খোঁজ মেলেনি নর্থ সাউথ শিক্ষক সিজারের

নিজস্ব প্রতিবেদক

নিখোঁজের দুই দিন অতিবাহিত হলেও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোবাশ্বের হাসান সিজারের এখনো কোনো খোঁজ মেলেনি। সিজারকে উদ্ধারে যেকোনো ক্লু পেতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ জানিয়েছে, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ তাকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের লায়ন্স ভবনের সামনে শণাক্ত করা গিয়েছিল। সিজারের পরিবার বলছে, সরকারের কাছে তাদের অনুরোধ তারা যেন সিজারকে জীবিত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুবাশ্বার হাসানকে শণাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এখনও খোঁজ মেলেনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সহকারী অধ্যাপকের।

পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে সিজারের অবস্থান ছিল আগারগাঁও লায়ন্স ভবন, আইডিবি ভবনকেন্দ্রিক। ট্র্যাকিংয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত এই জায়গায় তাকে পাওয়া গেছে। পৌনে সাতটা থেকে সিজারের মোবাইল বন্ধ রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে তার মোবাইল ফোনে সর্বশেষ ফোন এসেছিল। তখন তিনি বেগম রোকেয়া স্বরণীর লায়ন্স ভবনের দিকেই ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, এরপর থেকেই নিখোঁজ হন নর্থ সাউথের এই শিক্ষক।

সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সিজার। সেজন্য বাসার সামনে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও স্থাপন করেছিলেন তিনি। কিছু দিন আগে তার বাসায় একজন অপরিচিত ব্যক্তি এসে তার খোঁজ করেছিলেন বলে সিজারের পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে। এছাড়াও গত ৩১ অক্টোবর সিজার তার ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছিলেন, এক-দুইবছর ধরে তিনি বেনামি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে বিরক্তিকর বার্তা পেয়ে আসছেন।

খিলগাঁও থানার ওসি মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, এখনো তার অবস্থান সম্পর্কে আমরা খোঁজ পাইনি, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা তাকে উদ্ধারে সাধ্যমতো কাজ করছে।

সিজারের বাবা মোতাহের হোসেন জানান, সিজার আমার একমাত্র ছেলে। এখনো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ সিজারকে উদ্ধার করতে পারেনি। তারা নিজেরাও ধারণা করতে পারছেন না বিষয়টি কী হচ্ছে। তবে তারা তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছেন।

তবে আজ সিজারের দক্ষিণ বনশ্রীর বাসার নিচে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিজারের ছোট বোন তামান্না তাসমিন জানিয়েছেন, কোনো হুমকি ছিল না। আমরা খুব সাধারণ পরিবার।

গতকাল বুধবার সিজারের পরিবার থেকে জানানো হয়, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে মোবাশ্বের হাসান সিজারের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে তারা তার বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়েও খোঁজ নেন। কিন্তু কোথাও সিজারের সন্ধান না পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে খিলগাঁও থানায় গিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর বুধবার সকালে সিজারের বাবা র‌্যাব-৩-এর কার্যালয়ে গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জানান।

র‌্যাব-৩ পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো: এমরানুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, এখনো সিজারের খোঁজ পাওয়া যায়নি, আমরা আজও তার বাবাকে অফিসে ডেকেছিলাম, তার কাছে কোনো তথ্য উপাত্ত রয়েছে কি না।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে কী ভূমিকা নেয়া হয়েছে জানতে চাইলে র‌্যাব-৩ পরিচালক বলেন, ওই এলাকাগুলোতে র‌্যাব কাজ করছে, আমরা যেকোনো ‘ক্লু’ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই আমরা সিজারকে উদ্ধারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, এখন পর্যন্ত আমরা জানতে পেরেছি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) কাজ করতেন। আমরা বিভিন্ন প্রযুক্তির সহযোগিতার মাধ্যমে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করছি।

জানা গেছে, সিজার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। একসময় সাংবাদিকতাও করেছেন। পরে যুক্তরাজ্যে মাস্টার্স ও অস্ট্রেলিয়ায় পিএইচডি করেন। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামের প্রভাব কতটা ভূমিকা রাখছে, সেটি ছিল সিজারের পিএইচডি থিসিসের বিষয়বস্তু।
ইসলাম, রাজনীতি এবং উগ্রবাদ বিষয়ে সম্প্রতি তিনি দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও জার্নালে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর মাসে দিল্লিভিত্তিক একটি জার্নালে তার প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ লেখায় বিশ্বায়নের ছায়ায় বাংলাদেশের ভেতরে কীভাবে রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদী সহিংসতা ছড়াচ্ছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি।

 

সম্পাদকঃ আলমগীর মহিউদ্দিন,
প্রকাশক : শামসুল হুদা, এফসিএ
১ আর. কে মিশন রোড, (মানিক মিয়া ফাউন্ডেশন), ঢাকা-১২০৩।
ফোন: ৫৭১৬৫২৬১-৯

Copyright 2015. All rights reserved.