসরুল্লাহ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে কিডন্যাপ করে সৌদি আরব পদত্যাগে বাধ্য করেছে। লেবানন সরকারের পক্ষ থেকে এভাবে পদত্যাগ করার ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তার জীবনের ওপর ঝুঁকি আছে বলে ঘোষণা করা হলেও এ ঘটনার কয়েক দিন আগে তিনি ইরানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আলী আকবর বেলায়েতির সাথে বৈঠক করেন। দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন। এমনকি তিনি যখন লেবানন থেকে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা দেন, তখন ছিলেন দুশ্চিন্তামুক্ত। বিমানবন্দরে কর্মীদের সাথে তিনি হাসিমুখে সেলফি তোলেন। কার্যত লেবাননে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য সৌদি আরব চাপ দিয়ে সাদ হারিরিকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাদ হারিরর পদত্যাগের ঘোষণার সময়ই সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইয়েমেনের হাউচি বিদ্রোহীরা রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরান হাউচি বিদ্রোহীদের কাছে এই ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে অভিযোগ করা হয়। এর পর থেকে ইরানের সাথে বাগ্যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে সৌদি আরব। লেবাননে হিজবুল্লাহকে কোণঠাসা করতে সৌদি পরিকল্পনায় আবার লেবাননে হামলা করতে পারে ইসরাইল। অর্থাৎ আরেকটি ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধের শঙ্কা বাড়ছে।
সাদ হারিরির পদত্যাগ নিয়ে লেবাননে অস্থিরতা সৃষ্টির মধ্যে খবর আসে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদু রাব্বো মনসুর হাদি, তার পুত্র ও একাধিক মন্ত্রীকে রিয়াদে গৃহবন্দী করে রাখা হয়েছে। সৌদি সমর্থিত মনসুর হাদির সমর্থকেরা ইয়েমেনের বেশ কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এডেন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদের সাথে তার মতভেদের কারণে তাকে গৃহবন্দী করে রাখা হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এডেন বন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে। এ ছাড়া হাদির দল আল ইসলাহ পার্টির সাথে মুসলিম ব্রাদারহুডের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সেকুলারদের ক্ষমতাসীন করার পরিকল্পনায় মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান পরামর্শদাতার ভূমিকা পালন করছেন জায়েদ।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লেবাননে হিজবুল্লাহকে যেমন কোণঠাসা করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সাথে হামাসকে মধ্যপ্রাচ্যর রাজনীতির দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়া হচ্ছে। সৌদি-মিসরীয়- ইসরাইলি প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হামাসকেও বাধ্য করা হয়েছে গাজার নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেয়ার। ইতোমধ্যে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের বিপক্ষে স্বাধীন অবস্থান নেয়া কাতারও নিরাপত্তা সঙ্কটে রয়েছে। নিঃসন্দেহে সৌদি আরব ও ইসরাইলের প্রথম টার্গেট হচ্ছে লেবানন। একই সাথে কাতারের ওপর চাপ আসতে থাকবে।
কাতারের শাসক পরিবর্তনে সৌদি আরব একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। অপর দিকে বিন সালমানের বিরোধী প্রিন্সদের সাথে কাতারের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আছে বলে মনে করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি টার্গেট থেকে রক্ষা পেতে কাতার আরো বেশি তুরস্কের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ইতোমধ্যে কাতারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে ঘাঁটি নির্মাণ ও সৈন্যসংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কার্যত মোহাম্মদ বিন সালমানের নীতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল রাজনীতিতে দ্রুত নানামাত্রিক মেরুকরণ ঘটছে।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.